Maya Voice
Anybody Can join
শিশুরা যখন বিছানা ভেজায়
Listed in

অনেক মাকেই এই সাধারণ একটা অভিযোগ করতে শোনা যায় যে, কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না শিশুদের রাতে বিছানা ভেজানো থেকে। শৈশবে রাতে বিছানা ভেজানোর অভ্যাস কম-বেশি সব শিশুরই থাকে। যদিও অভ্যাসটি খুবই বিরক্তিকর, আর এই বিরক্তি থেকেই জন্ম নেয় পারিবারিক অশান্তি ও দুশ্চিন্তার। অনেক বাবা-মা আছেন, যারা এ কারণে বাচ্চাদের মারধরও করে থাকেন। আবার এমনও অনেকে আছেন, শৈশবের সেই অভ্যাস তাদের বড় হলেও থেকে যাচ্ছে। কাজেই বিষয়টা যতোটা জটিল মনে হয়, ততোটা জটিল না হলেও সমস্যা কিছুটা আছেই। শিশুর বিছানা ভেজানো কোনভাবে মেনে নেওয়া গেলেও যখন সে বড় হয়েও একই কাজ করে, তখন এটা আর ফেলনা থাকে না। এ থেকে জন্ম নেয় অনেক সামাজিক বিপত্তিরও।
বাচ্চারা কখন এটা করে?
সাধারণ ক্ষেত্রে তিন-চার বছর পর্যন্ত বয়সী বাচ্চাদের স্বাভাবিকভাবে বিছানায় প্রস্রাবের সময় ধরে নেওয়া হয়। একটা নির্দ্দিষ্ট বয়স অর্থাৎ তিন বছরে এসে কোন কোন শিশু তাদের মূত্রথলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। আবার এমন শিশুও আছে, যে কিনা জন্মের কয়েক মাস পরই শিখে যায় কখন সে প্রস্রাব করবে। সে তখন কোন একটা সাংকেতিক ভাষা বা আচরণ করে থাকে, যা দেখে মা কিংবা বাবা বা দেখভালকারী বুঝে যান, সে আসলে কী বলতে চাইছে। এটা শেখানো সম্ভব। একটু যত্নশীল হলেই এই বাড়তি বিড়ম্বনা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। পরে এ নিয়ে আলোচনা করছি।
বিছানা ভেজানোর পিছনে কারণ কি কি
এর পিছনে শারীরিক কারণ যেমন আছে, তেমনি আছে মানসিকও। শিশু অবস্থা থেকে কেউ যদি বড় হয়েও একই ঘটনা ঘটান, তবে ধরেই নিতে হবে যে, তার মানসিক কোন কারণ আছে। তাকে অহেতুক গালমন্দ বা সমালোচনা করে দেখতে হবে, পিছনের কারণটা কি? শারীরিক কারণের মধ্যে আছে, অসুস্থতা, মানসিক বিকাশের স্থবিরতা (সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়), পরিবেশগত ব্যাঘাত (মানে স্থানচ্যুতি), বংশগত প্রভাবও এক্ষেত্রে অনেকাংশেই দায়ী। অন্যদিকে মানসিক কারণের মধ্যে আছে, স্বল্পবুদ্ধি, তাকে প্রস্রাব করতে না শেখানো বা অভ্যাস না করানো, শিশুর প্রতি অবহেলা, পারিবারিক অশান্তি, শিশুর অতিরিক্ত আবেগ ইত্যাদি।
কয়েকটি উদাহরণ:
পরিচিত একজন আছে যে কিনা অনেক বড় হয়েও বিছানা ভিজিয়ে ফেলতো। তাকে এ নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে বলতো, প্রতি রাতে স্বপ্নে তাকে নাকি কোন একজন পয়সা দেয় বিছানায় প্রস্রাব করার জন্য। আর সে তা করে। আবার একজন জানায়, সে প্রতি রাতেই ঘুমাতে যাওয়ার আগে টয়লেট করেই শুতে যেতো। কিন্তু তারপরও ঘুমের মধ্যে প্রস্রাবের বেগ পেলে সে সজাগ হতে পারতো না। তখন সে ওই ঘুমের মধ্যেই ভাবতো যে, টয়লেটে বসে সে প্রস্রাব করছে। একপর্যায়ে বিছানা ভিজে যাওয়ার পর তার ঘুম ভাঙতো। এ ঘটনা তার জীবনে দিনের পর দিন ঘটতো। এমনকি বড় হওয়ার পরও এখন এই পরিণত বয়সে এসেও নাকি প্রায়ই তার এই ঘটনা ঘটে যায়। কিন্তু কোনদিন এ নিয়ে লজ্জায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়নি সে।
শিশু জন্মের পর প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রস্রাব-পায়খানা করবে, এটাই নিয়ম। এর ব্যত্যয় ঘটলেই সমস্যা, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তবে সবকিছুই হয় একটা নিয়মের মধ্য দিয়ে। কোন শিশু রাতে খুব কমই জাগে এবং বিছানা ভেজায়। আবার কোন শিশু আছে, যারা দিনে ভাল থাকে, কিন্তু রাত হলেই একটু পর পর ঘুম থেকে জেগে উঠে বিছানা ভেজায়। এসব শিশুর মায়েদের সমস্যার অন্ত নেই। এক হচ্ছে, রাতজাগা সমস্যা, দুই, একটু পর পর ন্যাপি পাল্টানো। অনেক মা আছেন, যারা একটি নির্দ্দিষ্ট সময় পর পর বাচ্চাকে পটিতে বসানোর অভ্যাস করেন। সেক্ষেত্রে শিশুটি শিখে যায়, কখন তাকে পটি ব্যবহার করতে হবে। এভাবে দিন কয়েক চেষ্টার পর শিশুটি অনায়াসেই শিখে ফেলে প্রস্রাবের সময় তার করণীয় কি!
চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কী?
অবশ্যই আছে। নবজাতক শিশু বিছানা ভেজালে তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দিন যতো যাবে, ততোই তাকে খেয়াল । রাখতে হবে। মূত্রতন্ত্রের কোনরকম অসুস্থতা বা জন্মগত কোনো ত্রুটি ছাড়া বাচ্চা যদি বিছানা ভেজায়, অথবা দিনের বেলায়ও বার বার কাপড় ভেজায়, তখন এ ধরনের সমস্যাকে ‘এনিউরেসিস’ বলা হয়। বাচ্চাদের এ জাতীয় সমস্যার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই মানসিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে এবং বাকি ৫ থেকে ১০ শতাংশ হয় মূত্রথলির ত্রুটির কারণে।
আর এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রথমে বাবা-মায়ের কাছ থেকে পুরো ইতিহাসটা জানতে হয়। মা-বাবার বংশগত এমন কোন ইতিহাস আছে কিনা, শিশুর জন্ম ইতিহাস, পারিবারিক কোনো সমস্যা, মা-বাবার সাথে শিশুর সম্পর্ক, মানসিক বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা এসবই আমলে নেওয়া হয়। এনিওরেসিস কেন হয়েছে, সেটা বিবেচনা করা হয় আগে। অনেক সময় শিশুর ডায়াবেটিসও হয়ে থাকে। কাজেই সব ধরনের পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
প্রথমেই ধরে নিতে হবে যে, এটা কোন জটিল সমস্যা নয়। সবার সহযোগিতা থাকলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আর বাচ্চা যদি বুঝতে সক্ষম হয়, তাহলে তাকে সমালোচনা না করে বোঝাতে হবে যে, তার পাশে সবাই আছে। কখনও তাকে এজন্য গালমন্দ করা যাবে না। অনেকেই এই ভুলটা করে থাকেন। ফলে শিশু কুঁকড়ে থাকে এই ঘটনার পর, হীনমন্যতায় ভূগে। সবার সামনে অপমান বোধ করে। এটা করতে দেওয়া যাবে না।
রাতে কম পানি খাওয়ানো, কয়েকবার উঠিয়ে প্রস্রাব করানো, শিশুকে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করা, প্রয়োজনে তাকে বিছানা না ভেজানোর জন্য পুরস্কৃত করা, এসবই ইতিবাচক পদক্ষেপ। শিশু একটু বড় হলে তাকে দিয়ে ভেজা বিছানার চাদর পাল্টাতে দিন, বা ধুতে বলুন। এতে করে তার আত্মনির্ভরশীলতা বাড়বে।
কি ধরনের ওষুধ দেয়া হয়
এমিট্রিপটাইলিন বা মেলিপ্রামিন ট্যাবলেট কম ডোজে কয়েকবার দেওয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ফল পাওয়া যায়। মনে রাখতে হবে, এই ঘটনায় শিশুর ওপর কোন ধরনের মানসিক অত্যাচার বা শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করা যাবে না। তাহলে তার মানসিক বিকাশই বাধাগ্রস্ত হবে। ধৈর্য্য, সহানুভূতি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই হবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চিকিৎসা।
নোট
যেসব শিশু বড় হওয়ার পরও এই ঘটনা অব্যাহত থাকে তাদের দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা খুব জরুরি। নয়তো উপরের গল্পের মতো এটা সারাজীবনের মতোই স্থায়ী রূপ নিতে পারে।



Respecting your privacy is core to Maya's beliefs.
You can comment "Anonymously" or use your screen ID.
More
Dear User,
Reply 0 Recommended by MayaSince your son is 6+, it might be a good idea to get in touch with a pediatrician now. It may be simply because of stress or fear. Often children start bed wetting to get attention, such as when a new child comes to the family or when there is some sudden change such as starting school.
Talk to your child to find out if there is anything that might be troubling him before taking any measures.
I am facing the same problem with my 6+ yr kid. he is not doing it regularly but often it is done. So do I need to consult a doctor or shoudl I give him more time to overcome?
Reply 0 Recommended by Maya