আবেগীয় স্বাস্থ্য

নারীদের বিষণ্ণতা

Written by Maya Expert Team

ঘটনা ১: শাম্মি ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল হিসেবে সবার পরিচিত। সবকিছুতেই তার পদার্পন,সেটা লেখাপড়া হোক বা খেলাধুলা। কিন্তু ক্লাস নাইনে উঠার পর থেকে হঠাৎ-ই যেন কি হলো আগের মত কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারছে না। নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে, নিজের মত করে থাকতেই ভালো লাগে। লেখাপড়ায় আর আগের মত ভালো ফলাফল করতে পারছে না।  পরিবারের লোকজনও বুঝতে পারছেনা কি হলো।

ঘটনা ২: লুবনার বাচ্চা হয়েছে কিছুদিন হলো।  স্বভাবতই এখন খুশি থাকার কথা। কিন্তু সবসময় কোনো এক অজানা কারণে মন খারাপ হয়ে থাকে। কোনো কিছুতেই আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। ক্রমাগত জীবনটা বিস্বাদ হয়ে যাচ্ছে, এমনকি নিজের বাচ্চা বা স্বামী কাউকেই সহ্য হচ্ছে না।

আমাদের দেশের সমাজ ব্যাবস্থা অনুযায়ী নারীদের সবক্ষেত্রে প্রাপ্ত সম্মান বা মর্যাদা দেয়া হয় না, উপরন্তু করা হয় হেয় প্ৰতিপন্ন। একটু যদি খেয়াল করে দেখি নারীর জীবনে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন আসে সেটা শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিকেই। এই যাত্রাপথে কেউ মানিয়ে নিতে পারে, কেউ পারে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে, পুরুষদের চাইতে নারীরা বেশি মানসিক অসুস্থতায় ভুগে। বিষন্নতা তেমনই একটি মানসিক অসুস্থতা।

 

দুই ধরণের বিষণ্ণতা নারীদের মধ্যে দেখা যায় যা খুবই কমন।  তা হলো –

১. প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম

২. পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন

প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম:

পিরিয়ড বা মাসিক পূর্ববর্তী এবং চলাকালীন সময়ে হরমোনাল পরিবর্তনের জন্য আবেগের পরিবর্তন হয় ।  এই সময় অনুভূতি গুলো বেশি মাত্রায় কাজ করে। যেমন- রাগ, জেদ, হতাশা, বিষণ্ণতা ইত্যাদি। দেখা যায় যেকোনো বিষয়েই আবেগগুলো অতি মাত্রায় কাজ করে। অনেকেই বুঝতে পারে না কি কারণে তার সাথে এমনটা হচ্ছে, দেখা যায় কোনো কারণ ছাড়াই মন খারাপ হচ্ছে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। অনেকে নিজের এই পরিবর্তনটা মেনে নিতে পারে না। এটা থেকেই বিষন্নতার সূত্রপাত এবং যখনি তা অবহেলিত হয়, এর তীব্রতাটা বাড়ে । টানা ২ বছর এই লক্ষণ গুলো থাকলে পরবর্তীতে ডিসঅর্ডারে রূপান্তরিত হয়।  

পোস্ট-পার্টাম ডিপ্রেশন:

সাধারণত নারীরা গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবপরবর্তী সময়ে বিষন্ন অনুভব করে। এই সময়ে একজন নারীর জীবনে বড় একটা পরিবর্তন হয়। বাচ্চাকে নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা, নিজের দিকে খেয়াল রাখার সময় না পাওয়া, পরিবারের সদস্যদের সহায়তা না পাওয়া ইত্যাদি কারণে হতে পারে। লক্ষনগুলো হলো- মেজাজ খিটখিটে থাকা, রাগ, ক্ষোভ, বিষন্নতা, ক্ষুধা কমে যাওয়া ইত্যাদি। এই বিষয়ে অনেকে জানে না বা বুঝতে পারে না, তাই এই দিকটা অবহেলিত রয়ে যায়। মায়েদের শারীরিক বিষয়ের সাথে সাথে মানসিক দিকটাও খেয়াল রাখতে হয়। বাচ্চার সুস্থ বিকাশের জন্য ও মায়ের মানসিক সুস্থতা দরকার।  

 

বিষণ্ণতা কমানোর জন্য যা করা যায়-

 

১. নিজেরে প্রতি খেয়াল রাখা। যেমন- পছন্দের কাজ করা,সেটা হতে পারে গান শুনা, মুভি দেখা ইত্যাদি।

২. বেশি মানসিক চাপ না নেয়া।

৩.  দূরে কোথাও থেকে ছুটি কাটিয়ে আসা। এতে ব্রেন রিলাক্স হবে।

৪. মাইন্ডফুলনেস এক্সারসাইজ করা।  এতেও ব্রেন রিলাক্স হয় এবং মনোযোগ বাড়ে।  

৫. কাছের কারো সাথে মনের অনুভূতিগুলো বলা,এতে কষ্টের মাত্রাটা কমে।  

৬. দুঃখ কমানোর জন্য কান্না করা খুবই উপকারী, বৈজ্ঞানিক ভাবে এটা প্রমাণিত।  

৭. জীবন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা রাখা।

নিজের মানসিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রেখে বিষণ্ণতা প্রতিরোধ করা যায় এবং এর ক্ষতিটা কমানোও যায়। এর জন্যে  আগে সচেতন হতে হবে।

ছবি সূত্র : প্রথম আলো, অনন্যা ম্যাগাজিন

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment