পুরুষের স্বাস্থ্য

অণ্ডকোষ নিচে না নামা

অণ্ডকোষ নিচে না নামা
Undescended testicles বা অণ্ডকোষ নিচে না নামা একটি সাধারন সমস্যা যার কারনে নবজাতকের অণ্ডকোষ তার অন্ডথলিতে নেমে আসে না। অধিকাংশ সময়ই এটি ঠিক করতে কোন কিছু করা লাগে না, জন্মের প্রথম তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে অণ্ডকোষ নিজে থেকেই অন্ডথলিতে চলে আসে। তবে কোন কোন শিশুর এটির জন্য চিকিৎসা নেয়ার দরকার হতে পারে।

একটি বা দুটি অণ্ডকোষ নিচে নেমে না আসলে ডাক্তারি পরিভাষায় তাকে ইউনিল্যাটেরাল বা বাইল্যাটেরাল ক্রিপ্টোরকিডিজম বলে (unilateral or bilateral cryptorchidism)।

কখন ডাক্তারের সাহায্য নিবেন
অণ্ডকোষ নিচে নেমে না আসার কারনে তাৎক্ষনিকভাবে কোন অসুবিধা না হলেও আপনি যখনই খেয়াল করবেন আপনার শিশুর অণ্ডকোষ যথাস্থানে নেই তখনই ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

অণ্ডকোষ নিচে নেমে না আসার কারন কী?
গর্ভে থাকার সময় শিশুর অণ্ডকোষ তার পেট/তলপেটে তৈরি হয়, এরপর আস্তে আস্তে সেগুলো জন্মের দুমাস আগে অন্ডথলিতে নেমে আসে। বাচ্চার জন্মের সময়ও এগুলো অন্ডথলিতে নেমে না আসলে সমস্যাটি তৈরি হয়। বাচ্চা অধিক ঝুঁকির মধ্যে থাকে-

  • জন্মের সময় ওজন কম হলেঃ – জন্মের সময় শিশুর -ওজন ২.৫ কেজি (৫.৫ পাউন্ড) -এর কম হলে তার অণ্ডকোষ নিচে না নেমে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • স্বাভাবিক সময়ের আগে জন্মগ্রহণ করলে – স্বাভাবিক সময়ের যত আগে বাচ্চা জন্মগ্রহণ করবে, তার অণ্ডকোষ নিচে নেমে না আসার সম্ভাবনা তত বেশি হবে।
  • বংশগত ভাবেই অণ্ডকোষ নিচে না নেমে আসার ইতিহাস থাকলে- কোন শিশুর বড় ভাই যদি অণ্ডকোষ নিচে না নেমে আসা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে তাহলে শিশুটির একই সমস্যা নিয়ে জন্মানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে।


অণ্ডকোষ নিচে না নামার সমস্যাটি নির্ণয়
অণ্ডকোষ নিচে না নেমে আসলে অন্ডথলিতে অণ্ডকোষটি না ধরতে পারা ছাড়া সাধারণত আর কোন সমস্যা হয় না। শিশু সাধারণত এতে কোন ব্যাথা অনুভব করে না। অণ্ডকোষ নিচে নেমে না আসলে তা সাধারণত বাচ্চার জন্মের পর পর বা ছয় থেকে আট সপ্তাহ বয়সে রুটিন চেকআপের সময় ধরা পড়ে।

শারীরিক পরীক্ষা
সমস্যাটি নির্ণয়ের প্রথম ধাপে একটি শারীরিক পরীক্ষা করা হয় যাতে দেখা যায় যে অণ্ডকোষটি অন্ডথলির কাছে হাত দিয়ে অনুভব করা যাচ্ছে কিনা।

আরও পরীক্ষা
কিছু কিছু ক্ষেত্রে অণ্ডকোষটির অবস্থান এবং এ সংক্রান্ত যে কোন সমস্যা (যেমনঃ অস্বাভাবিক হরমোন লেভেল) নির্ণয় করার জন্য আরও পরীক্ষা করে দেখা হতে পারে। এই পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান, ডায়াগনস্টিক ল্যাপ্রোস্কপি, এবং (বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে) রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা।

ডায়াগনস্টিক ল্যাপ্রোস্কপি (Diagnostic laparoscopy)
অনুভব করা যাচ্ছে না এমন অণ্ডকোষ খুঁজে বের করার জন্য ডায়াগনস্টিক ল্যাপ্রোস্কপি পরীক্ষাটি করা হতে পারে। ডায়াগনস্টিক লাপ্রোস্কপি একধরনের ‘কী হোল সার্জারি (keyhole surgery)’ যাতে ল্যাপ্রোস্কোপ নামের একটি যন্ত্র নাভিতে করা ছোট একটি ফুটোর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। নাভিতে ফুটো করলে পরে দাগ বোঝা যায় না। ল্যাপ্রোস্কোপে একটি আলোক উৎস ও একটি ক্যামেরা থাকে। ক্যামেরাটি পেটের ভেতর থেকে বা পেলভিস থেকে একটি টিভি মনিটরে ছবি পাঠায়। অণ্ডকোষটি কোথায় আছে তা জানার পর তাৎক্ষনিকভাবে সার্জারি করে সেটিকে অন্ডথলিতে স্থানান্তরিত করা যেতে পারে।

অণ্ডকোষ নিচে নেমে না আসার চিকিৎসা কীভাবে করা হয়
বেশিরভাগ সময়ই অণ্ডকোষটি বাচ্চার জন্মের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে নিজেনিজেই অন্ডথলিতে নেমে আসবে। এই সময়ের মধ্যে অণ্ডকোষটি নিচে নেমে না আসলে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এর কারন হচ্ছে এ থেকে ভবিষ্যতে শিশুটির বাবা হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং খুব সামান্য হলেও তার অণ্ডকোষের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

এক্ষেত্রে সাধারণত অরকিডোপেক্সি (orchidopexy) নামের একটি অপারেশনের মাধ্যমে অণ্ডকোষটি অন্ডথলির ভেতর সঠিক পজিশনে বসিয়ে দেয়া হয়। এটি একটি তুলনামুলকভাবে সহজ অপারেশন যার সাফল্যের হার বেশ ভাল। সাধারণত বাচ্চার বয়স দুবছর হওয়ার আগেই সার্জারি করা হয়। কম বয়সেই সমস্যাটির চিকিৎসা করা হলে শিশুর জন্মদান ক্ষমতায় কোন প্রভাব পড়ার কথা নয়। অল্প কিছু ক্ষেত্রে, কৃত্রিম হরমোন ব্যবহারের মাধ্যমে অণ্ডকোষকে স্বাভাবিক স্থানে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

About the author

Maya Expert Team