Login
বাংলা

Maya Voice

Anybody Can join



আপনি আবারও অন্তসত্বা: এটা কি নিছকই দুর্ঘটনা?

By Gazi Sakir
Published: 19 July, 2012

Listed in Teen Health

এ জীবনে আমরা সবাই কমবেশি অনেকবার একটি কথা বলতে শুনেছি, ‘তৃতীয় সন্তানের কোন পরিকল্পনাই আমাদের ছিল না’ অথবা ‘এটা ছিল নিছকই একটা দুর্ঘটনা। এরপরেই আপনি হয়তো শুনে থাকবেন যে, এই ঘটনাকে তারা আশীর্বাদ হিসাবেই দেখছেন এবং এই নিছক ভুল নিয়ে তারা বেশ গর্বিত। দুর্ভাগ্যবশত সব গর্ভধারণ শেষ পর্যন্ত এতো সুখের থাকে না। এ ধরনের দুর্ঘটনার ফলাফল পেশাদার চিকিৎসকের জীবাণুমুক্ত গর্ভপাত থেকে শুরু করে অবৈধ উপায়ে গর্ভপাত দিয়েও শেষ হতে পারে।  অনেকে আবার গর্ভাবস্থার তিন মাস পেরিয়ে যাওয়া পরও গর্ভপাত করান।

কয়েক সপ্তাহ আগে এক মায়ের সাথে আমার দেখা। তিনি তার সবশেষ গর্ভাবস্থা নিয়ে কথা বলছিলেন। একটি এক বছরের ছেলে আছে তার, বাড়িতে টাকার সমস্যাও প্রকট। এ অবস্থায় তিনি এই সন্তান চাইছিলেন না। কিন্তু  মাস পাঁচেক আগে তার মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে তিনি স্ট্রিপ টেস্ট করেন। এতে ধরা পড়ে যে, তিনি আবারও মা হতে যাচ্ছেন। তিনি তার স্বামী, মা ও শাশুড়িকে একথা জানালে তারা গর্ভপাতের পরামর্শ দেন। তার স্বামী তাকে দুটো পিল এনে দেন এবং তাকে বলা হয় যে ১২ ঘন্টার ব্যবধানে এ পিলদুটো খেতে হবে। কিন্তু  পিল দুটি কোন কারণে যদি কাজ না করে সেজন্য পরদিনই তার শাশুড়ি তাকে আরও একটি পিল এনে দেন। এর একদিন পরই তার মাসিক আবার শুরু হয়ে যায় এবং তা চলতে থাকে প্রায় এক মাস ধরে। টানা এতোদিন রক্তক্ষরণের কারণে তিনি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়েন। তার রক্তশূন্যতা দেখা দিলে তাকে কাছাকাছি একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে তার ডিএন্ডসি করানো হয়। ডিএন্ডসি হচ্ছে ডিম্বাশয়ের ভিতরে কোন টিস্যু থেকে থাকলে তা বের করে আনার একটি প্রক্রিয়া। এসময় পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে অবশ করে নেওয়া হয়। কিন্তু এই দুর্ভাগা মায়ের ডিএন্ডসি করানো হয় কোনরকম অ্যানেস্থেসিয়া বা বেদনানাশক ইনজেকশন ছাড়াই। কোন হাসপাতালেও তাকে নেওয়া হয়নি, এবং পরবর্তীতে কোন চিকিৎসকেরও  পরামর্শ নেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার এক সপ্তাহ পরও তার রক্তক্ষরণ অব্যাহতই ছিল। এসময় তিনি একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে সেই চিকিৎসক তাকে কিছু পরীক্ষা করাতে বলেন, সেইসাখে কিছু ওষুধও লিখে দেন রক্ত বন্ধের জন্য।  এরপরই তিনি আলট্রাসনোগ্রাম করালে দেখা যায় যে, তার জরায়ুর মারাত্মক ক্ষতি হয়ে গেছে। ডিএন্ডসির সময় অতিরিক্ত টানাহেঁচড়াই এমন ক্ষতির কারণ। ফলাফল হলো যে, বয়সে তরুণ এই মা আর কোনদিনই আর কোন শিশুর জন্ম দিতে পারবেন না।

এটি কোন বিক্ষিপ্ত ঘটনা না। খোঁজ নিলে ঘরে ঘরে এমন অনেক গল্প বেরিয়ে আসবে। ১৯ বছরের একটি মেয়ে, এখনও বিয়ে হয়নি। পেটে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তাকে নিয়ে আসা হলো হাসপাতালে । আলট্রাসনোগ্রামে ধরা পড়লো যে, তার জরায়ুতে বেশ বড় একটা কিছু রয়েছে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলার পর জানা গেল যে, এই বস্তুটি আসলে গর্ভপাতের পর থেকে যাওয়া টিস্যু একটি। দুর্ঘটনাক্রমে মেয়েটি অন্ত:সত্বা হয়ে পড়েছিল। একটি ক্লিনিকে গিয়েছিল এমআর (মাসিক নিয়মিতকরণ) করাতে। এমআর সাধারণত মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ১৫দিনের মধ্যে করানো হয়। তাছাড়া, এটি কোন দক্ষ আর প্রশিক্ষিত কর্মী দিয়েই করানো উচিত। কিন্তু এই মেয়েটির ক্ষেত্রে যা হলো, তা হচ্ছে, এমআর করালেও টিস্যুর সবটুকু সরানো হয়নি। ফলে এটি ক্রমেই বড় আকার নিয়েছে, আর এমআর এর সময় জীবাণুমক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় কিছু সংক্রমণও ঘটে গেছে এরই মধ্যে। আর এটাই ছিল মেয়েটির প্রচণ্ড পেটে ব্যথার কারণ। এক সপ্তাহ এই অসহ্য ব্যথা নিয়ে থাকার পর অবশেষে সে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়।

আমাদের  দেশে এমন অসংখ্য ক্লিনিক আছে যেখানে কোন লাইসেন্স প্রাপ্ত চিকিৎসক নেই। অদক্ষ হাতেই চলছে সেখানে অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা। এমআর করানো হচ্ছে নার্স বা ধাত্রীদের হাতে। ধাত্রী অথবা দক্ষ প্রসব সহায়তাকারীরা এই ক্ষেত্রে খুব কমই প্রয়োজনীয় জ্ঞান রাখেন। অথচ এসব ক্লিনিকে তারাই সন্তান প্রসব করাচ্ছেন, গর্ভপাত ঘটাচ্ছেন অপেক্ষাকৃত কম টাকায়। কিন্তু  তার বিনিময়ে ঝুকির মুখে পড়ছে মা ও শিশুর জীবন। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণনাশও ঘটছে।  শুধুমাত্র এটাই ধরি না কেন, একটি শিশুকে হারিয়ে বা সারাজীবনের মতো সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারানোর পর একজন মায়ের মানসিক অবস্থা কী দাঁড়ায়?

অথচ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে কয়েকবার গেলে, কিছু পরীক্ষা করালে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মতো জন্মনিরোধক কোন ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়ানো সম্ভব। জীবনও রক্ষা পায় অনেক। সব ধরনের জন্মনিরোধক পদ্ধতি শতকরা ১০০ ভাগ কার্যকর নাও হতে পারে। কিন্তু সেগুলো গর্ভপাতের চেয়ে উত্তম। আরেকটা কথা, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়াতে কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতিও আছে, পাশাপাশি আছে পিল বা কনডম জাতীয় ব্যবস্থাও। গর্ভধারণ এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, নিজের মাসিক চক্রকে ভাল করে জানা, কোন সময়টা গর্ভধারণের জন্য ভয়াবহ সময়, কোন নিরাপদ সময় সেটা জেনে সামনে এগোনোই ভাল। আর মাসিকের সময় যৌন সম্পর্ক এড়ানো উচিত।

আর এগুলো আরও ভাল করে জানতে হলে, অর্থাৎ আপনার জন্য যৌন সম্পর্কের নিরাপদ সময় কোনটি বা কোন সময়ে আপনার ডিম্বস্ফোটন ঘটে তা জানতে পরামর্শ নিন চিকিৎসকের । আর এই পদ্ধতি সম্পর্কে ভাল করে জানা থাকলে অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ যেমন এড়ানো সম্ভব, তেমনি পরিকল্পনা করে একটি সুস্থ, সুন্দর শিশুর জন্মদানও সম্ভব।

Respecting your privacy is core to Maya's beliefs.
You can comment "Anonymously" or use your screen ID.
More

Respecting your Privacy

At Maya we firmly believe that women have the right to express themselves freely and without any concerns. As a result, our default setting for any posting and commenting is either "anonymous" or your screen ID.

Click Here for more about our Privacy Policy.

Register for Updates

Sign up now to receive Maya updates straight to your inbox!
register now