পেশাগত তথ্য মনোসামাজিক

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি

Written by Maya Expert Team

দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে কর্মস্থলে নারীর উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উন্নয়ন এবং ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারীরা যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি নারীদের যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাও ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা লজ্জা, চাকরি হারানোর ভয়, মান সম্মান হারানোর ভয়ে এই বিষয়গুলো বার বার এড়িয়ে যান। কিন্তু বেশিরভাগ নারীই প্রতিনিয়ত কম বেশি কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বলতে কি বোঝায় ?

ঘরোয়া সহিংসতার যেমন কিছু নির্দিষ্ট চিহ্ন আমরা সচেতনতার জন্য নারীদের জানাই, একইরকম কর্মক্ষেত্রেও যৌন হয়রানির কিছু কিছু চিহ্ন রয়েছে। নিম্নে এই চিহ্নগুলির ব্যাপারে উল্লেখ করা হল –

১) অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আবেদনমূলক আচরণ (সরাসরি অথবা ইঙ্গিতে) যেমনঃ শারীরিক স্পর্শ বা এ ধরণের প্রচেষ্টা

২) প্রাতিষ্ঠানিক বা পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা

৩) নিপীড়নমূলক কথা বলা

৪) ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনে চেষ্টা করা

৫) পর্ণগ্রাফি দেখানো

৬) অশালীন ভঙ্গী, যৌন নির্যাতনমূলক ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা বা যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করে ঠাট্টা বা উপহাস করা

৭) কাউকে সর্বক্ষণ অযাচিতভাবে অনুসারন করা বা পিছন পিছন যাওয়া

৮) ব্ল্যাকমেইলের উদ্দেশ্যে স্থির বা চলমান চিত্র ধারণ করা

৯) যৌন নিপীড়ন বা হয়রানির কারনে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হওয়া

১০) প্রেম নিবেদনে প্রত্যাক্ষিত হয়ে কোন হুমকি দেয়া

১১) অশালীন দেয়ালে লিখনও যৌন হয়রানির চিহ্ন

ঘটনা এবং পরিস্থিতির কারণে এই ধরণের হয়রানির ভিন্নতা থাকতে পারে।

আইন কি বলে?

শ্রম আইন অনুযায়ী, যৌন হয়রানি হল যখন কোন প্রতিষ্ঠানে কোন মহিলা কর্মী কে তার পদমর্যাদা বা অবস্থান নির্বিশেষে, একই প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যক্তি এমন কোন ব্যবহার করতে পারবে না যা অশোভনীয় বা সেই মহিলা শ্রমিকের শালীনতা কে হানি করে।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট যৌন হয়রানি বিষয়ক বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করে নিয়োগকর্তাদের এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলে। যৌন হয়রানি বিষয়ক এই নির্দেশিকা সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা আবশ্যক (অনুচ্ছেদ ১) এবং যৌন হয়নারি বিষয়ক শুরু থেকে শেষ অবধি এবং প্রতিকূল পরিবেশে শ্রমিককে ধারনা প্রদান করতে হবে (অনুচ্ছেদ ৪)। এই নির্দেশিকা যৌন হয়রানি অপরাধের প্রতিরোধ সংক্রান্ত পদক্ষেপসহ সচেনতা বৃদ্ধি এবং ব্যাপকভাবে নারী পুরুষের সমান অধিকার এবং যৌন অপরাধ সম্পর্কে আইনি বিধানমালা প্রচার করার কাজ চিহ্নিত করে থাকে (৩,৫ ও ৬ নং অনুচ্ছেদ)। এছাড়াও এই নির্দেশিকার মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (অনুচ্ছেদ ৭ ও ১১), অভিযোগ প্রক্রিয়া সহ কর্মস্থলে একটি অভিযোগ কমিটির প্রতিষ্ঠা (অনুচ্ছেদ ৮-১০)এবং ফৌজদারি মামলা (অনুচ্ছেদ ১১) সমুহের বিবরনিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কর্মস্থানে পর্যাপ্ত কার্যকর ভাবে এই আইন স্থাপ্তিত না সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশিকা জারি করার ক্ষমতা আছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ প্রতিরোধের অধীনে, “যেকোনো ব্যক্তি যদি তার যৌন চাহিদা পূরণ করার জন্য বেআইনি ভাবে কোন মহিলা শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে অথবা এমন কোন অশ্লীল ভঙ্গি করে তবে তাকে যৌন নিপীড়ন অপরাধ হিসেবে গন্য করা হবে এবং সেই ব্যক্তিকে বিবরনসহ কারাদণ্ড (দুই থেকে সাত বছর) এবং জরিমানা দণ্ড দেওয়া হবে”।

সূত্র – mywage.org.bd

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment