কিভাবে ডাক্তার আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে

কিভাবে ডাক্তার আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে
আপনার ওজন কমাতে এবং একটি স্বাস্থ্যকর দেহের সুবিধাগুলো ভোগ করতে ডাক্তার আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আপনার ওজন যদি বেশি হয় তবে আপনার হৃদরোগ, স্ট্রোক বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মত রোগে ভোগার সম্ভাবনা খুবই বেশি। যাদের ওজন বেশি তারা সাধারণত শারীরিক কাজে যতটুকু শক্তি ব্যয় করে তার চেয়ে বেশি শক্তি গ্রহণ করে। ওজন কমানোর জন্য আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কাজের ধরনে দীর্ঘস্থায়ী, অর্জনযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনা উচিত। যদি আপনি ইতোমধ্য আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক কাজের ধরনে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে থাকেন, কিন্তু এখনো ওজন কমাতে না পারেন বা আগের চেয়ে ভাল বোধ না করেন, তবে আপনার একজন ডাক্তার বা পুষ্টি-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


আপনার ওজন পরিমাপ করা
এর অর্থ হচ্ছে আপনার শরীরের ওজন এবং উচ্চতা মাপা, যার দ্বারা আপনার বডি ম্যাস ইনডেক্স (Body Mass Index – BMI) হিসেব করা যাবে। বিএমআই এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার এই উচ্চতায় যে ওজন আছে, তা আপনার জন্য স্বাস্থ্যকর কিনা। একজন প্রাপ্তবয়স্ক স্বাস্থ্যবান মানুষের বিএমআই হবে ১৮.৫ থেকে ২৪.৯ এর মধ্যে। বিএমআই ২৫ বা তার বেশি হলে আপনাকে বুঝতে হবে আপনার ওজন বেশি।


আপনার কোমর মেপে দেখা
আপনার কোমরের পরিধি আপনার টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা হৃৎরোগের মত অসুখের ঝুঁকি আছে কিনা তা নির্দেশ করে। তাই আপনার ডাক্তার আপনার কোমর মেপে দেখতে পারেন।

অন্যান্য পরীক্ষা
ডাক্তার আপনার রক্তচাপ পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষা যেমন – রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। এর দ্বারা কোন ধরনের সাঋক সমস্যার সাথে আপনার ওজনের সম্পর্ক আছে কিনা তা যাচাই করা হয়।


স্বাস্থ্যকর ওজন অর্জন করা
বাড়তি ওজন কমানোর জন্য আপনাকে আপনার খাদ্যাভ্যাস, খাদ্যতালিকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রার পরিবর্তন করতে হবে। ডাক্তার আপনাকে আপনার বর্তমান খাদ্যতালিকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা অনুমানে সাহায্য করতে পারেন। এর ফলে আপনি ওজন কমানোর জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করতে পারবেন।


আপনার খাদ্যতালিকা
আপনি গোটা সপ্তাহ কি খাচ্ছেন তার হিসেব রাখার জন্য একটি খাদ্য-ডায়েরি রাখতে পারেন। আপনার খাদ্যাভ্যাস নির্ণয়ে ডাক্তার এই ডায়েরি ব্যবহার করতে পারেন এবং আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে আপনাকে পরামর্শ দিতে পারেন।

ব্যায়াম
একটি কাজের-ডায়েরি আপনাকে আপনার শারীরিক কাজের হিসেব রাখতে সাহায্য করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ডাক্তার আপনাকে পেডোমিটার (pedometer) পরে থাকার পরামর্শ দিতে পারেন, যাতে করে ডাক্তার আপনি কয় কদম হাঁটছেন তা হিসেব করে আপনার শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা বুঝতে পারেন।

লক্ষ্য নির্ধারণ
আপনার খাদ্য তালিকা, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা পরিমাপ করার পর ডাক্তার আপনার জীবনাচরণে কিছু সাধারণ পরিবর্তন আনার বিষয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। এই পরিবর্তনগুলো সামান্য হওয়া উচিত এবং যিনি ওজন কমাতে চান, তিনিই এই পরিবর্তনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। এই সামান্য পরিবর্তনগুলো আপনাকে আপনার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর নির্ভর করে আপনার ডাক্তার আপনাকে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করার পরামর্শ দিতে পারেন।

ওজন কমানোর ঔষধ
যদি আপনি আপনার খাদ্যতালিকা এবং শারীরিক পরিশ্রমের পরিমাণে পরিবর্তন নিয়ে আসেন, কিন্তু লক্ষ্যনীয় মাত্রায় ওজন কমাতে ব্যর্থ হন, তবে ডাক্তার আপনাকে কিছু ঔষধ খেতে বলতে পারেন, যা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। কারো বিএমআই কমপক্ষে ৩০ বা ২৮ হলেই শুধু ঔষধ ব্যবহার করা হয়। যদি কোন অসুখের কারনে আপনার ওজন বেশি হয়ে থাকে, যেমন- টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ, তবে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য ঔষধ সেবন করতে বলা হয়।


ওজন কমানোর সার্জারি
যদি জীবনাচরণ এবং ঔষধ কাজ না করে, তখন ডাক্তার আপনাকে ওজন কমানোর জন্য সার্জারির করতে বলতে পারেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারেসাধারণত বিএমআই কমপক্ষে ৪০ বা ৩৫ হলে, বা টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মত কোন অসুখের কারনে ওজন বেশি হলেই কেবল ওজন কমানোর জন্য সার্জারি করা হয়।

যেসব মানুষের বিএমআই ৪০ বা তার চেয়ে বেশি তাদের পক্ষে ওজন কমানো অতিশয় কষ্টকর হয়ে পড়ে এবং এসব মানুষের জন্য সার্জারি একটি কার্যকর পথ হতে পারে। তবে, এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া যেটির কিছু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি রয়েছে।

0 comments

Leave a Reply