কোন পদ্ধতিটি আমার জন্য উপযুক্ত?

কোন পদ্ধতিটি আমার জন্য উপযুক্ত?
জন্মবিরতির ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। কোন পদ্ধতিটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হবে তা নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অবস্থার উপর।

পুরুষের শুক্রাণু নারীর ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হলে গর্ভাবস্থার সৃষ্টি হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহ ডিম্বাণু ও শুক্রাণুকে আলাদা করে রেখে অথবা ডিম্বাণু উৎপাদন বন্ধ করে রেখে গর্ভাবস্থা রোধের চেষ্টা করে।

কোনো ব্যক্তির জন্য কোন পদ্ধতিটি সর্বাপেক্ষা উত্তম তা নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

এই তথ্যগুলো পড়ার পর, আপনার পছন্দের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করতে ডাক্তার অথবা স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকে যোগাযোগ করুন।

মনে রাখবেন যে, নিজেকে যৌনবাহিত রোগগুলো থেকে নিরাপদ রাখার একমাত্র পন্থা হচ্ছে শারীরিক মিলনের সময় সর্বদা কনডম ব্যবহার করা। জন্মবিরতির অন্যান্য পদ্ধতি গর্ভাবস্থা রোধ করে, কিন্তু যৌনবাহিত রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে না।

আমার জন্মবিরতি পদ্ধতি

বিভিন্ন পদ্ধতিসমূহ কতটুকু কার্যকর

১৫টি ভিন্ন ভিন্ন প্রত্যেকে কতটুকু ফলপ্রসূ তা নিম্নে উল্লেখিত তালিকায় বর্ণনা করা হয়েছে, সেই সাথে এসব পদ্ধতি কখন কীভাবে ব্যবহারের প্রয়োজন তাও এখানে বলা হয়েছে। উক্ত পদ্ধতিসমূহ ব্যবহারকারী ১০০ জন নারীর মধ্যে ১ বৎসর সময়কালে, কতজন গর্ভবতী হোন, এ গণনার মাধ্যমে প্রত্যেক পদ্ধতির কার্যকারিতা বের করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি বলা হয় একটি নির্দিষ্ট জন্মবিরতি পদ্ধতি ৯৯% কার্যকর, তাহলে তার অর্থ দাঁড়ায় যে, ১ বৎসর সময়কালে, ব্যবহারকারী প্রত্যেক ১০০জন নারীর মধ্যে ১ জন গর্ভবতী হবেন।

বড়িসহ বিভিন্ন পদ্ধতির বর্ণনা দিতে গিয়ে এখানে “যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় ” কথাটি বলা হয়েছে। কেননা উক্ত পদ্ধতিসমূহ ব্যবহারকারীদেরকে প্রত্যেক বার যৌন মিলনের সময় এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে অথবা প্রত্যহ দিন, মাস অথবা সপ্তাহে তা গ্রহণ বা প্রয়োগের কথা মনে রাখতে হবে। যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা না হয়, তবে এটি আশানুরূপ কার্যকর হবে না।

৯৯% এরও অধিক ফলপ্রসূ জন্মবিরতি পদ্ধতিসমূহ

  • জন্মনিরোধক ইনজেকশন- (ধরণের উপর ভিত্তি করে প্রত্যেক ৮ বা ১২ সপ্তাহে নতুন করে গ্রহণ করতে হয়)
  • জন্মনিরোধক ইমপ্লেন্ট (৩ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়)
  • ইন্ট্রাউটেরিন সিস্টেম বা আইইউএস (৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়)
  • ইন্ট্রাউটেরিন ডিভাইস বা আইইউডি, কয়েল নামেও পরিচিত (৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়)
  • নারীদের স্টেরিলাইজেশন বা টিউবেকটমি (স্থায়ী)
  • পুরুষদের স্টেরিলাইজেশন বা ভ্যাসেকটমি (স্থায়ী)

সঠিক ব্যবহারে ৯৯% এরও অধিক কার্যকর পদ্ধতিসমূহ

  • জন্মনিরোধক প্যাচ (মাসে প্রতি সপ্তাহে নতুন ১টি করে মোট ৩ সপ্তাহ  ব্যবহার করতে হয়)
  • যোনির রিং (মাসে একবার পরিবর্তন করতে হয়)
  • মিশ্র পিল (মাসের ৩টি সপ্তাহে প্রত্যহ গ্রহণ করতে হয়)
  • প্রোজেস্টেরণ সমৃদ্ধ পিল (প্রতিদিন গ্রহণ করতে হয়)

শেখা পদ্ধতি অনুসারে ৯৯% কার্যকর পদ্ধতিসমূহ

  • প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা (মাসিক ভিত্তিতে করা হয়)

সঠিক ব্যবহারে ৯৮% কার্যকর পদ্ধতি

  • পুরুষদের কনডম (প্রত্যেক বার যৌন মিলনের সময় ব্যবহার করতে হয়)

সঠিক ব্যবহারে ৯৫% কার্যকর পদ্ধতি

  • নারীদের কনডম (প্রত্যেক বার যৌন মিলনের সময় ব্যবহার করতে হয়)

সঠিক ব্যবহারে ৯৫-৯৬% ফলপ্রসূ পদ্ধতিসমূহ

  • স্পার্মিসিড যুক্ত ডায়াফ্রাম (প্রত্যেক বার যৌন মিলনের সময় ব্যবহার করতে হয়)
  • স্পার্মিসিড যুক্ত ক্যাপ (প্রত্যেক বার যৌন মিলনের সময় ব্যবহার করতে হয়)

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহকে কি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে তৈরি  করা যাবে?

যদি আপনি নিয়মিত রুটিনমাফিক জীবন পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে একজন গোছানো ব্যক্তি হোন, তাহলে আপনার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের অনেক সুযোগ রয়েছে। কেননা জন্মবিরতি পদ্ধতি সম্পর্কে ভুলে যাওয়া, যেমন পিল খেতে বা প্যাচ লাগানোর কথা ভুলে যাওয়া প্রভৃতি ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আপনার মধ্যে কম থাকবে। শুধুমাত্র শারীরিক মিলনের সময় ব্যবহার করতে হয়, যেমন পুরুষ বা নারীর কনডম ইত্যাদি পদ্ধতি আপনি পছন্দ করতে পারেন। অথবা প্রত্যহ গ্রহণ করতে হয়, যেমন পিল আপনি গ্রহণ করতে পারেন। কিংবা প্রত্যহ বা প্রত্যেক বার যৌন মিলনের সময় ব্যবহার করতে হয় না এমন পদ্ধতি, যেমন প্যাচ, ইঞ্জেকশন অথবা ইমপ্লান্ট ব্যবহারে আপনার আগ্রহ থাকতে পারে।

প্রত্যেক জন্মবিরতি পদ্ধতি কিভাবে ও কখন ব্যবহার বা গ্রহণ ও প্রতিস্থাপন করতে হয় তা নিম্নের তালিকায় উল্লেখ করা হলো। তালিকাটি পড়ার পর বিস্তারিত জানার জন্য আপনার ডাক্তার অথবা স্থানীয় পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকের সাথে কথা বলুন।

প্রতিবার শারীরিক মিলনের সময় ব্যবহৃত পদ্ধতি

    • পুরুষ ও নারীর কনডম
    • ডায়াফ্রাম ও ক্যাপ

প্রতিদিন নিতে হয় এমন পদ্ধতি

    • পিল (মিশ্র অথবা শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরণ সমৃদ্ধ পিল)

প্রতি সপ্তাহে বদলাতে হয় এমন পদ্ধতি

    • জন্মনিরোধক প্যাচ

প্রতি মাসে বদলাতে হয় এমন পদ্ধতি

    • যোনির রিং

প্রতি ৩ মাসে নতুন করে গ্রহণ করতে হয় এমন পদ্ধতি

    • জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন

প্রতি ৩ বছরে নতুন করে গ্রহণ করতে হয় এমন পদ্ধতি

    • কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিরোধক ইমপ্লান্ট

প্রতি ৫ বছরে নতুন করে গ্রহণ করতে হয় এমন পদ্ধতি

    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি)
    • ইনট্রাউটেরিন সিস্টেম (আইইউএস)

প্রতিদিন গ্রহণ করার কথা মনে করতে হয় না এমন জন্মবিরতি পদ্ধতি কি আপনি পছন্দ করবেন?

