ত্বকের জন্য উপকারী ভিটামিন

ত্বকের জন্য উপকারী ভিটামিন
ভিটামিনের উপকারিতার কথা আমরা সবাই জানি। সয়াবিন তেল থেকে শুরু করে সাবান; সবকিছুতেই ভিটামিন আছে। কিন্তু কোন ভিটামিনগুলো আপনার আসলেই দরকার? ভিটামিন কি শুধু ওষুধ হিসেবেই খেতে হবে নাকি নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলেই চলবে? আপনার ফেস ক্রিমে কোন ধরনের ভিটামিন থাকা উচিত? এসব প্রশ্নেরই উত্তর পাবেন এই নিবন্ধে।


ভিটামিন A
গাড় সবুজ বা হলদে সবুজ রঙের ফল এবং সবজি যেমন পালং শাঁক, মিষ্টি কুমড়া, মিষ্টি আলু,গাজর ও আমে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। শুধু চোখের জন্যই না ভিটামিন এ আপনার সর্বোপরি সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। বয়সের বলিরেখা কমানোর জন্য ভিটামিন A এর থেকে কার্যকরী কিছু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। ভিটামিন Aতে রেটিনয়েড থাকে, যা কিনা রোদে পোড়া সহ আরও নানারকম ত্বকের সমস্যার চিকিৎসায় ব্যাবহার করা হয়। ত্বক বিশেষজ্ঞরা ব্রণ, সোরায়াসিস, আঁচিল এর চিকিৎসায়ও নানারকম রেটিনয়েড ক্রিম ব্যাবহার করতে বলেন। তবে এসব ক্রিম ব্যাবহার করলে প্রচুর সানস্ক্রিন এবং ময়েসচারাইযার ব্যাবহার করতে হয় কারণ এগুলো ব্যাবহারের ফলে আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং সূর্যের রশ্মির প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এগুলো ব্যাবহার না করাই ভাল।


ভিটামিন B
নতুন কোষ তৈরি এবং শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিনের সমষ্টিই ভিটামিন B কমপ্লেক্স। ভিটামিন B1 (থায়ামিন) ত্বকে রক্ত চলাচলে এবং ভিটামিন B3 (নায়াসিন) ত্বকে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।শুধু তাই না নায়াসিন আপনার ত্বকের কোমলতা এবং আদ্রতা বাড়িয়ে দিয়ে বলি রেখা কমাতে সহায়তা করে।এই ভিটামিন দুইটি আপনার সাস্থ্য ভাল রাখে, ত্বকের অসুস্থতা প্রতিরোধ করে এবং বার্ধক্য প্রতিহত করে। দুশ্চিন্তা, ধূমপান, রোদে পোড়ার মত অন্য যেসব কারনে আপনার ত্বকে বার্ধক্যের যে ছাপ পড়ে তা প্রতিহত করতে চাইলে ভিটামিন B1, B3, B5 আছে এমন ক্রিম ব্যাবহার করুন।

ভিটামিন B7(বায়োটিন) আপনার ত্বক, নখ ও চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সেবোরিক ডারমাটাইটিস (seborrheic dermatitis), আঁচিল ও একযেমার চিকিৎসায় বায়োটিনয ক্রিম ব্যাবহার করা হয়। ভিটামিন B পানিতে দ্রবণীয়। প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যাওয়ায় আমাদের শরীরে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের কোন মজুদ থাকে না। এজন্য প্রতিদিনই ভিটামিন B সেবন করা উচিত। দৈনিক বা এক দিন পরপর একটি ভিটামিন B কমপ্লেক্স ট্যাবলেট খাওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল। চুল পড়া প্রতিরোধেও ভিটামিন B ও জিংকের জুটি খুবই কার্যকরী হিসেবে প্রমাণিত।


ভিটামিন E
ভিটামিন E ত্বকের জন্য উপকারী ভিটামিন হিসেবেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। এটি আমরা তেলের সাথে মিশিয়ে মাথায় দেই এমনকি অনেকে ভিটামিন E ক্যাপসুলের জেল মুখেও মাখি।তবে জেনে রাখা ভাল যে ভিটামিন E , ডাই-আলফা- টোকোফেরল(di-alpha- tocopherol) হিসেবে ত্বকে না দিলে কোন উপকার পাওয়া যাবে না। ডাই-আলফা- টোকোফেরল যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যাবহার করুন অথবা এটির একটি ক্যাপসুল আপনার সানস্ক্রিন এর সাথে মিশিয়ে নিন।

ভিটামিন E ত্বকে বার্ধক্যের ছাপ পড়া প্রতিহত করে। এটি খুবই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমাদের শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকালগুলো শরীরের কোষগুলোকে শুধু ক্ষতিগ্রস্থই করে না ধ্বংসও করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ফ্রি র‍্যাডিকালের সংখ্যা কমায়। অতিবেগুনী রশ্মির বিকিরণ,ধুলাবালি, বিভিন্ন ওষুধ সহ অন্যান্য কারনে আমাদের সাস্থ্যের যে ক্ষতিগুলো হয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।ভিটামিন E ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলো এমনকি ক্যানসারের প্রতিষেধক হিসেবেও কাজ করে।

ভিটামিন E যুক্ত খাবার আপনার সাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। চিনাবাদাম, জলপাই, কাঠবাদাম,সবুজ শাঁক সবজি ও সূর্যমুখী ফুলের তেলে ভিটামিন E আছে।


ভিটামিন C
আমাদের ত্বকের ফাইবারগুলো ত্বকের কোমলতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোলাজেন ও ইলাস্টিন এমনই দুটি ফাইবার। তবে ভিটামিন C ছাড়া আমাদের শরীর এগুলো তৈরি করতে পারে না। অনেক ফেসওয়াস ও ক্রিমেই ভিটামিন C থাকলেও এগুলোতে এল অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের মাত্রা যদি ১০% এর কম থাকে তাহলে এগুলো থেকে তেমন কোন উপকার পাওয়া যায় না। আমলকী, আমড়া, পেপেসহ অধিকাংশ ফলেই এবং ফুলকপি, টমেটো, শশা ও ব্রকলির মত অনেক সবজিতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন C থাকে। তবে রান্নার পরে সবজিতে ভিটামিন C এর মাত্রা কমে যায়। সমস্যা হল ফরমালিন ও কীটনাশকের মত বিষাক্ত উপাদানের জন্য আমরা এখন ফল ও সবজি কেনা অনেক কমিয়ে দিয়েছি। চেষ্টা করুন ফরমালিনে্রে জন্য পরীক্ষা করে এমন বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেনার। এটিও যদি সম্ভব না হয় তাহলে ফল বা সবজি যাই কিনুন না কেন, কেনার পর ফরমালিনমুক্ত করার জন্য এক ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

ভিটামিন C রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সুস্বাস্থ্যের জন্য দৈনিক ভিটামিন C সেবন করা উচিত। কারণ ভিটামিন B এর মত ভিটামিন C ও পানিতে দ্রবণীয়। প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যাওয়ায় আমাদের শরীরে পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের কোন মজুদ থাকে না।

রোদের কারণে ভিটামিনযুক্ত প্রসাধনীর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এজন্য আপনি এরকম কিছু ব্যাবহার করলে রাতে ঘুমানোর আগে আরও একবার ব্যাবহার করুন।

Image Courtesy: Google Images

0 comments

Leave a Reply