Login
বাংলা

Maya Voice

Anybody Can join



সেকালের যৌতুক একালের রোলেক্স

By Supriti Dhar
Published: 31 May, 2012

Listed in Women's rights


“মেয়ের বিয়ের যৌতুকের টাকা জোগাড় করতে বাবা-মার শেষ সম্বল বিক্রি করল” – গ্রামগঞ্জে ঘটে যাওয়া এমন সব কাহিনী আমাদের সবারই কমবেশি শোনা । এসব কাহিনিতে কখনওবা বাড়ি বন্ধক রেখে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের “ভরণ পোষণ” যোগান দেয় বাবা।

ছেলেবেলায় আমার একজন মাস্টার ছিলেন, যৌতুকের রঙ্গিন টিভি আর মটরসাইকেল পাননি বলে যিনি প্রতিদিন আক্ষেপ করতেন আর মনে মনে সিদ্ধান্ত নিতেন স্ত্রীকে বাপের-বাড়ি পাঠিয়ে জিনিসগুলো উশুল করবেন। একজন ‘শিক্ষিত’ পুরুষ বলে তিনি তার স্ত্রীকে অন্তত মারধর করে রক্তাক্ত করতেন না। বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম তার, তাই স্ত্রীর গায়ে তিনি হাত তুলতেন না, সত্যিই মহৎ তিনি। ভাগ্যবান তার স্ত্রী, ৪-৫ বার বাপের-বাড়ি গিয়েই স্বামীর দাবী পূরণ করতে পারতেন!

 

যৌতুকের প্রথা এখন উঠে গেছে, মানুষ সচেতন হয়েছে। হয় না এখন আর নগদ টাকার লেনদেন। তবুও মনে প্রশ্ন জাগে, আসলেই কি সব বদলে গেছে? আমার পড়শি সাইমার এঙ্গেজমেন্ট হল এক বছরের কিছু বেশি আগে, সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল কিন্তু হঠাৎ করেই মাত্র একমাস আগে বিয়েটা বন্ধ হয়ে গেল। বাবা-মার একমাত্র সন্তান, তাই রাজকুমারীর আদরেই বেড়ে উঠেছে সাইমা। মেয়েকে তার স্বপ্নের বিয়ের দিনটা উপহার দিতে বাবা-মা শেষ সঞ্চয়টুকুও বাকি রাখল না। ও যখন ইংল্যান্ডে মাস্টার্স করছে তখন ওর বাবা-মা দেশে বসে বিয়ের যাবতীয় আয়োজন শেষ করছিল। বরের জন্য ব্যাগভর্তি জিনিস নিয়ে দেশে ফিরে সাইমা জানতে পারে ওর বিয়েটা হচ্ছে না। কারন - তাদের স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে পারে না এমন পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক করতে বরপক্ষের আপত্তি।

 

আমার মনে আছে সাইমার মা খুবই চিন্তিত ছিলেন বরকে একটা রোলেক্স ডেটোনা ঘড়ি দিবেন কিনা এই নিয়ে। আগে যখন জিজ্ঞেস করেছিলাম “কেন আপনাদের সাধ্যের বাইরের একটা জিনিস উপহার দিতে চাইছেন”, সাইমার মা বলেছিলেন তিনি তার একমাত্র জামাইকে এটা উপহার দিতে চান। এখন জানতে পারলাম বরের বাবার শর্ত ছিল ওই মডেলের ওই ঘড়িই দিতে হবে তার ছেলেকে। প্রথমে ঘড়ির কথা মেনে নিলেও কনেপক্ষ পারেনি আর সব দাবি আর শর্তের বিশাল লিস্ট পূরণ করতে। বরের ডালার সব দামি আর ভাল ভাল উপহার থেকে শুরু করে অতিথিদের জন্য সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন ভেন্যু, তাদের মনোরঞ্জনের যথেষ্ট ব্যবস্থা—সবই করল সাইমার বাবা-মা। যে একটা দাবি অপূর্ন রয়ে গেল তা ছিল একটা গাড়ি! বরপক্ষ অবশ্য সরাসরি গাড়িটা দাবি করেনি, জামাইকে শ্বশুরের আশীর্বাদসূচক উপহার হবার কথা ছিল সেই গাড়ি। মেয়েকে মানুষ করার পেছনে যে বাব-মা সব সঞ্চয় ব্যয় করেছে তাদের পক্ষে আবার একটা গাড়ি দেয়া সম্ভব ছিল না। তাই বরপক্ষের মনে হল মেয়েপক্ষ আসলে তাদের স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে পারছে না—আর তাই সাইমা দেশে ফিরে জানল তার বিয়েটা হচ্ছেনা।

 

আমাদের এক পরিচিত খালাম্মার নতুন শখ ঘটকালি। বর্তমানে তার হাতে যেই ‘পাত্র’ আছে সে বারিধারা বা গুলশানে (উত্তর গুলশানে হলে ভাল) ফ্ল্যাট আছে এমন বাবার মেয়ে বিয়ে করতে আগ্রহী। ছেলে সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে যে একটা কথাই বারবার উঠে আসে তা হল তাদের জমিজমা আর ব্যাংক ব্যালেন্সের লম্বা ফিরিস্তি! আমি অবাক না হয়ে পারলাম না, আমি এতক্ষন ভাবছিলাম ছেলেটা রাস্তার ভিখিরি! অবশ্য এটাও ভাবতে ভাল লাগছে যে এখন ছেলেরা মেয়েদের উপর নির্ভরশীল হচ্ছে।

 

আমার পরিচিত এক মেয়ে, অদিতির (নাম পরিবর্তিত) বিয়ে হয় যে তাকে মনেপ্রানে ভালবাসে এমন একজনের সাথে। বাংলাদেশে আসলে প্রতিবারই শ্বশুরবাড়ির আদরে সে শ্বাসরুদ্ধ হবার উপক্রম হয়। আল্লাহ তাকে যেমন ভাল একটা শ্বশুরবাড়ি দিয়েছে, তেমনি শ্বশুরবাড়িকে দিয়েছে একটা এটিএম মেশিন। যেই মেশিন থেকে ঘরের নতুন এলসিডি টিভি, শ্বাশুড়ির আইফোন (যা সে ব্যবহার করতে পারে না), দুবাইতে ঘুরাঘুরি আর ব্যাংককে চিকিৎসা সবই আসে। যারা তাকে এত ভালবাসে তাদের পেছনে খরচ করতে অদিতির একটুও বাধে না। ভাবতেই খারাপ লাগে, অদিতির শ্বাশুড়ির ছোট ছেলের জন্য এমন ‘ভাল’ একটা বউ পাওয়া যায়নি।

মুসলিম সমাজে টাকার লেনদেন কেবল দেনমোহরের ক্ষেত্রে হওয়ার কথা, যা বর থেকে কনে পেয়ে থাকে। আগে এর বেশ প্রচলন থাকলেও  এখন এই দেন মোহোর, যা বিবাহবিচ্ছেদে অসহায় একটা মেয়ের নিরাপত্তা কবচ, ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। অবাক ব্যাপার এই যে, যেসব পাত্রেরা গাড়ি, বাড়ি বা দামি উপহারের দাবি করাকে মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে ফেলে, তারাই দেনমোহোরের পরিমাণ নিয়ে দর কষাকষি করে। এই চিত্র আমাদের সমাজের প্রায় প্রতিটি ঘরে।

নিজের মেয়েকে সবার কথার খোরাক বানাতে কোন বাবা-মাই চান না। তাই বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার মত কাজ তারা কখনই করতে পারেননা। তার পরও কখনও কখনও এই কষ্টসাধ্য কাজটাই করতে বাধ্য হন তারা। যদি ‘না’ বলতেই হয়, তবে বাবা-মাকে এই কষ্ট থেকে মুক্তি দিয়ে মেয়েটিরই উচিৎ সবার আগে ‘না’ উচ্চারণ করা।

Respecting your privacy is core to Maya's beliefs.
You can comment "Anonymously" or use your screen ID.
More

Respecting your Privacy

At Maya we firmly believe that women have the right to express themselves freely and without any concerns. As a result, our default setting for any posting and commenting is either "anonymous" or your screen ID.

Click Here for more about our Privacy Policy.

Register for Updates

Sign up now to receive Maya updates straight to your inbox!
register now