Maya Voice
Anybody Can join
মায়ের জন্য একটি দিন: কি করবেন আপনি?
Listed in Special needs: parents, Maa Dibosh

মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘মা, মা দিবসে তোমাকে কিছু একটা দেবো। কি পছন্দ কর তুমি?’ বিন্দুমাত্র না ভেবেই মায়ের উত্তর, ‘এমন একটি দিন দাও, যেদিন তুমি আমায় শান্তিতে থাকতে দেবে’। যদিও কথাটা শুনেই যেকেউ বলবে যে, আমি খুবই দুষ্ট প্রকৃতির, খুবই জঘণ্য একজন মানুষ, যে কিনা মাকে শুধু জ্বালাতনই করছে। আসলে কিন্তু তা না। আমার মাকে যারা জানেন, বা চেনেন, তারাই বুঝবেন এটা ছিল মায়ের রসিকতারই একটি অংশ। আমার মা-টা এমনই।
মায়ের জন্য আসলে কিছু কেনা খুব কঠিন একটা কাজ। মায়ের খুব অদ্ভুত। ছেলেমেয়েরা সাধারণত তাদের জন্মদিন, ঈদ বা পূজায় একটা তালিকা ধরিয়ে দেয় মা-বাবাকে, আর মা-বাবা? তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন। একই উত্তর, কিছু লাগবে না। এর পরের ঘটনা কিন্তু আরও করুণ। আপনি যদি সত্যি সত্যিই মায়ের কথা শোনে কিছুই না কেনেন, তাহলেও কিন্তু মন খারাপ হবে তাঁর। আবার কিছু কিনেই ফেললেন, তখনকার দৃশ্যটা এরকম। তিনি আপনার ওপর কপট রাগ দেখাবেন, ‘কেন এত টাকা খরচ করতে গেলে?’, বা ‘শুধু শুধু টাকা খরচ করার জায়গা পাও না ?’ বা ‘এগুলোর তো দরকার ছিল না’ বিষয়টা এমন যেন উপহার শুধু দরকার হলেই দেয়। আপনি এখন যাবেন কোথায়? এই মায়েদের নিয়ে বেশ ঝামেলায়ই পড়তে হয় কম-বেশি সবাইকে। কিন্তু তারপরও তো মা, মা-ই। শত রাগ, শত অভিমানের পরও একবার মায়ের মুখটার দিকে ভাল করে তাকান, একটু আদর করে কাছে ঘেঁষেন, দেখবেন, মায়ের মমতা আর ভালবাসার কাছে পৃথিবীর সবকিছু তুচ্ছ।
মা দিবসকে সামনে রেখে সম্ভাব্য কিছু উপহারের কথা উল্লেখ করা হলো এখানে। চেষ্টা করেই দেখুন না, একদিনের জন্য হলেও মাকে খুশি করা যায় কিনা! উপহার হিসেবে সেরা ১০ কি কি হতে পারে?
বিস্কুট/চকোলেট/পিঠা - আপনার মা কি খেতে পছন্দ করেন? তাহলে এটা হবে অনন্য এক উপহার তার জন্য। প্রথমে একটি সুন্দর দেখে ঝুড়ি কিনুন। কোনো ফুলের দোকান বা বিয়ের সামগ্রীর দোকান থেকে পেতে পারেন এটি। আড়ং বা এ জাতীয় দোকানেও পেয়ে যেতে পারেন নানান আকারের, ডিজাইনের সব ঝুড়ি বা বাস্কেট। এবার পছন্দমতো চকোলেট, বিস্কুট আর পিঠা কিনুন। কুপারস এবং সিএফসি’র সুস্বাদু সব বিস্কুট আছে, যা কিনা সুদৃশ্য বাক্সেই পাওয়া যায়। পিঠা কিনতে পারেন এমন অনেক দোকানই আছে। ঢাকার কলাবাগানের বিক্রমপুর সুইটস এর পিঠা ঘর আছে, এছাড়া প্রবর্তনাতেও পাওয়া যায়। সুন্দর মোড়ক করে নিন র্যাপিং পেপার দিয়ে। ঝুড়ির হাতলটিও ফুল দিয়ে সাজিয়ে নিতে পারেন। দেখবেন, আপনার মায়ের মনটাই ভাল হয়ে যাবে এই উপহার দেখে।
বই: মা দিবসে বইও হতে পারে মায়ের জন্য চমৎকার এক উপহার। আপনি পড়েছেন, এবং পড়ে ভাল লেগেছে তেমন কোন বই কিনে দিন মাকে। আমি নিশ্চিত যে, উনারও সেটি পড়ে ভালোই লাগবে। তবে ভুলে যাবেন না, বইটিতে আপনার দু লাইন লিখে দিতে। এতে মায়ের খুশি কেবল বাড়বেই। আসলে বই হতে পারে প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে আপনি কি ভাবছেন তার অন্যতম এক উদাহরণ।
মায়ের যৌবনকালের কোন সিডি বা গানের সংকলন: আপনার মাকে পুরনো দিনের গানের সিডি কিনে দিতে পারেন, তাঁর যৌবনকালে হয়তো তিনি উত্তম-সুচিত্রার ছবি দেখতেন, সেই জুটির কোন ডিভিডিও কিনতে পারেন, অনেকদিন পর সেই ছবি বা গান শুনে আমি নিশ্চিত তিনি ফিরে যাবেনই সেই পুরনো দিনে। আবার তার বেড়ে উঠার সময়টায় তিনি যদি পাশ্চাত্য ঘরানার গান শুনে থাকেন, তবে তাকে দিতে পারেন অ্যাবা বা টম জোনসের কোন সিডি। আর আপনার বাজেটে যদি কুলোয় তবে আইপড বা সনি এমপি থ্রি ওয়াকম্যানও কিনে দিতে পারেন। সেখানে ভরে দিতে পারেন পুরনো সেই দিনের গানের পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সুপার হিট কিছু গানও। এক্ষেত্রে আপনার মায়ের রুচিটা একটু জানা থাকলেই মুশকিল আসান।
পার্লারে নিয়ে যেতে পারেন মাকে। মায়েরা সাধারণত নিজেদের জন্য খুব কমই সময় বের করতে পারেন, বা করেন। দিনের একটা বড় অংশ আপনি ব্যয় করতে পারেন মায়ের সাথে। মাসাজ, পেডিকিউর, মেনিকিউর বা ফেসিয়াল সবই দুজনের একসঙ্গে বসেই করা যায়। এতে দুজনের বন্ধুত্ব আরো বাড়বে বৈ কমবে না। নতুন কোন পদ্ধতি এসে থাকলে সেই সম্পর্কেও জানান মাকে। যে মা কিনা সময়ের অভাবে নিজের প্রতি যত্ন নিতে ভুলে গেছেন বেশ ক বছর আগেই, তার জন্য এটা একটা চমৎকার গিফট হতে পারে নি:সন্দেহে।
আগেই বলেছি উত্তম-সুচিত্রার ছবির কথা। আমাদের অনেকের দাদী-নানীই পছন্দ করতেন এ জুটিকে। এমনকি মায়ের সঙ্গে বসে আপনিও হয়তো অনেক সময় দেখেছেন এঁদের ছবি। ডিভিডির পাশাপাশি সম্ভব হলে পপকর্ন বা মুড়ি-মুড়কি জাতীয় খাবার কিনে বাসায় আসুন, মজা করে, আয়েশ করে মায়ের সাথে বসে সিনেমাটা দেখুন। আমি বলছি, পুরো পরিবেশই তখন অন্যরকম আমেজ এনে দেবে। শুধু উত্তম-সুচিত্রা কেন, ক্যাসাব্লাঙ্কা বা মাই ফেয়ার লেডিও হতে পারে এইক্ষেত্রে যুৎসই উপহার।
সম্ভব হলে এ দিনটাতে মাকে অবাক করে দিন নিজের হাতে কিছু রান্না করে। কেক জাতীয় কিছু বিশেষ খাবার বানাতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনারা আমাদের রেসিপিও ব্যবহার করতে পারেন।
মাকে এই বিশেষ দিনটাতে একটু নস্টালজিক করে দিতে চান? ভাবনা নেই। পুরনো ছবির অ্যালবাম নিয়ে বসুন মায়ের কাছে। তার আগেকার সুন্দর ছবিগুলো নিয়ে নতুন একটি অ্যালবাম বানিয়ে দিন। আরেকটু সম্ভব হলে মায়ের বন্ধুদের বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পুরনো ছবি সংগ্রহ করে রাখুন আগে থেকেই। মাকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার জন্য সেই ছবিগুলোও অ্যালবামে লাগিয়ে দিন। দেখুন, মায়ের মুখটা কেমন জ্বলজ্বল করছে না? মায়ের চোখের কোণে কি জল দেখছেন আপনি? জড়িয়ে ধরুন মাকে। এমন আশ্বাসের জায়গা কোথায় আর আছে?
