এলার্জিক রাইনিটিস্ নাক,কান, গলা সংক্রান্ত

অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের চিকিৎসা

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস এর চিকিৎসা নির্ভর করে উপসর্গগুলো কতটা গুরুতর এবং তা আপনার

প্রাত্যহিক জীবনকে কতটা ব্যহত করছে তার উপর। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসার উদ্দেশ্য থাকে

উপসর্গ যেমন, হাঁচি এবং বন্ধ নাক বা সর্দি পড়া নাক থেকে মুক্তি দেওয়া।

যদি আপনার অ্যালার্জিক রাইনাইটিস অল্প মাত্রার থাকে তবে আপনি নিজেই এর চিকিৎসা করতে

পারেন। আপনার ডাক্তার দেখানোর প্রয়োজন হবে যদি উপসর্গগুলো গুরুতর হয় এবং আপনার জীবন-

যাত্রাকে ব্যাহত করে অথবা নিজস্ব চিকিৎসা যদি কার্যকর না হয়।

 

নিজস্ব চিকিৎসা

যদি আপনার অ্যালার্জিক রাইনাইটিস অল্প মাত্রার থাকে, তবে নিজেই এর চিকিৎসা করতে পারেন

ঔষধ সেবনের মাধ্যমে, যেমন লং-অ্যাক্টিং, নন-সিডাটিং অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট ( নিচে

দেখুন )

যদি সম্ভব হয়, আপনার উচিত অ্যালার্জেন যা রোগের সূত্রপাত করে তার সংস্পর্শে আসা কমানো।

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস প্রতিরোধ করার পরামর্শ দেখুন।

 

নাকের ছিদ্র পরিষ্কার করুন

নিয়মিত লবন-পানির দ্রবন দ্বারা নাকের ছিদ্র পরিষ্কার রাখুন (ন্যাজাল ডাউচিং অথবা সেঁচ নামে

পরিচিত) যা আপনার নাককে যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিবে। আপনি বাসায় এই মিশ্রন বানাতে পারেন,

অথবা ফার্মেসী থেকে একই উপাদানের তৈরী মিশ্রন কিনে নিতে পারেন।

বাসায় এই মিশ্রন বানাতে এক চা-চামচ লবন এবং সোডাতে থাকা বাইকার্বনেট  ফুটন্ত পানির সাথে

মিশিয়ে নিন ( যতক্ষন পর্যন্ত পানি গরম থাকবে নাকে নিবেন না )।

আপনার নাককে পরিষ্কার করতেঃ

● বেসিনের উপর দাঁড়ান, এক হাতের তালুতে অল্প পরিমান দ্রবন নিন।

● পানি নাকের গর্তের ভেতর ছুঁড়ে মারুন।

● এটা পূনরায় করুন যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি আরাম অনুভব করতে না পারবেন।

(আপনার সবটুকু দ্রবন ব্যবহার নাও করতে হতে পারে )

আপনি যখন এটা করবেন, কিছু দ্রবন নাকের পেছন দিকে গলায় চলে যেতে পারে। যদিও এটা

গলাধঃকরন ক্ষতিকর নয়, তবু চেষ্টা করুন যতটকু সম্ভব বের করে ফেলার। নাকের সেঁচ যখনই

প্রয়োজন হবে করা যেতে পারে, কিন্তু প্রত্যেক বারই একটি নতুন দ্রবন করে নিতে হবে।

 

ঔষধ

ঔষধ আপনার অ্যালার্জি কে ভাল করতে পারবেনা, কিন্তু এটা কিছু সাধারন উপসর্গের জন্য ব্যবহার

করা যেতে পারে। যদি আপনার উপসর্গ মৌসুমি অ্যালার্জেন যেমন,পরাগরেনু হয় তবে আপনি সেগুলোর

সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা চলে গেলে, ঔষধ বন্ধ করে দিতে পারবেন। ডাক্তার কে উপসর্গগুলো

দেখান যদি দু সপ্তাহ পর্যন্ত ঔষধে সাড়া না পান।

অ্যান্টিহিস্টামিন

হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থের কাজ বন্ধ করার মাধ্যমে অ্যান্টিহিস্টামিন অ্যালার্জিক

রাইনাইটিস এর উপসর্গ কমায়। শরীর হিস্টামিন নির্গমন করে যখন সে মনে করে অ্যালার্জেন

ক্ষতিকারক হতে পারে। আপনি কোন ব্যবস্থাপনাপত্র ছাড়াই, অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট ফার্মেসী থেকে

কিনতে পারেন কিন্তু অ্যান্টিহিস্টামিন ন্যাজাল স্প্রে শুধুমাত্র ব্যবস্থাপনা পত্রের মাধ্যমেই কেনা যায়।