সব ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রতিদিন অথবা প্রত্যেকবার যৌন মিলনের সময় ব্যবহার করতে হয় না।

কয়েকটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি রয়েছে যা গ্রহণ করলে আপনাকে অনেক মাস বা বছর চিন্তা করতে হবে না। এসব পদ্ধতি জরায়ুতে (আইইউডি বা আইইউএস) অথবা হাতে (ইমপ্লান্ট) বিশেষজ্ঞের দ্বারা প্রয়োগ করতে হয় ।

    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি) –  ৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী
    • ইনট্রাউটেরিন সিস্টেম (আইইউএস) – ৫ বছর পর্যন্ত স্থায়ী
    • কন্ট্রাসেপটিভ ইমপ্লান্ট – প্রত্যেক ৩ বছর
    • কন্ট্রাসেপটিভ ইনজেকশন – প্রত্যেক ৩ মাস

প্রতি মাস বা সপ্তাহে পরিবর্তিত বা প্রতিস্থাপিত অন্যান্য পদ্ধতি

    • যোনির রিংঃ ৪ সপ্তাহের মধ্যে ৩ সপ্তাহ পরিধান করতে হয়
    • জন্মনিরোধক প্যাচঃ ৪ সপ্তাহের মধ্যে ৩ সপ্তাহের প্রতি সপ্তাহে নতুন প্যাচ লাগাতে হয়।

যৌন মিলনের পূর্বেই ব্যবহৃত অথবা প্রয়োগকৃত অন্যান্য পদ্ধতি

    • ডায়াফ্রাম অথবা ক্যাপ
    • পুরুষ অথবা নারীর কনডম

আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য ডাক্তার অথবা নিকটস্থ পরিবার পরিকল্পনার নার্সের সাথে কথা বলুন।

যোনিতে জন্মনিরোধক পদ্ধতি প্রয়োগে আপনি কি স্বস্তিবোধ করবেন?

যদি আপনি নারী হোন, তাহলে আপনি যোনিতে জন্মনিরোধক ব্যবহার করতে স্বস্তিবোধ করবেন? যদি করেন, তাহলে নিম্নোক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেনঃ

    • নারীর কনডম
    • ডায়াফ্রাম অথবা ক্যাপ
    • যোনির রিং

যদি আপনি দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি পছন্দ করেন এবং একজন বিশেষজ্ঞ আপনার জরায়ু এবং যোনিতে জন্মনিরোধক প্রবেশ করালে যদি আপনি অস্বস্তিবোধ না করেন, তাহলে নিম্নোক্ত পদ্ধতি গ্রহণের চিন্তা করতে পারেনঃ

    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি)
    • ইনট্রাউটেরিন সিস্টেম (আইইউএস)

যোনিতে প্রবেশ করানোর প্রয়োজন পড়ে না এমন জন্মবিরতি পদ্ধতিসমূহ হলোঃ

    • কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিরোধক ইমপ্লান্ট
    • জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন
    • জন্মনিরোধক প্যাচ
    • পিল (মিশ্র অথবা শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরণ সমৃদ্ধ পিল)

মাসিকে পরিবর্তন হওয়া কি আপনি মেনে নিবেন?

কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কারণে মাসিকে প্রভাব পরতে পারে। কিছু পদ্ধতির কারনে মাসিক হালকা বা বেশি মাত্রায় অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে। অন্যান্য কিছু পদ্ধতি মাসিক পরিমানে বেশি বা অনিয়মিত করে ফেলে। বিস্তারিত জানার জন্য ডাক্তার অথবা নিকটস্থ ক্লিনিকের নার্সের সাথে কথা বলুন। যেসব পদ্ধতি মাসিক কমিয়ে দেয় সেগুলো হলোঃ

    • পিল (মিশ্র অথবা শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরণ সমৃদ্ধ পিল)
    • জন্মনিরোধক প্যাচ
    • জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন
    • যোনির রিং

আপনি কি ধূমপান করেন?

অধিকাংশ জন্মবিরতি পদ্ধতি ধূমপায়ীরা ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনি যদি ধূমপায়ী হোন এবং বয়স ৩৫ থেকে বেশি হয়ে থাকে, তাহলে কয়েকটি পদ্ধতি (যেমন মিশ্র পিল অথবা যোনির রিং) আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য ডাক্তার অথবা নিকটস্থ ক্লিনিকের নার্সের সাথে যোগাযোগ করুন।

যদি বয়স ৩৫ এর বেশি হয়ে থাকে এবং ধূমপায়ী হোন, তাহলে নিম্নোক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেনঃ

    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি)
    • ইনট্রাউটেরিন সিস্টেম (আইইউএস)
    • জন্মনিরোধক ইমপ্লান্ট
    • জন্মনিরোধক ইনজেকশন
    • শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরণ পিল

আপনার ওজন কি বেশি?

