সংক্রামক ব্যাধি

এই সময়ের অসুখ

এই গ্রীষ্ম আর বর্ষার সন্ধিক্ষণে পানিবাহিত রোগব্যাধি হঠাৎ করেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের পানিবাহিত রোগের মধ্যে ডায়রিয়া অন্যতম। প্রতি বছর বাংলাদেশে দুই শতাধিক শিশু ডায়রিয়ায় মারা যায়। এছাড়াও কলেরা এবং টাইফয়েড বর্তমানে প্রকট আকার ধারন করছে।

 

প্রতিরোধ

প্রচুর পরিমানে পানি খান। বাহিরের খাবার না খেয়ে যথাসম্ভব ঘরের খাবার খান। ওয়াসার পানি ফুটিয়ে ভালভাবে ফিল্টার করে নিন বা তিন-চারবার ছেঁকে নিন। পানি কিনে খেলে, সরবরাহকারির মান সম্পর্কে নিশ্চিত হোন। ঘরের খাবার সবসময় ঢেকে রাখুন। রান্নাঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন। শিশুদের খাবারের প্রতি অধিক যত্নবান হোন।

 

আক্রান্ত হয়েছেন বুঝবেন কিভাবে?

সাধারনত দিনে তিনবার বা তার বেশি পাতলা পায়খানা হলে তাকে আমরা ডায়রিয়া বলে থাকি। এর সঙ্গে পায়খানায় রক্ত বা আমের উপস্থিতিকে আমাশয় বলা হয়ে থাকে।

টাইফয়েড জ্বর সাধারনত দুই ধাপে আসে। প্রথম তিন দিন হাল্কা জ্বর থাকে, পরবর্তী এক-দুই দিন কোনও জ্বর থাকে না। এরপর আবার পঞ্চম দিন থেকে জ্বর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এসময় জ্বর অতি উচ্চ মাত্রায় থাকে এবং সাধারন প্যারাসিটামলে জ্বর নামে না।

 

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

দুই সপ্তাহের বেশি পাতলা পায়খানা থাকলে অথবা হঠাৎ খুব বেশি ক্লান্তিভাব বা ঘুম ঘুম অনুভব করলে (বা বাচ্চা নড়াচড়া কমিয়ে দিলে বা ঠিকমত খেতে না পারলে) দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। পায়খানার সঙ্গে রক্ত বা আম গেলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কলেরা বা আমাশয় ইভয়ই মারাত্মক অসুখ।

এক সপ্তাহের বেশি জ্বর হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। পারলে এর আগেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন।

পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি হলে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

 

আক্রান্ত হলে কি করবেন?

ডায়রিয়া, কলেরা বা আমাশয়ে আক্রান্ত হলে প্রচুর পরিমানে পানি খান। ডায়রিয়ায় মৃত্যুর অন্যতম কারন পানিস্বল্পতা। ঘরে তৈরি বা প্যাকেটের ওরস্যালাইন খেতে পারেন। ঘরে তৈরি স্যালাইন ৮ ঘন্টা পর্যন্ত আর প্যাকেটের স্যালাইন ১২ ঘন্টা পর্যন্ত পানের উপোযোগী থাকে।

প্রতিদিন বেশি করে লেবুর সরবত খেতে পারেন –লেবুর রস কলেরার জীবানু ধ্বংসে সাহায্য করে।

পানিস্বল্পতা দূর করতে শসা এবং নারকেলের পানি খেতে পারেন। নারকেলের পানি আর শসা ব্লেন্ড করে খেতে পারেন।

করলার রস কলেরার জন্য উপকারী বলে ধারণা করা হয়। তুলসী পাতার রসও ডায়রিয়াজাতীয় রোগে উপকার করতে পারে।

ভাতের মাড় লঘু করে খেলে এটিও পানিস্বল্পতা রোধে সহায়ক হয়। অসুখ হলে পাউরুটি বা আটার তৈরি খাবার, বার্গার, প্যাটিস, স্যান্ডউইচ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে অযথা পেটের উপর চাপ পড়বে। অতিরিক্ত ঝাল বা তেলযুক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করুন। অনেক সময় দুধ খেলেও পাতলা পায়খানা বাড়তে পারে।

সাধারন ডায়রিয়া হলে একবেলা না খেয়ে থাকলেও ডায়রিয়া সেরে যেতে পারে।

হাল্কা আহার করুন, অযথা পেটের উপর চাপ বাড়াবেন না। তবে প্রচুর পানি খেতে ভুলবেন না।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment