এলার্জিক রাইনিটিস্ নাক,কান, গলা সংক্রান্ত

সর্দি (অ্যালার্জিক রাইনাইটিস)- প্রতিরোধ করা

সর্দি (অ্যালার্জিক রাইনাইটিস)- প্রতিরোধ করা

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস প্রতিরোধ করার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে অ্যালার্জেন যার কারনে এটা হয় তাকে এড়িয়ে চলা। তবে এটা সবসময় সহজ নয়। অ্যালার্জেন, যেমন ধুলোর কীট, সেগুলোকে ধরা খুব কঠিন এবং সবচেয়ে পরিষ্কার পরিবেশেও তারা বংশবৃদ্ধি করতে পারে। অনেক সময় পোষা প্রাণীর সংসর্গ উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, বিশেষভাবে যদি তারা পরিবার এবং বন্ধুদের সাথেই থাকে। সাধারন কিছু অ্যালার্জেন এর হাত বাঁচার কিছু পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলঃ

বাড়ীর ধূলোতে বসবাসকারী কীট

ধূলো বালির কীট অ্যালার্জীর অন্যতম কারন। তারা আনুবীক্ষনিক পোকামাকড় যা বাড়ী-ঘরের ধূলো তে বংশবৃদ্ধি করে থাকে। নিচে কিছু উপায় তুলে ধরা হল যার মাধ্যমে আপনি বাড়ীর ধূলো-বালি কমিয়ে আনতে পারেনঃ

● বাতাস যাতায়াত করে এমন প্রতিরোধী গদি এবং বেড কাভার কিনুন (এইরকম বিছানাপত্র ধূলো-বালির কীট ও তার বিষ্ঠার জন্য বাধা হিসেবে কাজ করে)

● মেঝে ঢাকার জন্য কার্পেট এড়িয়ে চলুন

● কুশন, নরম খেলনা, পর্দা, এবং ফার্নিচার পরিষ্কার রাখুন- এদের হয় ধৌত করুন না হয় ভ্যাকিউম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার রাখুন।

● সিন্থেটিক বালিশ ব্যবহার করুন। পশমী কম্বল এড়িয়ে চলুন।

● যদি আপনি ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহার করে থাকেন তবে এমন একটি ক্লিনার ব্যবহার করুন যাতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বস্তুকনা পরিষোধক (HEPA) আছে। কারন এই ফিল্টার অন্যান্য ক্লিনার থেকে বেশী পরিষ্কার করবে।

● ধুলা মুছতে একটি ভেজা পরিষ্কার কাপড় ব্যবহার করুন কারন শুকনো ধূলো আবারো অ্যালার্জেন ছড়াতে পারে।

● আপনার চারপাশের পরিবেশ যেখানে আপনি সবচেয়ে বেশী সময় নিয়ে থাকেন যেমন বেড রুম এবং লিভিং রুম, সেটা ধূলো-বালির কীট থেকে রক্ষা করতে মনযোগী হউন।

পোষা প্রানী

পোষা প্রানী অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার কারন না তবে তাদের ত্বকের মৃত স্তর, মুখের লালা, এবং শুকনো প্রস্রাব থেকে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। যদি আপনি স্থায়ীভাবে বাসা থেকে পোষাপ্রণী দূর করতে না পারেন তবে আপনি নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করতে পারেনঃ

● পোষা প্রাণীদেরকে যতটুকু সম্ভব বাহিরে রাখুন এবং এক রুম থেকে অন্য রুম এ তাদের

কে যেতে দিবেন না, বিশেষভাবে কার্পেট ছাড়া রুম এ।

● বেডরুম এ পোষাপ্রানীদের প্রবেশে সম্মতি দিবেন না।

● কমপক্ষে ১৫ দিন অন্তর অন্তর তাদের কে ধৌত করুন।

● কুকুর নিয়মিত বাইরে রেখে তাদের অভ্যাস করান।

● যেখানে যেখানে পোষা প্রাণী অবস্থান করে নিয়মিত সেই স্থানের বিছানাপত্র এবং নরম আসবাব পত্র ধৌত করুন।

● যদি আপনি পোষা প্রানী নিয়ে আত্নীয় কিংবা বন্ধুর বাসায় ঘুরুতে যান তবে তাদের কে বলুন সেদিন ভ্যাকিউম দিয়ে পরিষ্কার না করতে কারন এটা বাতাসে অ্যালার্জেন ছড়িয়ে দিবে। পোষাপ্রানী রয়েছে এমন বাসায় প্রবেশের এক ঘন্টা আগে একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ঔষধ খেয়ে নিন যা আপনার উপসর্গগুলো কমাতে সাহায্য করে।

পরাগ রেনু

বিভিন্ন চারা এবং গাছ পরাগায়িত হয় বছরের বিভিন্ন সময়ে। তাই কখন আপনি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এ আক্রান্ত হবেন তখন তা নির্ভর করবে কোন রকমের পরাগরেনু তে আপনি অ্যালার্জিক তার উপর। বেশিরভাগ মানুষ বসন্ত এবং গ্রীষ্মের সময়ে আক্রান্ত হয়, কেননা এই সময়ে বেশীরভাগ চারা এবং গাছ পরাগায়িত হয়। পরাগরেণুর হাত থেকে বেঁচে থাকতে, আপনার নিচের কিছু কৌশল অনুসরন করতে হবেঃ

● দড়িতে কাপড় এবং বিছানাপত্র শুকানো পরিহার করুন, বিশেষত যখন বাতাসে পরাগরেণুর পরিমাণ অনেক বেশী থাকে।

● পরাগরেনু থেকে চোখকে রক্ষা করতে সানগ্লাসের চারপাশে মোড়ানো কাপড় পরিধান করুন।

● মধ্য সকালে এবং সন্ধ্যার আগে যখন বাতাসে সবচেয়ে বেশী পরাগরেনু থাকে তখন জানালা, দরজা, বন্ধ রাখুন।

● বাইরে থেকে আসার পর গোসল করুন, আপনার চুল ধৌত করুন এবং কাপড় পরিবর্তন করুন।

● ঘাসযুক্ত এলাকা যেমন পার্ক এবং মাঠ যখনই সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

ছত্রাকের স্পোর

ছত্রাক বাড়ির ভেতর এবং বাইরে যেকোনো ক্ষয়িষ্ণু বস্তুতে জন্মাতে পারে। ছত্রাক নিজেরা অ্যালার্জেন নয় কিন্তু তারা যে স্পোর মুক্ত করে তা অ্যালার্জেন। আর্দ্র পরিবেশে যখন হটাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তখন স্পোরগুলো বিমুক্ত হয়। ছত্রাকের স্পোর প্রতিরোধ করতে যে কাজগুলো করতে হবে তা হলো :

  • আপনার ঘর শুকনো রাখুন। আলো বাতাস চলাচল করছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • রান্না করা বা গোসল করার সময় জানালা খোলা রাখুন। কিন্তু ভিতরের দরজা বন্ধ রাখুন যাতে আদ্র হাওয়া ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। রান্নাঘরে এক্সট্র্যাক্টর ফ্যান ব্যবহার করুন।
  • ঘরের ভিতরে ভেজা কাপড় শুকাবেন না। স্যাঁতসেঁতে ড্রয়ারে কাপড় রাখবেন না। ড্রয়ারে একসাথে অনেক কাপড় রাখবেন না।
  • আপনার ঘরে কোন স্যাঁতস্যাঁতে ভাব থাকলে তা দূর করুন।

About the author

Maya Expert Team