এন্ডোক্রিনোলজি ডায়াবেটিস টাইপ ২

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ

টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো তেমন অস্বাভাবিক না হওয়ায়, অনেকে না জেনেই

অনেকদিন ধরে এ রোগে ভোগেন। ডায়াবেটিসের কোন লক্ষণ দেখলে দেরি না করে আপনার ডাক্তারের

সাথে যোগাযোগ করুন । যত দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে পারবেন তত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে পারবেন;

এতে পরবর্তীতে অনান্য জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ডায়াবেটিসের প্রধান লক্ষণগুলো হল,

● ঘন ঘন পিপাসা লাগা

● অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া, বিশেষ করে রাতের বেলা

● দুর্বল লাগা

● ওজন কমে যাওয়া এবং মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া

অন্যান্য কিছু লক্ষণ হল;

● যোনি বা লিঙ্গের আশেপাশে চুলকানি হওয়া

● প্রস্রাবে অতিরিক্ত গ্লুকোজের কারনে আপনার বারবার ছত্রাকজনিত সংক্রমন হতে পারে

● চোখের লেন্স পানিশুন্য হয়ে যাবার কারনে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া

● কাটা-ছেড়া শুকাতে বেশি সময় লাগা

অন্যান্য এসব লক্ষণ সবার নাও হতে পারে এবং হলেও খুব একটা সমস্যা হয় না।

হাইপারগ্লাইসেমিয়ার (রক্তে গ্লুকোজ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়া) লক্ষণ

শরীর অপর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন করলে বা শরীরের কোষগুলো ঠিকমত ইনসুলিন গ্রহণ করতে না

পারলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস হয়। রক্তে যখন ইনসুলিন এর পরিমান একেবারে কমে যায় বা শুন্য হয়ে

যায়, তখন রক্তে গ্লুকোজ অতিমাত্রায় বেড়ে যায়, ইনুসুলিনের অভাবে রক্ত থেকে কোষে কোন

গ্লুকোজ ঢুকতে পারে না, ফলে কোষে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন হয় না, এই অবস্থাকে

হাইপারগ্লাইসেমিয়া বলে। হাইপারগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণগুলো ডায়বেটিসের মত হলেও এগুলো হঠাৎ

করে এবং মারাত্মক ভাবে দেখা দিতে পারে। হাইপারগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণসমূহ;

● প্রচণ্ড পিপাসা লাগা

● মুখ শুকিয়ে যাওয়া

● দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাওয়া

● ঘুম ঘুম ভাব

● ঘনঘন প্রস্রাব চাপা

অনেক কারনেই হাইপারগ্লাইসেমিয়া হতে পারে, যেমন;

● অতিরিক্ত খাওয়ার জন্য

● শরীর খারাপ থাকলে

● পর্যাপ্ত ইনসুলিন না নিলে

নিয়ন্ত্রন না করলে হাইপারগ্লাইসেমিয়া থেকে ডায়াবেটিক কেটোঅ্যাসিডোসিস হতে পারে যার কারনে

জ্ঞান হারানো থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে ডায়াবেটিক কেটোঅ্যাসিডোসিস খুবই

বিরল একটি জটিলতা। ডায়াবেটিক কেটোঅ্যাসিডোসিস হলে আপনার শরীর গ্লুকোজের বদলে ফ্যাট

ভেঙে শক্তি উৎপাদন করা শুরু করে; এর ফলে আপনার রক্তে অতিরিক্ত অ্যাসিড জমা হতে থাকে।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment