ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম(পাকতন্ত্রের সমস্যা) গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম

Written by Maya Expert Team

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম বা আইবিএস (IBS): 

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রম বা আইবিএস (IBS) হচ্ছে কিছু উপসর্গ বা লক্ষনের সমষ্টি নিয়ে প্রকাশিত একধরনের আন্ত্রিক(অন্ত্রের) ব্যাধি। এটি পাচনতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা, যা প্রধানত বৃহদন্ত্রের সমস্যার সাথে যুক্ত।

আইবিএস এর কারন ও লক্ষন সমূহঃ

আইবিএস এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি, তবে বিশেষজ্ঞের ধারনা অনুযায়ী এটি কিছু বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত, এগুলো হলো-

  • অন্ত্র এর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং তা খাদ্য হজমেরর সমস্যা তৈরি করে। খাদ্য অধিক তাড়াতাড়ি বা খুব আস্তে আস্তে হজম হওয়ার ফলে পায়খানার ধরনে পরিবর্তন দেখা দেয়, অর্থাৎ কখনো ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।
  • আইবিএস এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সম্পর্কিত দিক হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অবসাদ, হতাশা ও বিষণ্ণতা। মানসিক এই অবস্থাগুলোর প্রভাবে আইবিএস এর উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা প্রকট হতে পারে।

আইবিএস এর লক্ষন বা উপসর্গ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভাবে উপস্থাপিত হতে পারে, তবে যেসকল উপসর্গের সমষ্টি নিয়ে এটি প্রকাশ পায় সেগুলো নিম্নে দেওয়া হলোঃ

১. পেট কামড়ানো বা মোচড় দিয়ে নরম, পিচ্ছিল পায়খানা হওয়া

২. কোন বিশেষ ধরণের খাবারের প্রতি খাদ্যনালীর সংবেদনশীলতার ফলে খাওয়ার পরে বদহজম হওয়া বা কিছু খেলেই অস্বস্তি ভাব ও গ্যাস হওয়া

৩. পায়খানার ধরনে পরিবর্তন হওয়া। অর্থাৎ কখনো ডায়রিয়া, কখনো কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা কখনো দুইটাই হওয়া

৪. প্রায়ই পেটের ভেতর শব্দ অনুভূত হওয়া

৫. পেটে অতিরিক্ত গ্যাস হওয়া

৬. পায়খানার সাথে পিচ্ছিল পদার্থ বা মিউকাস বের হওয়া

 

কিছু ফ্যাকটর যা আইবিএস এর উপসর্গকে প্রকট করে (উত্তেজক হিসেবে কাজ করে): 

  • খাবারঃ কিছু বিশেষ ধরণের খাবারের প্রতি খাদ্যনালীর সংবেদনশীলতা থাকে। ব্যক্তিভেদে খাবারের ধরণ ভিন্ন হয়ে থাকে। গবেষণা অনুযায়ী, অ্যালকোহল, কফি, চকলেট, কোমল পানীয়, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, মশলাদার খাবার, অতিরিক্ত তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার ইত্যাদি খেলে IBS হতে পারে।
  • মানসিক অবস্থাঃ মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মতো আবেগের তীব্রতা শরীরে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন আনতে পারে যাতে করে খাদ্যনালির স্বাভাবিক কাজ-কর্ম ব্যাহত হয় এবং আইবিএস কে প্রভাবিত করে।
  • হরমোনঃ আইবিএস এ হরমোনাল প্রভাব রয়েছে, যেকারনে মেয়েদের ঋতুচক্রের পূর্বে আইবিএসের লক্ষন প্রকট হয়।
  • অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া জনিত বা অন্যান্য ইনফেকশনের প্রভাবও রয়েছে।

 

কাদের ঝুঁকি বেশি?

১. যাদের বয়স ৩৫ বছরের কম।

২. নারীদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৩. যাদের পরিবারের কোন সদস্য IBS- এ আক্রান্ত এবং

৪. যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

 

চিকিৎসাঃ

এটা দীর্ঘমেয়াদী একটি সমস্যা। এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে রোগের লক্ষণ অনুসারে কিছু কিছু ওষুধ, সাইকোথেরাপি ও খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এর চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে চলে আসছে। এর চিকিৎসা পদ্ধতির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো-

১। খাদ্যাভাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনঃ

  • খাদ্যাভাসের পরিবর্তন করে এ রোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে।  সে দিক থেকে যেসব খাবারে এই সমস্যা বাড়ে এসব খাবার পরিহার করতে হবে। যেমন- দুধ বা দুধ জাতীয় খাবার, কিছু কিছু শাক, ভাজা-পোড়া ও তৈলাক্ত খাবার, কৃত্রিমভাবে তৈরি চিনি, ক্যাফেইন জাতীয় খাবার, মদ জাতীয় পানীয়। এ ছাড়া নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে প্রতিদিন খাবার গ্রহন ও পর্যাপ্ত পানি পান করলে আইবিসের সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।
  • মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করা
  • যেসব খাবার বা আচরন এটিকে উত্তেজিত করতে পারে সেগুলো এড়িয়ে চলা
  • পর্যাপ্ত ও ভালোভাবে ঘুমানো

২। ওষুধ : আইবিএসের লক্ষন যখন তীব্রভাবে দেখা দেয়, তখন কিছু ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক সহ আরো ওষুধের প্রয়োজনীয়তা পড়ে। কিছু সময় ফাইবার সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয় এর চিকিৎসায়।

৩। সাইকোথেরাপি :

এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সাইকোথেরাপিও নিতে পারেন। সে হিসেবে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT) ও হিপনোথেরাপি  (Hypnotherapy) নিলে তারা উপকার পাবেন।

 

আইবিএসের জটিলতাঃ

আইবিএসের ফলে পরবর্তীতে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে,

  • মলদ্বার দিয়ে রক্তপড়া
  • খাবার গ্রহনে বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে গিয়ে পুষ্টিহীনতা দেখা দেওয়া
  • জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া,যেহেতু এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা

আইবিএস পুরোপুরি সারিয়ে ফেলা না গেলেও, খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে উপসর্গগুলোকে কমিয়ে রাখা যায়। ওষুধ ব্যবহার করেও ফল মেলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে।

 

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment