পুরুষের স্বাস্থ্য

গাইনেকোমেশিয়া

গাইনেকোমেশিয়া (যেটিকে কখনো কখনো “পুরুষদের স্তন”- ও বলা হয়) হয় ছেলেদের বুক বৃদ্ধি পেয়ে স্বাভাবিকের চাইতে বড় হয়ে গেলে। এটি টিনেজ ছেলে এবং বয়স্ক পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

গাইনেকোমেশিয়ার লক্ষণগুলো কী?
এটি হলে ছেলেদের স্তনবৃন্তের চারপাশে কিছু বাড়তি টিস্যু জমে যাওয়া থেকে বেশ লক্ষণীয় রকমের স্তন দেখা দেয়ার মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটি একটি বুকেও হতে পারে আবার দুই বুকেই দেখা দিতে পারে। কখনো বুকের টিস্যু ব্যাথা করতে পারে বা সংবেদনশীল (tender) হয়ে পড়তে পারে, তবে এমনটি সবসময় হয় না।

গাইনেকোমেশিয়া কেন হয়?
কয়েকটি কারণে গাইনাকোমাস্টিয়া হতে পারে।

১) হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে
টেসটোস্টেরন এবং এস্ট্রোজেন হরমোনের মধ্যেকার ভারসাম্য নষ্ট হলে গাইনাকোমাস্টিয়া হতে পারে। এস্ট্রোজেনের কারনে স্তনের টিস্যু বৃদ্ধি পায়। সব পুরুষের দেহেই কিছু এস্ট্রোজেন তৈরি হয়, তবে এদের দেহে টেসটোস্টেরন অনেক বেশি পরিমাণে তৈরি হওয়ার কারনে এস্ট্রোজেন স্তনের টিস্যু তৈরি করতে পারে না।

পুরুষদের দেহে হরমোনের ভারসাম্য পরিবর্তিত হলে তাদের দেহে স্তন তৈরি হতে পারে। তবে এই ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণ জানা যায় না। স্তনের টিস্যু দেহে জমে যাওয়া বাড়তি চর্বির কারনে হয় না, তাই ওজন কমানো বা বেশি বেশি ব্যায়াম করার ফলে কোন উপকার পাওয়া যায় না।

2) নবজাতক ছেলে
মায়ের শরীর থেকে প্ল্যাসেন্টার মাধ্যমে নবজাতক ছেলের দেহে এস্ট্রোজেন চলে যাওয়ার কারণে নবজাতকের গাইনেকোমেশিয়া হতে পারে। এটি সাময়িক এবং জন্মের কয়েক সপ্তাহ পর এটি ভাল হয়ে যায়।

3) বয়ঃসন্ধি বা পিউবার্টি
বয়ঃসন্ধি বা পিউবার্টির সময় ছেলেদের হরমোনের মাত্রার ভারসাম্য নষ্ট হয়। টেসটোস্টেরন মাত্রা কমে গেলে, এস্ট্রোজেনের প্রভাবে স্তনের টিস্যু তৈরি হতে পারে। অনেক টিনেজ ছেলেদের কিছুটা স্তন বৃদ্ধি ঘটে। ছেলেদের বয়স বাড়লে যখন তাদের হরমোনের ভারসাম্য স্থিতিশীল হয় এই গাইনেকোমেশিয়া চলে যায়।

4) বয়স বেশি হলে (Older age)
পুরুষদের বয়স বৃদ্ধি পেলে তাদের দেহে টেসটোস্টেরন তৈরি হওয়া কমে যায়। এছাড়াও বয়স্ক মানুষদের শরীরে বেশি চর্বি জমে, যার কারনে বেশি এস্ট্রোজেন তৈরি হয়। হরমোনের এই পরিবর্তনের কারনে বাড়তি স্তনের টিস্যু তৈরি হয়।

5) অন্যান্য কারণ
কিছু বিরল ক্ষেত্রে, নিম্নোক্ত কারনে গাইনেকোমেশিয়া হতে পারেঃ

  • আলসারের ঔষধ (anti-ulcer drugs) এবং হার্টের অসুখের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় (heart disease)
  • গাঁজা বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েডের (anabolic steroids) মত অবৈধ ড্রাগের কারনে
  • অতিরিক্ত মদ্যপানের (alcohol) কারনে
  • লিভার কিংবা কিডনি ফেইলরের মত স্বাস্থ্য সমস্যার কারনে
  • ক্লিনফেল্টার’স সিনড্রোম (Klinefelter’s syndrome) নামক একটি বিরল জেনেটিক সমস্যার কারনে
  • অণ্ডকোষে গোটা ওঠা বা সংক্রমণ হওয়ার কারনে।


গাইনেকোমেশিয়া চিকিৎসা
গাইনেকোমেশিয়া দুই ধরনের চিকিৎসা রয়েছেঃ

  • সার্জারি করে বাড়তি স্তন-টিস্যু সরিয়ে ফেলা
  • ঔষধের মাধ্যমে হরমোনের নষ্ট ভারসাম্য ঠিক করা।

ওই জায়গাটি ব্যাথা করলে বা দৃশ্যমান হয়ে ফুলে থাকলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান। কোনো কোনো সময় ফোলা জায়গাটি কেটে সরিয়ে ফেলতে হতে পারে। গাইনেকোমেশিয়া সাথে স্তন ক্যানসারের কোন সম্পর্ক নেই, তবে বুক ফুলে যাওয়ায় আপনি চিন্তিত হলে, যত দ্রুত সম্ভব একজন ডাক্তার দেখান।

About the author

Maya Expert Team