অ্যান্টিহিস্টামিন অনেক সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাব এর কারন হতে পারে। যদি আপনি এগুলো প্রথম

বারের মত নিয়ে থাকেন তবে দেখুন যে গাড়ী চালানোর সময় অথবা ভারী মেশিন পরিচালনার সময়

কিরকম প্রতিক্রিয়া হয়। অ্যান্টিহিস্টামিন তন্দ্রাচ্ছন্নভাব এর কারন হতে পারে যদি আপনি

অ্যালকোহল নিয়ে থাকেন।

কর্টিকোস্টেরয়েডস 

যদি আপনার নিয়মিত অথবা ঘন ঘন উপসর্গ থাকে এবং আপনার নাক বন্ধ অথবা নাকে পলিপ থাকে

তাহলে ডাক্তার আপনাকে ন্যাজাল স্প্রে অথবা ড্রপ দিতে পারেন যাতে কর্টিকস্টেরয়েড থাকে।

কর্টিকস্টেরয়েড জ্বালা-পোড়া এবং ফোলা কমায়। তারা অ্যান্টিহিস্টামিন থেকে তুলনামূলক দীর্ঘ

সময় নেয় কাজ করতে, কিন্তু তাদের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হয়। ভেতরে শ্বাসকৃত কর্টিকস্টেরয়েড এর

পার্শপ্রতিক্রিয়া তেমন একটা নেই, কিন্তু তা নাক শুকনো করে ফেলতে পারে, যন্ত্রনাদায়ক হতে পারে,

এবং নাকের রক্তক্ষরন হতে পারে।

যদি আপনার বিশেষ কোন গুরুতর উপসর্গের পর্যায় থাকে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভের প্রয়োজন হয়

তবে ডাক্তার আপনাকে একটি সল্প মেয়াদী কর্টিকস্টেরয়েড ট্যাবলেট এর ডোজ দিবেন যা ৫-১০ দিন

পর্যন্ত খেতে হতে পারে।

 

ন্যজাল ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট

ন্যাজাল ডিকনজেস্ট্যান্ট বন্ধ নাক মুক্ত করতে সাহায্য করে এবং সাধারনত প্রেসক্রিপশন ছাড়াই

কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ন্যাজাল স্প্রে, অথবা তরল হিসেবে নেওয়া যেতে পারে।

তবে, ন্যাজাল ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট একটানা ৫-৭ দিনের বেশী ব্যবহার করা উচিত নয় কারন দীর্ঘমেয়াদী

ব্যবহারে জমাট বাঁধা রক্ত আরও খারাপ কিছুতে পরিণত হতে পারে।  আপনার ন্যাজাল ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট

ব্যবহার করা উচিত নয় যদি আপনি মনোঅ্যামাইন অক্সিডেস ইনহিবিটর (monoamine oxidase

inhibitor – MAOI) নামক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ওষুধ নিয়ে থাকেন।

 

চিকিৎসার সাথে যোগ করা

যদি আপনার অ্যালার্জিক রাইনাইটিস উপরোক্ত চিকিৎসায় সাড়া না দেয় তবে ডাক্তার আসল

চিকিৎসার সাথে আরও কিছু যোগ করতে পারেন। নিচের পরামর্শ দেওয়া হতে পারেঃ

● কর্টিকস্টেরয়েড ন্যাজাল স্প্রে এর ডোজ বাড়িয়ে দেওয়া

● একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ট্যাবলেট, কর্টিকস্টেরয়েড ন্যাজাল স্প্রে এবং সম্ভব হলে ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট এর

সমন্বয় করে একটি ডিকঞ্জেস্ট্যান্ট ন্যাজাল স্প্রে সল্প মেয়াদী ডোজে নেওয়া।

● একটি ন্যাজাল স্প্রে ব্যবহার করা যাতে ইপ্রাট্রপিয়াম নামক ঔষধ থাকে, যা অতিরিক্ত নাকের

প্রবাহ কমাতে পারে।

● একটি লিউকোট্রাইএন্স রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট (leukotriene receptor antagonist

medication) ঔষধ (যা রাসায়নিক পদার্থ লিউকোট্রাইএন্স এর প্রভাব বন্ধ করে যা

অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার সময় নির্গত হয়) নেওয়া ।

আপনি যদি চিকিৎসা সাথে এগুলো যোগ করেও সাড়া না পান, তবে আপনাকে আরো উন্নত

চিকিৎসার জন্য একজন বিশেষজ্ঞের কাছে প্রেরন করা হতে পারে।

About the author

Maya Expert Team

Leave a Comment