আপনার নিজের বর্তমান সময় নিয়ে স্ক্র্যাপবুক তৈরি করে মাকে দিন। যারা মায়ের কাছ থেকে দূরে আছেন, তারা এটা করে দেখতে পারেন। নিজেকে নিয়ে একটা সুন্দর ছোট স্ক্র্যাপবুক বানিয়ে ফেলুন। এখনকার অফিস, বন্ধু, যেখানে আপনি যেতে পছন্দ করেন, দেশের বাইরে থাকলে সেখানকার রুম বা বাড়ির ছবি নিয়ে সাজান বইটি। প্রতিটি ছবির নিচে চমৎকার সব ক্যাপশান লিখুন। আপনি জানতেও পারবেন না এর মধ্য দিয়ে আপনি আপনার মায়ের কত কাছে চলে এসেছেন। আর যদি গত কয়েক বছর আপনাদের মধ্যে একটা দূরত্ব কোন কারণে হয়েও থাকে, তাহলে জানবেন আপনার এই ছোট্ট উদ্যোগ তাও ঘুচিয়ে দেবে।
কূপনের ব্যবহার: একবার মনে করে দেখুন, আপনার ছোট্টবেলার কথা। কেমন ছিলেন আপনি? দুষ্ট? চঞ্চল? যদি দুষ্ট হয়ে থাকেন, তবে আপনার মা যে আপনাকে নিয়ে কী বিড়ম্বনাই না পার করেছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘মা, খিদে পেয়েছে’, ‘মা, আমার লাল রংয়ের শার্টটা কোথায়’...এমন সব আব্দার মেটাতে গিয়ে মা নিশ্চয়ই আপনার ক্লান্ত হয়ে যেতেন। এটাই যদি হয়, তবে কূপন চালু করে দেখতে পারেন, হয়তো কাজে লাগবে। এজন্য দরকার হবে কিছু রঙিন প্যাড, পেন্সিল। ছোট করে রঙিন কাগজ কেটে ভিজিটিং কার্ডের মতো বানিয়ে নিন। তাতে লিখুন, ‘লন্ড্রি ডিউটি’, ক্লিনিং বাথরুম’, ‘কেনাকাটা’, ইত্যাদি। মজার মজার বিষয়ও এর সঙ্গে যোগ করতে পারেন। লেখা শেষ হলে মা দিবসে মায়ের হাতে তুলে দিন, এবং বলুন যে, যেদিন মা আপনার হাতে যে কার্ডটি তুলে দেবেন, আপনি তাই করবেন। এই কাজগুলো আপনার জন্য। আর সত্যি সত্যিই কাজগুলো ঠিকমতো করে অবাক করে দিন মাকে।
মায়ের জন্য রান্না: এটা হতে পারে সকালের নাশতা, অথবা রাতের খাবার, যেকোনো। ফুল দিয়ে সাজান খাওয়ার টেবিল। মোমবাতি জ্বালাতে পারেন। আর একান্তই যদি রান্না না করতে পারেন, তাহলে ভাল একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যেতে পারেন মাকে। এমন একটি দিনে বাবাকেও সঙ্গে নিতে পারেন। সেলফোনটাকে আজকের মতোন বিদায় জানিয়ে দিন, সময়ের পুরোটাই থাকুক না আজ পরিবারের একেবারে আপন জনদের জন্য।
সবশেষে বলতে চাই, আমার মায়ের মতো আপনার মাও নিশ্চয়ই আর চুপ করে থাকবেন না। তিনিও বলবেন, কি তিনি ভালবাসেন, আর কি পছন্দ তার। তিনি অবশ্য অবশ্যই বলবেন যে, তিনি চান আরো বেশি সময় তাকে দিক সবাই। আর এটা স্বীকার করতেই হবে যে, বড় হওয়ার সাথে সাথে মাকে সময় দেওয়াটাই যেন সবচেয়ে কঠিন হয়ে গেছে আমাদের জীবনে। তাই মাকে সময় দিন, নানান বিষয় নিয়ে কথা বলুন মায়ের সাথে, মাকে বুঝতে দিন যে আপনি তাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। এটা খুব প্রয়োজন পারিবারিক সম্পর্কের জন্য। তাছাড়া জীবনের পরবর্তী পর্যায়ে আজকের এই দিনটাই তো মনে করার মতো দিন হয়ে থাকবে।
(বি.দ্র. বছরের প্রতিটি দিনই মাকে ভালবাসার দিন, তবে এই একটি দিন যেন স্মরণীয় থাকে সেই চেষ্টা আমাদের সবারই করা উচিত। তাই নয় কী?)



Respecting your privacy is core to Maya's beliefs.
You can comment "Anonymously" or use your screen ID.
More