সুস্থতা: ক্যালরি

ক্যালরিসমূহ
ক্যালরি হচ্ছে খাদ্যে মোট শক্তির পরিমাণ। আমরা যে পরিমাণ ক্যালির গ্রহণ করি এবং ব্যবহার করি তার অনুপাত বুঝতে আমারা যে খবার খাই সেগুলোতে ক্যালির পরিমাণ সম্পর্কে আমাদের জানা উচিত। ক্যালরির এই ভারসাম্য স্বাস্থ্যকর ওজনের মূল চাবিকাঠি। খাবারের ওজন বুঝতে আমরা যেমন কেজি ব্যবহার করি, তেমনই নির্দিষ্ট খাবারে শক্তির পরিমাপ আমরা ক্যালরির মাধ্যমে করে থাকি। যদি আমরা ওজন কমানোর চেষ্টা করে থাকি, তবে স্বল্প পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করা এবং আরো কর্মঠ হওয়া একটি ভাল উপায় হতে পারে। সুষম খাবার গ্রহণের পরও, স্বল্প পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আমাদের বিএমআই ওজন ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে আপনার ওজন স্বাস্থ্যকর কিনা তা যাচাই করে নিতে পারেন।


ক্যালরি এবং শক্তির ভারসাম্য
আমরা খাদ্য এবং পানীয়ের মাধ্যমে আমাদের শরীরের শক্তি (ক্যালরি) গ্রহণ করে থাকি। আমাদের শরীর শারীরিক কাজের মাধ্যমে এই শক্তি (ক্যালরি) ব্যবহার করে থাকে। আমরা যত বেশি কাজ করি, আমাদের শরীর তত বেশি শক্তি (ক্যালরি) ব্যবহার করে। স্থিতিশীল ওজন বজায় রাখার জন্য আমরা যে পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করি এবং স্বাভাবিক দৈহিক ও শারীরিক কাজের মাধ্যমে যে পরিমাণ শক্তি ব্যায় করি তার সমান হওয়া উচিত। কোন দিন যদি আমরা আমাদেরকে সাধারণত যতটা ব্যবহার করতে হয় তারচেয়ে বেশি ক্যালরি আমরা গ্রহণ করি, তবে ঐ দিন আমাদের অধিক পরিশ্রম করা উচিত। শরীরে সার্বিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা ব্যবহার করতে হয় যদি আমরা তার চেয়ে অধিক শক্তি গ্রহণ করি তবে আমাদের ওজন বৃদ্ধি পায়।

এই বাড়তি শক্তি আমাদের দেহে চর্বি হিসেবে জমা হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রায় আমরা সবাই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি বা শক্তি গ্রহণ করে থাকি এবং ভাবি যে আমরা শরীরিকভাবে যথেষ্ট কর্মঠ আছি।


খাদ্যে ক্যালরি যাচাই করা
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে আমাদের খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ জানা উচিত। এটা আমাদের খাবার ও পানীয়ে ক্যালরি বা শক্তির হিসাব রাখতে সাহায্য করে এবং আমরা যে বাড়তি ক্যালরি গ্রহণ না করি সেটা নিশ্চত করে। অনেক খাবারেই ক্যালরির পরিমাণ প্যাকেটের গায়ে পুষ্টি লেবেলে উল্লেখ থাকে, যা প্যাকেটের পেছনে বা পাশে থেকে থাকে। এই তথ্যগুলো “ক্যালরি” নামাঙ্কিত অবস্থায় থাকে। প্রায়ই ক্যালরির পরিমাণ কে.ক্যালস. (Kcal) আকারে দেওয়া থাকে, যা কিলোক্যালরির সংক্ষিপ্ত রূপ এবং অনেক ক্ষেত্রে তা কেজে (KJ) হিসেবেও থাকে, যা কিলোজুলের সংক্ষিপ্ত রূপ।

সাধারণভাবে ‘ক্যালরি’ শব্দেরই অন্য একটি রূপ হচ্ছে ‘কিলোক্যালরি’, তাই ১,০০০ ক্যালরিকে ১,০০০ কেক্যালস হিসেবে লিখা থাকবে। কিলোজুল হচ্ছে ক্যালরির ম্যাট্রিক পদ্ধতির পরিমাপ। শক্তির পরিমাণ কিলোজুলে পেতে, ক্যালরির সংখ্যাটাকে ৪.২ দ্বারা গুণ করুন। সাধারণত পুষ্টি লেবেল প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্য বা ১০০ মিলিলিটার পানীয়ে কী পরিমাণ ক্যালরি আছে তা আমাদের অবহিত করে, যেন আপনি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের ক্যালরির তুলনা করতে পারেন। অনেক লেবেলে  প্রতি অংশ খাবারে কি পরিমাণ ক্যালরি আছে তারও উল্লেখ থাকে। কিন্তু মনে রাখবেন প্রস্তুতকারকের এক অংশের ধারণা আপনার ধারণার সাথে নাও মিলতে পারে, ফলে আপনি যে পরিমাণ খাবেন তাতে অধিক ক্যালরিও থাকতে পারে। একটি নির্দিষ্ট ধরনের খাবার আপনার ক্যালরি গ্রহণ মাত্রার সাথে কতটুকু মানানসই তা যাচাই করার জন্য ক্যালরি তথ্য ব্যবহার করুন। আদর্শ হিসেবে,

স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে একজন পরুষের গড়ে ২,৫০০ কেক্যালস (১০,৫০০ কেজে) এবং একজন নারীর গড়ে ২,০০০ কেক্যালস (৮,৪০০ কেজে) শক্তির প্রয়োজন হয়।


ক্যালরি ক্ষয় করা
নির্দিষ্ট শারীরিক কাজ করার মাধ্যমে মানুষ ক্যালরি ব্যবহার করে থাকে, কিন্তু এর পরিমাণ নানা ধরনের বিষয় যেমন- আপনার আকার এবং ওজনের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আপন শারীরিকভাবে যত বেশি কর্মঠ হবেন, তত বেশি ক্যালরি আপনি ব্যবহার করবেন। যেমন- দ্রুত হাঁটার কাজে মাঝারি গতিতে হাঁটার চেয়ে বেশি ক্যালরি ব্যয় হয়। দৈহিক এবং শারীরিক কাজে যা ব্যবহার করেন, আপনি যদি তারচেয়ে অধিক ক্যালরি গ্রহণ করেন তবে আপনার ওজন বৃদ্ধি পাবে। ওজন কমাতে আপনাকে এই অভ্যেস অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে। আপনাকে অবশ্যই যা গ্রহণ করেন তার চেয়ে অধিক শক্তি ব্যয় করতে হবে এবং এটা একটা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। আপনার খাদ্যাভ্যাসের স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনের মাধ্যমে আপনি এই কাজটি করতে পারেন, তাই স্বল্প ক্যালরির খাবার এবং পানীয় গ্রহণ করুন। সবচেয়ে ভাল হয় যদি আপন এই পরিবর্তনের সাথে সাথে আপনার দৈহিক কাজের পরিমাণও বাড়াতে পারেন। আপনার দৈহিক কাজের মাত্রা বাড়াতে হবে কিনা তা আমাদের ফিটনেস টুলের মাধ্যমে যাচাই করে নিন। আপনি আমাদের ওজন হ্রাস করার তথ্য দেয়া যে বিভাগে সেখানে গিয়ে আপনার খাদ্যাভ্যাসের স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে পারেন। সঠিক ক্যালরি মাত্রা অর্জন এবং ওজন কমানোর পরামর্শ পেতে আপনি আপনার ডাক্তার বা একজন পুষ্টি বিশেষজ্ঞের সাথেও কথা বলতে পারেন।

0 comments

Leave a Reply