দাঁতের যত্নবিধি সাধারন স্বাস্থ্য

গর্ভকালীন মুখ ও দাঁতের পরিচর্যা

Written by Maya Expert Team

গর্ভকালীন সময়ে দাঁত মুখের চিকিৎসা এবং পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটা সম্পূর্ণ নিরাপদ যা মা শিশুকে গর্ভকালীন ডেন্টাল বিষয়ক বিভিন্ন রোগ ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখবে আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, “গর্ভকালীন সময় একজন নারীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় এবং এই সময়ে মুখ ও মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য সমগ্র শরীরের স্বাস্থের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।”

 

  •  আপনার গর্ভকালীন সময় সম্পর্কে আপনার দন্ত চিকিৎসকে কখন অবহিত করবেন?

আপনি যদি মনেও করেন আপনি গর্ভবতী, তখনই আপনি আপনার চিকিৎসকে জানান গর্ভকালীন পিরিয়ড/সময় জানা আপনার চিকিৎসকের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ, আপনি এও জানাবেন আপনি অন্য কোন চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসারত আছেন কিনা এবং আপনি অন্য কোন ওষুধ নিচ্ছেন কিনা সেক্ষেত্রে যদি আপনি গর্ভকালীন হাইরিস্ক কোন কন্ডিশনেও থাকেন, তবুও আপনার জেনারেল চিকিৎসক দন্ত চিকিৎসক উভয়ের যৌথ পরামর্শ নিয়ে আপনি আপনার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন অথবা প্রয়োজনে কোন চিকিৎসা সাময়িক স্থগিত করাও যেতে পারে

 

  • গর্ভকালীন সময়ে আপনার মুখে কি রকম সমস্যা হতে পারে?

সাধারণত নারীরা এই সময়ে মুখের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতে পারে যা নিয়মিত একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ পরিচর্যার মাধ্যমে নিজেকে শিশুকে সে সকল জটিলতা থেকে সহজেই দূরে রাখতে পারবে

প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিস/গর্ভকালীন মাড়ি প্রদাহঃ

গর্ভকালীন সময়ে হরমোনাল পরিবর্তনের কারনে মুখের বিভিন্ন সংক্রামনে অনেকেই ভুগে থাকেন, এর মধ্যে অন্যতম হলপ্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিস/গর্ভকালীন মাড়ি প্রদাহ, যে রোগে আপনার মাড়িতে সংক্রামণ হয়ে ফুলে উঠে, ব্যথা হয় এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, অবস্থায় যদি আপনি চিকিৎসা না নেন তবে এটা অত্যন্ত ভয়ানক মাড়ির রোগের রূপ নিতে পারে। এই সমস্যা একজন ডেন্টাল সার্জনের (BDS) পরামর্শ নিয়ে সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন

দাঁতের ক্ষয় বেড়ে যাওয়াঃ

-অন্যান্য সময়ের থেকে নারীরা গর্ভকালীন সময়ে বেশী দন্ত ক্ষয় রোগে ভুগে থাকেন, দূর্বলতা, মুখে অতি মাত্রায় এসিডের উপস্থিতি, মুখের যত্নে অনীহা, ঢেকুরের পরিমান বেড়ে যাওয়া, মাড়ি ফোলা ইত্যাদি কারনে দন্ত ক্ষয়ের পরিমান বেড়ে যায় যা সহজেই আপনার দাঁতে জীবাণুর সংক্রমণ বাড়িয়ে তোলে, যা সমগ্র শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে

প্রেগন্যান্সি টিউমারঃ

– গর্ভকালীন সময়ে মাড়ি কোষের অতি বৃদ্ধির ফলে মাড়ির কোন স্থানে ফুলে উঠতে পারে যাকে প্রেগন্যান্সি টিউমমার বলে, এটা সাধারনত গর্ভকালীন চতুর্থ মাস থেকে দেখা যায়। এটা কোন ক্যান্সার নয়, শুধুমাত্র ফুলে যাওয়া রোগ বিশেষ কিন্তু এই সকল ক্ষেত্রে প্লাক ও ময়লার পরিমান বেড়ে যায়। রক্তপড়া সহ মাড়ি ফুলে উঠে, মাড়ি লাল হয়ে যায়।

গর্ভকালীন সময়ে ওষুধ নির্বাচনঃ

– গর্ভকালীন সময়ে আপনি কি ওষুধ নিচ্ছেন, কোন ব্যবস্থাপত্র / প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আপনার কোন চিকিৎসা চলছে কিনা তা অবশ্যই আপনার ডেন্টাল সার্জন কে অবহিত করুন। এটা আপনার সঠিক চিকিৎসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এমনকি এন্টিবায়োটিক এবং ব্যথা নাশক ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও। মা ও শিশুকে নিরাপদে রাখতে প্রয়োজনে আপনার জেনারেল চিকিৎসক এবং ডেন্টিস্ট এর সাথে পরামর্শ করে আপনার চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেন।

গর্ভকালীন সময়ে লোকাল এনেস্থিসিয়া / চেতনা নাশকঃ

আপনার গর্ভকালীন সময়ে মুখের কোন কাজের জন্য আপনার ডেন্টাল সার্জন যে চেতনা নাশক ওষুধ ব্যবহার করে তা অত্যন্ত নিরাপদ যা আপনার এবং আপনার শিশুর কোন ক্ষতি করবে না রেজিস্টারড ডেন্টাল সার্জন (BDS) এর অধীনে তার সুপারিশকৃত এনেস্থিসিয়া ব্যবহার করে আপনি নিরাপদে দাঁতের ক্ষত নিবারণ, রুট ক্যানেল এমনকি দাঁত তোলার মত কাজ অতি সহজেই নিরাপদে নিশ্চিন্তে করিয়ে নিতে পারেন

গর্ভকালীন ডেন্টাল এক্সরেঃ

গর্ভকালীন সময়েও আপনি নিরাপদেই ডেন্টাল এক্সরে নিতে পারবেন, আপনার ডেন্টিস্ট / রেডিওলজিষ্ট অবশ্যই সচেতন থাকবে আপনার ব্যাপারে, এই ক্ষেত্রে তারা আপনাকে লেড এপ্রণ দিয়ে আবৃত করে নিবে আপনার গলা অবধি যাতে কোন প্রকার রেডিয়েশন আপনার আপনার শিশুর ক্ষতি করতে না পারে এই ব্যাপারে আপনিও সচেতন থাকবেন।  

ছবি সূত্র : now.tufts.com

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment