অনিয়মিত মাসিক- কারণ

অনিয়মিত মাসিকের কারণ
আপনার নিয়মিত মাসিকচক্রে ব্যাঘাত ঘটতে পারে যদি আপনি গর্ভ নিরোধক পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেন অথবা যদি আপনার এস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন হরমোনে ভারসাম্য না থাকে।

বয়ঃসন্ধিকালের কিছু বছর পরেও আপনার হরমোনে ভারসাম্যহীনতা থাকতে পারে। এটি আপনার রক্তস্রাবের চক্রকে দীর্ঘস্থায়ী অথবা স্বল্পস্থায়ী করতে পারে। আপনার রক্তস্রাব হাল্কা অথবা ভারীও হতে পারে।

যদি আপনার অনিয়মিত ঋতুস্রাব বয়স সম্পর্কিত বিষয়ের সাথে জড়িত হয়, তবে সাধারণত এটার জন্য ডাক্তার দেখাবার প্রয়োজন নেয়।  


জীবনধারা
আপনি যে জীবনধারায় চলছেন তা আপনার হরমোনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে এবং তা অনিয়মিত মাসিকের কারণ হতে পারে।

  • ওজন বেশি হ্রাস অথবা বৃদ্ধি পেলে
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে
  • চাপে থাকলে


গর্ভ নিরোধক বড়ি
ইঞ্জেকশান- এটা দুই মাসিকের মাঝে রক্তপাতের একটি কারন হতে পারে। এটি মাসিক অনিয়মিত করেনা, কিন্তু এটি বেশি রক্তপাত অথবা ব্যাথ্যাযুক্ত মাসিকের কারণ হতে পারে। প্রতি ৩মাস অন্তর অন্তর ইঞ্জেকশান দিলে মাসিক বন্ধ থাকে।

সামান্য রক্তপাত,যা “ব্রেকথ্রু ব্লিড” নামে পরিচিত, এটি সাধারণত তখন হয় যখন গর্ভ নিরোধক বড়ি প্রথমবার ব্যবহার করা হয়। স্বাভাবিক মাসিকের তুলনায় এটি সাধারণত হাল্কা এবং স্বল্পস্থায়ী হয়ে থাকে এবং প্রথম কয়েকমাসে তা সাধারণত বন্ধ হয়ে যায়।


পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় সিন্ড্রোম
পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় সিন্ড্রোম ঘটে তখন, যখন ডিম্বাশয়ে খুব ছোট সিস্ট এর জন্ম হয়।

এর সাধারণ লক্ষণ সমূহের মধ্যে রয়েছে, অনিয়মিত অথবা হাল্কা মাসিক হওয়া, অথবা মাসিকই না হওয়া। এটি হওয়ার কারন হল, যে মহিলার পলিসিস্টিক ডিম্বাশয় সিন্ড্রোম রয়েছে তার ডিম্বস্ফোটন স্বাভাবিক নয়। সাথে তার হরমোন উৎপাদন ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।এবং হতে পারে তার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অধিক রয়েছে ( যদিও এটি পুরুষদের হরমোন, তারপরেও এটি সামান্য পরিমাণে মহিলাদের শরীরে বিদ্যমান)।  


স্ত্রীরোগ সমস্যা
অনিয়মিত রক্তপাত হতে পারে যদি অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণ হয়, গর্ভস্রাব হয় অথবা গর্ভাশয়ে যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে। আপনাকে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করে দেখবেন এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হলে আপনাকে তা জানাবেন।


থাইরয়েড রোগ
থাইরয়েডের রোগ আরেকটি সম্ভাব্য কিন্তু কদাচিৎ কারণ হতে পারে যা অনিয়মিত মাসিকের জন্য দায়ী। ( থাইরয়েড গ্রন্থি গলার অংশে থাকে, যা এক ধরনের হরমোন উৎপাদন করে মানবদেহের রাসায়নিক রুপান্তর ঘটায়)। আপনার থাইরয়েডে কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানবার জন্য চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা করবেন এবং আপনার রক্তে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা সম্পর্কে জানবেন।

Image Courtesy: Maldives Independent