শরীরের ওজনের কারণে অধিকাংশ জন্মবিরতি পদ্ধতিতে কোনো প্রভাব পরে না এবং এসব পদ্ধতির কারনে ওজন বৃদ্ধিও হয় না। তবে কন্ট্রাসেপটিভ বা জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন ২ বার বা তার অধিক সময় ধরে ব্যবহার করলে ওজন অল্প পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

হরমোন সমৃদ্ধ কন্ট্রাসেপটিভ ব্যবহার করতে না পারলে কি করা উচিত?

কয়েকটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হরমোন দ্বারা পরিচালিত হয়, এ হরমোন নারীদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন হওয়া হরমোনের অনুরূপ হয়ে থাকে। এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরণ এ জাতীয় হরমোন।

উক্ত জন্মবিরতি পদ্ধতিসমূহ কিছু নারীদের জন্য উপযুক্ত হয় না। যেমন স্তনের ক্যান্সার, রক্ত পরিবহণে সমস্যা অথবা মাইগ্রেন প্রভৃতি শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে এসব পদ্ধতি উপযোগী নয়।

সব জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে হরমোন ব্যবহৃত হয় না। হরমোন ব্যতীত কিছু পদ্ধতি রয়েছে, যেগুলো হলোঃ

    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি)
    • ডায়াফ্রাম অথবা ক্যাপ
    • পুরুষ অথবা নারীর কনডম

এস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ পদ্ধতি গ্রহণ করতে না পারলে কি করা উচিত?

এস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যে সকল মহিলারা ব্যবহার করতে পারবেন না বা উপযুক্ত নয়, তারা হলেনঃ

    • বয়স ৩৫ এর বেশি ও ধূমপায়ী
    • শরীরের ওজন অত্যাধিক হলে  
    • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণকারী           
    • বিশেষ শারীরিক সমস্যা আক্রান্ত, যেমন মাইগ্রেন            

যদি আপনি এস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে না পারন, তাহলে তার পরিবর্তে আরো অনেক পদ্ধতি আছে, যেগুলো হলোঃ

    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি)
    • ইনট্রাউটেরিন সিস্টেম (আইইউএস)
    • জন্মনিরোধক ইমপ্লান্ট
    • জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন
    • শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরণ মিশ্র পিল

অন্যান্য শারীরিক সমস্যার জন্য আপনি কি ঔষধ গ্রহণ করেছেন?

অন্যান্য ঔষধ গ্রহণকালে কিছু জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রভাবিত হতে পারে, তবে এ পদ্ধতিগুলো ব্যাতীত আরো অনেক পদ্ধতি রয়েছে। আরো জানার জন্য আপনার ডাক্তার কিংবা নিকটস্থ ক্লিনিকের নার্সের সাথে যোগাযোগ করুন।

অন্যান্য ঔষধ দ্বারা যেসব জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রভাবিত হয় না সেগুলো হলোঃ

    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি)
    • জন্মনিরোধক ইঞ্জেকশন
    • ডায়াফ্রাম অথবা ক্যাপ
    • পুরুষ অথবা মহিলাদের কনডম

আপনি কি নিকট ভবিষ্যতে গর্ভবতী হতে চান?

যদি আপনি সন্তান চান তাহলে জন্মবিরতির সব পদ্ধতি ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারেন। নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতির কারনে আপনার ফার্টিলিটি (সন্তান  উৎপাদনের ক্ষমতা) স্বাভাবিক হতে কিছু সময় লেগে যেতে পারে। পদ্ধতি ব্যবহার করা থামানোর সাথে সাথেই যদি ফার্টিলিটি স্বাভাবিক অবস্থায় পেতে চান, তাহলে নিম্নোক্ত পদ্ধতিসমূহ ব্যবহার করতে পারেনঃ

    • জন্মনিরোধক ইমপ্লান্ট
    • ইনট্রাউটেরিন সিস্টেম (আইইউএস)
    • ইনট্রাউটেরিন ডিভাইস (আইইউডি)
    • পুরুষ অথবা মহিলাদের কনডম

এর বাইরে মিশ্র পিল, শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরণ সমৃদ্ধ পিল অথবা যোনির রিং, জন্মবিরতির প্যাচ ব্যবহার করা বন্ধ করার সাথে সাথেই পুনরায় গর্ভবতী হতে সক্ষম হবেন।

জন্মনিরোধক ইনজেকশন ব্যবহার বন্ধ করার পর ফার্টিলিটি পুনরায় স্বাভাবিক হতে ১ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। তবে অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রে কয়েক মাসের মধ্যে ফার্টিলিটি স্বাভাবিক হয়ে পড়ে।

0 comments

Leave a Reply