কৈশোর স্বাস্থ্য খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত সমস্যা স্বাস্থ্য

কম সময়ের মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া

Written by Maya Expert Team

মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া হল একটি খাবার গ্রহন সংক্রান্ত রোগ যেখানে এই রোগে আক্রান্তরা নিয়মিত ভাবে অতিরিক্ত খাবার গ্রহন করে থাকে । যারা এই রোগে আক্রান্ত তাদের নিজের খাবার এর উপর কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তারা ক্ষুধার্থ না থাকা সত্ত্বেও অনেক কম সময়ে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলে। এর কারনে তাদের মধ্যে সাধারনত লজ্জা, অশ্রদ্ধা আর অপরাধবোধ কাজ করে করে।তাই তারা এই মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ব্যাপারটি গোপনে সারেন।

অনেক সময় এই মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার পর আবার অনেক কম খাওয়ার একটি প্রবনতা দেখা যায়, যার ফলে একটি চক্র তৈরী করে যা থেকে বের হওয়া অনেক কষ্টের। এর কারনে রক্তের সুগার এর পরিমান একবার বাড়ে আবার কমে কমে। ফলে তাদের মস্তিস্কে একটি ভুল বার্তা পায়, যার কারনে রোগী যখন অনেক ক্ষুধার্থ থাকে তখন দেখা যায় আসলে তার শরীরের সে সময় কোন খাবার এর দরকারই নেই।

কারা আক্রান্তঃ

যে কেউ এই মাত্রাতিরিক্ত খাবার গ্রহনের রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

তবে তা পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

এটি প্রাপ্ত বয়স্ক তরুণদের মধ্যে শুরু হলেও, ৩০ বা ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত অনেক মানুষ কারো সাহায্য চাই না।

কখন সাহায্য নেয়া উচিত

অনেক মানুষ মাঝেমধ্যে মাত্রাতিরিক্ত খেয়ে থাকেএর মানে এই নয় যে আপনার মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার রোগ আছে যাই হোক, এটি যদি নিয়মিত আর অনেক বেশি পরিমানে হয়ে থাকে, বিষেশভাবে এটি যদি আপনার শারীরিক বা মানষিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে তাহলে আপনার সাহায্য নেয়া খুবই জরুরী।

কি কারনে এই মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া?

এটি কেন হয় তা এখন অপিরিস্কার,কিন্তু, অনেক খাবার সংক্রান্ত রোগের মত, এটিকে পারিপার্শ্বিক মানষিক চাপের কারনে হতে পারে বলে ধারনা করা হয়। যার কারনে আপনার মাত্রাতিরিক্ত খাবারের রোগ হবার ঝুকি বাড়েঃ

  • আত্মসম্মান বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি
  • বিষন্নতা অথবা উদ্বেগ
  • মানষিক চাপ, রাগ, একঘেয়েমি বা একাকিত্ব
  • নিজের শরীর নিয়ে অখুশি বা চিকন হওয়ার চেষ্টা করা
  • আগের কোন মানষিক চাপ বা মানষিক আঘাতের ঘটনা থাকলে।
  • আপনাদের পরিবারে যদি খাবার ঘটিত রোগের আক্রান্ত আর কেউ থাকে তাহলে জেনেটিকালি তা আপনার হতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত খাবার অনেক সময় কঠোর ডায়েট করার ফলে হতে পারে, বিষেশভাবে যখন আপনি খাবার গ্রহন করে না, খাদ্যতালিকা থাকে কোন খাবার বাদ দিয়ে ফেলেন অথবা পরিমান মত খাবার গ্রহন না করলে। এগুলো সম্পুর্ন অস্বাস্থ্যকর উপায় ওজন কমানোর জন্য, সঠিকভাবে খাদ্য গ্রহন না করার ফলে এমন হতে পারে যে আপনি অন্য এক সময় মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাবেন।

মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার ঝুকি

মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার রোগ সাথে গুরুতর মানষিক সমস্যার সাথে জড়িত, সাথে থাকে বিষন্নতা এনং দুশ্চিন্তা রোগ। যদি মাত্রাতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস চালু থাকে তাহলে সময়ের সাথে এই সকল সমস্যা আরো বাড়তে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত খাবার এর কারনে সাধারনত শারীরিক যে সমস্যা হয়ে থাকে তা হল ওজন বাড়া, যা পরে স্থুলতাতে পরিনত হয়। এগুলোর ফলে আপনার কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার মধ্যে পরতে পারেন যার মধ্যে কিছু আছে যা জীবনের জন্য হুমকি স্বরুপ,তার মধ্যে আছে কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ যেমনঃ- করনারী হার্ট ডিজিজ আর ষ্ট্রোক, ডায়াবেটিস, কিছু ক্যান্সার যেমনঃ স্তনের ক্যান্সার এবং পরিপাক্তন্ত্রের ক্যান্সার।

তাই, আপনার যদি মনে হয় আপনি এই মাত্রাতিরিক্ত খাবারে সমস্যায় ভুগছেন তাহলে আপনার কারো সাহায্য নেয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারন আপনার মানষিক এবং শারীরিক সমস্যা গুলো মোকাবিলা করতে কারো সহায়তা লাগতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার চিকিৎসা

মাতারতিরিক্ত খাওয়া চিকিতসা যোগ্য এবং বেশিরভাগ মানুষ সাধারনত কারো সাহায্য আর সহয়তা পেলে সেরে ওঠে।

চিকিৎসার মধ্যে আছেঃ

নিজেকে নিজে সাহায্য করার প্রোগ্রামঃ বই এর সাহায্যে বা অনলাইন কোর্স করে এটি নিজে নিজে করা যায়, অথবা নিজেদের উৎসাহ দেয় এমন কোন গ্রুপের সাথে থেকে ও করা যায়।

স্বতন্ত্র সাইকোলজিকাল থেরাপিঃ যেমন কগনেটিভ বিহেবিয়ার থেরাপি (সিবিটি)

ডাক্তারের দেয়া ওষুধ ব্যবহার করেঃ

এই চিকিৎসা গুলো করে আপনি আপনার মানষিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন কিন্তু শারিরিক সমস্যার উপর এর কোন প্রভাব নেই।

যদি মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার কারনে আপনার স্থুলতা চলে আসে, তাহলে চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে অথবা মানষিক সমস্যার সমাধানের পর একটি ওজন কমানোর পরিকল্পনা করতে পারেন যেখানে থাকবে স্বাস্থ্যাকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মমাফিক ব্যায়াম।

মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া আর বুলেমিয়াঃ

যদিও মাত্রাতিরিক্ত খাওয়া, বুলেমিয়া নামক অন্য আরেকটি খাওয়ার রোগের মতই, তারপরও দুইটি দুই রকমের রোগ। যাদের বুলেমিয়া আছে তারা মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার এর পর তা বমির মাধ্যমে অথবা লেক্সাটিভ এর মাধ্যমে তা শরীর থেকে বের করে দিতে চায়,

আর যাদের মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার রোগ আছে তারা তা শরীর থেকে বের করতে চায় না, তবে তারা দুইটি মাত্রাতিরিক্ত খাওয়ার সময়ের মাঝে অত্যান্ত কম খাবার খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে চায়।

ছবি সূত্র : takepart.in

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment