গেঁটে বাত

লক্ষণ

গেঁটে বাতের প্রধানতম লক্ষণ হলো আক্রান্ত জোড়ায় ব্যথা হওয়া এবং জোড়াটি আড়ষ্ট হয়ে পরা ।

যার ফলে ঐ জোড়ায় নাড়াচাড়ায় সমস্যা হয় এবং ঐ জোড়ার যা যা কাজ তার কিছু কিছু করা

কঠিন হয়ে পড়ে।

কারো কারো ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে ব্যথা ছাড়া অন্য কোন লক্ষণ নাও থাকতে পারে। প্রায়ই দেখা যায়

একটি/দুইটি জোড়ায় ব্যথা হচ্ছে, পরবর্তীতে হয়ত অন্য জোড়ায় ব্যথা হচ্ছে। এই সমস্থ লক্ষণ খুব

ধীরে ধীরেও বাড়তে পারে।

আরো যে সব লক্ষণ দেখা দিতে পারে বা ডাক্তারের পরীক্ষায় ধরা পরতে পারে

● জোড়ায় চাপ দিলে ব্যথা

● কিছুক্ষন নাড়াচাড়া না করলে ব্যথা বেড়ে যাওয়া

● জোড়া খানিকটা বড় হয়ে যাওয়া

● নড়াচড়ার সময় জোড়ার ভিতরে একধরনের কচকচে কর্কশ শব্দ অনুভূত হওয়া

● জোড়ার নড়াচড়ার সীমা কমে যাওয়া

● সংলগ্ন মাংসপেশী ক্ষয় ও দুর্বল হয়ে যাওয়া

সাধারনত যে জোড়াগুলো গেঁটে বাতে আক্রান্ত হয় সেগুলো হলো হাটু, ঊরুসন্ধি (hip joint),

মেরুদন্ডের কশেরুকার (spine) জোড়া, হাতের আঙ্গুলের ছোট ছোট জোড়া এবং পায়ের বুড়ো

আঙ্গুলের গোড়া।

হাটুতে গেঁটে বাতের লক্ষণ

সাধারনত দুই হাটুই একসাথে বা পর্যায়ক্রমে গেঁটে বাতে আক্রান্ত হয়। শুধু যে কোন এক হাঁটুতে হতে

পারে, যদি ঐ হাঁটুতে আঘাতজনিত বা অন্য কোন সমস্যা হয়ে থাকে।

হাঁটু গেঁটে বাতে আক্রান্ত হলে হাঁটার সময় ব্যথা হয়, বিশেষকরে সিঁড়ি বেয়ে বা ঢাল বেয়ে উপরের দিকে

উঠার সময় ব্যথা তীব্র আকার ধারন করে। কখনো কখনো গেঁটে বাতে আক্রান্ত হাঁটু শরীরের ভর

নিতে পারে না এবং দাঁড়ানো অবস্থায় শরীরের ভারে পা বাঁকা হয়ে যায়। নড়াচড়ার সময় হাঁটুর

জোড়ার ভিতরে একধরনের কচকচে কর্কশ শব্দ অনুভূত হয়।

ঊরুসন্ধিতে (hip joint) গেঁটে বাতের লক্ষণ

ঊরুসন্ধি গেঁটে বাতে আক্রান্ত হলে, ঊরুসন্ধির অর্থাৎ কোমরের নড়াচড়ায় সমস্যা হয়। কোমর ভাজ

করে জুতা বা মোজা পরতে কষ্ট হয়, গাড়ীতে উঠতে বা নামতে ঊরুসন্ধিতে ব্যথা হয়।

ঊরুসন্ধিতে গেঁটে বাত হলে, উরু এবং তলপেটের সংযোগস্থলের ভাজে এবং নিতম্বের বাইরের দিকে

ব্যথা হয়, কোমর নাড়াচাড়ার সময় যা তীব্র আকার ধারন করে। কখনো কখনো এমনো হয়, সমস্যা

ঊরুসন্ধিতে কিন্তু ব্যথা অনুভূত হয় হাঁটুতে। স্নায়ুতন্ত্রের ভুল বার্তা প্রেরনের জন্য এমনটা হতে

পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হাঁটার সময় সবচেয়ে বেশি ব্যথা হয়, তবে বিশ্রামে থাকা অবস্থায়ও ব্যথা হতে

পারে। যদি রাতে বিশ্রামরত অবস্থায়ও তীব্র ব্যথা হয়, তবে ডাক্তার আপনাকে ঊরুসন্ধি

প্রতিস্থাপন (hip joint replacement) এর জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে পারেন।

মেরুদন্ডের কশেরুকার (spine) জোড়ায় গেঁটে বাতের লক্ষণ

মেরুদন্ডের যে অংশের কশেরুকা গুলোকে বেশি নড়াচড়া করতে হয় সেগুলোতে যেমন, ঘাড় এবং কোমরের

কশেরুকার জোড়ায় গেঁটে বাত হয়ে থাকে। মাথা যেহেতু ঘাড়ের কশেরুকার মাধ্যমেই নড়াচড়া করে, তাই

ঘাড়ের কশেরুকায় গেঁটে বাত হলে মাথা ডানে-বায়ে ঘোরাতে সমস্যা হয়। ঘাড় এবং মাথা দীর্ঘক্ষণ

একই অবস্থানে রাখলে বা বেখাপ্পা অবস্থানে থাকলে ব্যথা শুরু হয়। ঘাড়ের ব্যথার সাথে অনেকসময়

সংলগ্ন মাংসপেশীর সংকোচনের কারনে পেশীতে টান পরে ফলে কাঁধে এবং হাতেও ব্যথা অনুভূত হতে

পারে।

কোমরের কাছে কশেরুকা যদি আক্রান্ত হয়, তবে কোমর ভাজ করে সামনের দিকে ঝুঁকতে এবং ভারী

কিছু তুলতে কোমরে ব্যথা হয়। সামনের দিকে ঝুকার পর বা ব্যায়ামের পর কোমর আড়ষ্ট হয়ে পরে,

নড়াচড়ায় সমস্যা হয়। এই ব্যথা অনেক সময় নিতম্বে এবং পায়ের দিকে ছড়িয়ে পরতে পারে।

হাতের জোড়ায় গেঁটে বাতের লক্ষণ

হাতের তিন ধরনের হাড়ের জোড়ায় গেঁটে বাত বেশি হয়। এই জোড়াগুলো হলো – বুড়ো আঙ্গুলের গোড়া,

বাকি চার আঙ্গুলের ডগার নিচের জোড়া এবং মধ্যের জোড়া।

গেঁটে বাতে আক্রান্ত হাতের আঙ্গুলগুলোর জোড়ায় ব্যথা হতে পারে, ফুলে যেতে পারে, গিঁট উচু হয়ে

যেতে পারে এবং আড়ষ্ট হয়ে পড়তে পারে। তবে সময়ের সাথে সাথে আঙ্গুলের ব্যথা কমে যাবে এবং

একসময় চলে যাবে কিন্তু গিঁটের ফোলা ও উঁচু হয়ে যাওয়াটা থেকে যাবে।

আক্রান্ত আঙ্গুলের জোড়ায় যে কোন একদিকে আঙ্গুল বেঁকে যেতে পারে, জোড়ার পৃষ্ঠদেশে তরল

ভর্তি ফোসকা (cyst) তৈরি হতে পারে।

কখনো কখনো বুড়ো আঙ্গুলের গোড়া যেখানে কবজির সাথে মিশেছে সেখানে উঁচু হয়ে যেতে পারে। এর

কারনে ব্যথা হতে পারে এবং হাতের বিভিন্ন কাজ যেমন, লেখা, বোতলের মুখ খোলা, চাবি ঘোরানো

ইত্যাদিতে সমস্যা হতে পারে।

0 comments

Leave a Reply