আপনার সন্তানের হার্টের যত্ন নিন

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় বের হয়ে এসেছে যে ছোটকাল থেকেই সাবধানতা অবলম্বন করলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

অলস জীবনযাপন, ব্যায়াম না করা এবং মাত্রাতিরিক্ত তেল-চর্বি যাতিও খাবার খাওয়া অল্প অল্পবয়সেই মোটা হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ। যেসব বাচ্চারা ছোটো থেকেই অত্যধিক মোটা থাকে, বড় হয়ে তাদের বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগ( যেমন ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি) হবার সম্ভাবনা বহু অংশে বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একজন মানুষের শিশুকাল থেকেই শেখা উচিত। আপনার বাচ্চাকে সাস্থসম্মত খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের উপকারিতা শেখান ছোটকাল থেকেই।

কায়িক শ্রম

ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ব্যায়াম আপনার বাচ্চার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্য দুটোই সমৃদ্ধ করবে। একটি বাচ্চার প্রত্যেকদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা (৬০মিন) ব্যায়াম করা উচিত। তার মধ্যে থাকবে মধ্যম মাত্রার ব্যায়াম যেমন হাঁটা এবং তীব্র ব্যায়াম যেমন দৌড়ানো।

সপ্তাহের তিনদিন ব্যায়ামে যুক্ত করুন মাংসপেশি বৃদ্ধি এবং হাড় শক্ত করার ব্যায়াম যেমন বুকডন। কিছু খেলা যেমন ফুটবল, দড়িলাফ ইত্যাদিতে আপনার উপরে উল্লেখিত সব ব্যায়ামই হয়ে যাবে।

এক ঘণ্টা ব্যায়াম যে পুরোটা একসাথে করতে হবে এমনও নয়। সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে করলেই হবে।খেয়াল রাখুন যেন আপনার বাচ্চা লম্বা সময় ধরে বেকার বসে না থাকে, যেমন টিভি দেখা বা কম্পিউটারে গেম খেলা।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার

আপনার বাচ্চাকে ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যসম্মত এবং ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাওয়ার অভ্যাস করান। ঠিক সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করান। তারাহুরা করে খাবার শেষ করা,বা খেতে খেতে অন্য কাজ করা ঠিক নয়। এতে খাওয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং বাচ্চা অন্যান্য খাবার, যেমন চিপস, চকলেট, ফাস্ট ফুড ইত্যাদি খেয়ে পেট ভরায়, টিভি দেখা ছাড়া খেতে চায়না এবং আরও নানান ঝামেলা করে খাবার সময়।

আপনার সন্তানকে পরিমাণ মত খাবার দিন যা আপনার সন্তানের প্রয়োজন।বড়দের পরিমাণে খাবার দিলে তাহলে তা আপনার সন্তানের শরীরে তা চর্বি হিসেবে জমে থাকবে এবং আপনার সন্তানকে স্থূল করে তুলবে।

অত্যধিক লবণ,তেল, চিনি ও চিনি জাতিও খাবার আপনার সন্তানকে হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলবে। দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু ছোট ছোট বদল,যেমন রান্নায় সয়াবিন তেলের বদলে সূর্যমুখীর তেল ব্যাবহার, সাদা চিনির জায়গায় বাদামি চিনি ইত্যাদি আপনার এবং আপনার সন্তানকে নিয়ে যাবে একটি সুস্থ জীবনের দিকে।

দিনে অন্তত পাঁচবার শাক-সবজি খান। এতে আপনি পাবেন প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন,মিনারেল, এন্টি-অক্সিডেন্ট, আঁশ ইত্যাদি, যা ক্যানসার এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

খাবারে চিনির পরিমাণ কমান। অত্যধিক চিনি শরীরে চর্বি হয়ে জমা হয়। কোমল পানীয়, বাজারে পাওয়া ফলের জুস ইত্যাদিতেও প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। আপনার সন্তানকে এসবের বদলে খালি পানি, দুধ, ঘরে বানানো চিনি ছাড়া ফলের রস ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস করান।

0 comments

Leave a Reply