এন্ডোক্রিনোলজি ডায়াবেটিস টাইপ ২

টাইপ-২ ডায়াবেটিস কেন হয়

সাধারণত ইনসুলিন নামের এক ধরনের হরমোন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। পাকস্থলীর

পিছে অবস্থিত প্যানক্রিয়াস নামের একটি গ্রন্থি ইনসুলিন তৈরি করে। খাবার হজম হবার পর যখন

রক্তে প্রবেশ করে তখন ইনসুলিন রক্ত থেকে গ্লুকোজ আলাদা করে কোষে পৌঁছে দেয়। কোষে গিয়ে

গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয়। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিনের

অভাবে অথবা ত্রুটিপূর্ণ ইনসুলিনের কারনে গ্লুকোজ ভেঙে শক্তি উৎপন্ন করতে পারে না।

শরীর অপর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন করলে বা শরীরের কোষগুলো ঠিকমত ইনসুলিন গ্রহণ করতে না

পারলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হয়।

যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি আছে

ঠিক কি কারনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হয় তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও, কাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস

হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তা বলা যায়। আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিস হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে –

● যদি আপনার রক্ত সম্পর্কের কোন নিকট আত্মীয়র ডায়াবেটিস থাকে

● আপনি যদি দক্ষিণ এশিয়ান, আফ্রিকান-ক্যারিবিয়ান বা মধ্য প্রাচ্যের বংশোদ্ভূত হন

● আপনার ওজন যদি স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়

● আপনার বয়স যদি ৪০ এর বেশি হয়

জীনগত কারনে

আপনার কাছের আত্মীয় যেমন আপনার বাবা-মা, ভাইবোন কারো টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকলে আপনারো

এতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি ।

জাতিগত কারনে

দক্ষিণ এশিয়ান, আফ্রিকান-ক্যারিবিয়ান বা মধ্য প্রাচ্যের বংশোদ্ভূত মানুষদের টাইপ-২

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়াও এইসব অঞ্চলের মানুষ ডায়াবেটিস

সংক্রান্ত জটিলতা যেমন হৃদরোগে তুলনামূলকভাবে কম বয়সে আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে থাকে।

যুক্তরাজ্যের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ৬ গুন

এবং আফ্রিকা ও আফ্রিকান-ক্যারিবিয়ান বংশোদ্ভূতদের ক্ষেত্রে এটি ৩ গুন বেশি।

ওজন বেড়ে যাওয়ার কারনে

আপনার ওজন যদি স্বাভাবিকের থেকে বেশি হয়, তাহলে আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার

সম্ভাবনা বেশি। অন্যান্য জায়গার তুলনায় পেটের চারপাশে জমা হওয়া মেদের (অ্যাক্টিভ ফ্যাট)

কারনে আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। কারন অ্যাক্টিভ ফ্যাট এমন কিছু কেমিক্যাল নিঃসরণ করে

যেগুলো হৃদযন্ত্র এবং বিপাকতন্ত্রের কাজকে ব্যাহত করে। এর ফলে আপনার হৃদরোগ, স্ট্রোক ও

কয়েক রকম ক্যান্সার সহ নানারকম জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনুমান করার সহজ উপায় হল আপনার কোমরের পরিধি পরিমাপ করা। নারীদের

কোমর ৩১.৫ ইঞ্চি (৮০ সে.মি) বা এর বেশি হলে তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি অনেক বেড়ে

যায়। এশিয়ান পুরুষদের ক্ষেত্রে ৩৫ইঞ্চি (৯০ সে.মি) বা এর বেশি হলে এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রে

৩৭ ইঞ্চি (৯৪ সে.মি) বা এর বেশি হলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আপনি যদি নিয়মিত ব্যায়াম

করেন এবং আপনার শরীরের ওজনের ৫% পর্যন্ত কমিয়ে ফেলতে পারেন তবে আপনার ডায়াবেটিস

হবার ঝুঁকি ৫০% এর বেশি কমে যায়।

বয়সের কারনে

বয়সের সাথে সাথে আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। এর কারন বয়স বাড়ার সাথে সাথে সাধারণত

আপনার ওজনও বেড়ে যায় এবং শারীরিক কাজকর্মও কমে যায়। ২৫ বছরের পর থেকেই এশিয়ান

বংশোদ্ভূতদের (ককেশিয়ানদের জন্য ৪০ বছর) ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। যদিও আজকাল ৭

বছরের শিশুদেরও টাইপ-২ ডায়াবেটিসএ আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে।

অন্যান্য কারনে

আপনার যদি ইমপেয়ারড ফ্যাস্টিং গ্লাইকেমিয়া (IFG) বা ইমপেয়ারড গ্লুকোজ টলারেন্স (IGT)

থাকে তাহলে আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কারন এই জটিলতাগুলো প্রি

ডায়াবেটিস নামে পরিচিত; এর মানে হল এগুলোতে আক্রান্ত হলে আপনার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা

স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকবে তবে ডায়াবেটিস হবার মত নয়। চিকিৎসা না করালে IFG ও IGT

থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হতে পারে।

যেসব নারী গর্ভকালীন সময় গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তারা পরবর্তীতে ডায়াবেটিসে

আক্রান্ত হবার ঝুঁকিতে থাকেন।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment