Maya Voice
Anybody Can join
একজন সুস্থ মা মানেই সুস্থ একটি ভবিষ্যত
Listed in Conception

নিরাপদ প্রসব মায়ের অধিকার – এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২৮ শে মে সারাদেশে পালিত হলো নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস – ২০১২। মাতৃস্বাস্থ্য, নিরাপদ প্রসব, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি সম্পর্কে মা, পরিবার ও সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সকলের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাই ছিল এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ১৯৯৭ সাল থেকে বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।
একজন নারীর পূর্ণতা আসে মাতৃত্বে। প্রতিটি মেয়ে মানেই ভবিষ্যত মা। প্রতিটি মেয়ের মনেই আশৈশব লালিত থাকে মা হওয়ার স্বপ্ন। বয়ো:সন্ধিকাল থেকে শুরু করে সেই স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যায় একজন কিশোরী। কৈশোর থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক যেকোনো মেয়ের জীবনচক্র নানান জটিলতায় আবর্তিত হয়। উন্নত বিশ্বে পরিবার থেকে সমাজ বা রাষ্ট্র দায়িত্ব নেয় এই জটিলতাগুলো ভেঙ্গে একটি মেয়েকে পূর্ণাঙ্গ মায়ে রূপ দিতে। কিন্তু আমাদের মতো উন্নয়নশীল বিশ্ব, যেখানে সমাজ পরিচালিত হয় রাজনৈতিক রূপরেখা প্রণয়নকে শিরোধার্য করে, সেখানে ব্যক্তিমানুষ থাকে অবহেলিত। মেয়েরা শিকার হয় চরম অবহেলার। আমাদের এই কাঠামোর খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, নিরাপদ মাতৃত্বের অধিকার যেমন একটি মানবাধিকার, তেমনি নিরাপদ প্রসবের সব ধরনের সুযোগ পাওয়াও একজন মায়ের অধিকার। আর রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব সেই অধিকার নিশ্চিত করা।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, দেশের গর্ভকালীন জটিলতার কারণে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নারী দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্বের শিকার হন। শিশুর জন্মের পর অতিরিক্ত হারে রক্ত যাওয়াটাই হচ্ছে প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ (পিপিএইচ)। এমনকি এ সময়টাতে অল্প পরিমাণে রক্ত গেলেও তা রক্তশূন্যতায় ভূগছে এমন নারীর জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকাংশ নারীই রক্তশূন্যতায় ভূগে থাকেন। পাঁচ লাখেরও বেশি মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ হচ্ছে পিপিএইচ এবং সারাবিশ্বে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে যতসংখ্যক মা মারা যায় তার শতকরা ২৫ ভাগের জন্যই দায়ী প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ। আফ্রিকায় প্রায় ৩৪ ভাগ এবং এশিয়ায় শতকরা ৩০ ভাগেরও বেশি মায়ের মৃত্যু হয় পিপিএইচ এর কারণে। বাংলাদেশে গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত শতকরা ২২ ভাগ মাতৃমৃত্যুর জন্য দায়ী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রসবকালীন মৃত্যুহার কমানোর বিষয়ে বর্তমান সময়ে মনোযোগ থাকলেও যারা বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে নানারকম দুর্ভোগ নিয়ে বেঁচে আছেন, তাদের দিকে পরিবার, সমাজ বা রাষ্ট্রের নজর একেবারে নেই বললেই চলে।
সরকার ২০০৩ সাল থেকে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহায়তায় ফিস্টুলা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। শুধু বিলম্বিত প্রসবের কারণে সৃষ্ট জননতন্ত্রের এ জটিলতায় ভুগছেন মোট ৭১ হাজার নারী (চিকিৎসা নিতে আসা)। চিকিৎসা ছাড়াই জীবন পার করে দিচ্ছেন এমন নারীর সংখ্যাও কম না। প্রসব পরবর্তী জরায়ু নেমে যাওয়া, তলপেটে ব্যথা, রক্তস্বল্পতা, বিষন্নতাসহ অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধে সরকারের তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম নেই। কত নারী এ ধরনের অসুস্থতায় অচল হয়ে পড়ছেন তারও কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই।
মূলত: গর্ভকালীন জটিলতা, দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা দানকারীর অনুপস্থিতি, প্রয়োজনীয় যত্নের অভাব, এ বিষয়ে পরিবারের অসচেতনতা, প্রসব-পরবর্তী সেবাযত্নের অপ্রতুলতায় একজন মাকে ঠেলে দিচ্ছে সীমাহীন অনিশ্চয়তা, দুর্ভোগ আর কষ্টের মুখে।
বাংলাদেশে জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ ২০১১ এর প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, বর্তমানে মাত্র ৩২ শতাংশ মা প্রসবকালে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা পান। প্রসবের দুই দিনের মাথায় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে পরামর্শ পান মাত্র ২৭ শতাংশ। অথচ মাতৃমৃত্যু ও অসুস্থতার কারণগুলো বজায় থাকে সন্তান জন্মের পর কমপক্ষে ৪২দিন পর্যন্ত।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০০৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ শতাংশ নারী দীর্ঘমেয়াদে পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছে। সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, গর্ভাবস্থা, গর্ভকালীন সংক্রমণ ও প্রসবকালীন জটিলতা একজন মাকে অনেক ক্ষেত্রে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিচ্ছে। এখনই সময় এদিকে বিশেষ নজর দেওয়া।
একজন সুস্থ মা মানেই একটি সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যত- একথা মনে রেখে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ পরিচালিত হওয়া উচিত।
(পরিসংখ্যান দৈনিক প্রথম আলো সূত্রে প্রাপ্ত)



Respecting your privacy is core to Maya's beliefs.
You can comment "Anonymously" or use your screen ID.
More