ওসি এবং গর্ভাবস্থায় চুলকানি

গর্ভাবস্থায় হালকা চুলকানি ত্বক খুবই সাধারণ, এটির কারণ হতে পারে ত্বকে  রক্ত সরবরাহের বৃদ্ধি৷  পরবর্তীতে, যেমন আপনার তলপেট বৃদ্ধির সাথে, আপনার পেট এর চামড়া প্রসারিত হয় এবং হালকা চুলকানির অনুভব হতে পারে৷ সাধারণত হালকা চুলকানি সম্পর্কে চিন্তা করার কিছুই নেই, কিন্তু যদি চুলকানি তীব্র হয়ে উঠে, তবে এটি প্রসূতিতন্ত্র কোলেস্টাসিসের নামক একটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা লিভারের একটি অবস্থাকে বঝানো হয়৷ এই রোগ ১০০ জনের মধ্যে ১ জন গর্ভবতী মহিলাদের হয়ে থাকে, এবং তাদের চিকিৎসার আওতায় আনা দরকার। 

হালকা চুলকানি

চুলকানি রোধের জন্য ঢিলে জামাকাপড় পরা উচিত, এর ফলে আপনার জামাকাপড় আপনার ত্বকের সঙ্গে কম ঘর্ষণের সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও আপনি সিনথেটিক কাপড় ব্যবহার এড়িয়ে প্রাকৃতিক উপকরণে তৈরি যেমন সুতি ব্যবহার করার কথা ভাবতে পারেন। এগুলো শ্বাস প্রশ্বাস বান্ধব হয় এবং আপনার ত্বকের কাছে বাতাসে চলাচল করতে পারে। আপনি লক্ষ্য করতে পারেন যে গোসল করা বা লোশন বা ময়েশ্চারাইজার লাগালে চুলকানি প্রশমিত হয়।

কেউ কেউ শক্তিশালী সুগন্ধি পণ্য ব্যবহার করে থাকেন যা তাদের চামড়ায় জ্বালাতন সৃষ্টি করে, তাই আপনি সাধারন লোশন বা সাবান ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারেন। 

সাধারণত হালকা চুলকানি আপনার বা আপনার শিশুর জন্য ক্ষতিকর নয়, কিন্তু এটি কখনও কখনও আরো গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। আপনার তীব্র চুলকানি থাকলে ডাক্তরের পরামর্শ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গুরুতর চুলকানি

অবস্টেট্রিক কোলেস্টাসিস (ওসি) একটি সম্ভাব্য মারাত্মক লিভার ব্যাধি যা গর্ভাবস্থায় দেখা দিতে পারে। সাধারণত, পিত্ত লবণ যা আপনার যকৃত থেকে প্রবাহিত হয়ে অন্ত্রের খাবার হজম করতে সাহায্য করে। এর ফলে পিত্ত লবণ সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না এবং পরিবর্তে আপনার শরীরের জমা হতে থাকে।এর কোন প্রতিকার নেই, তবে শিশু জন্মদান এর পর সব পরিষ্কার হয়ে যায়।

 পরিবারিক ইতিহাস থাকলে,বা পরিবারিক ইতিহাস ছাড়াও এটি হতে পারে। আপনার আগের গর্ভাবস্থায় ওসি হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তী গর্ভাবস্থায় আবার তা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, ওসি সঙ্গে নারীদের শিশুরা অকালজাত অথবা মৃত জন্ম নিতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত নয় যে যেসব নারীদের ওসি নেই তাদের শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কতটুকু বেশি।এমন কোন নির্ভরযোগ্য উপায় নেই যেখান থেকে আপনার শিশুর পৃথক ঝুঁকি পরিমাপ করা সম্ভব।

যদি আপনার গর্ভাবস্থায় ওসি থাকে তবে আপনার শিশু গর্ভে মৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে ৩৭ সপ্তাহ পর স্বাভাবিকভাবে বা  সিজারিয়ান সেকশন এর সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে।

ওসির লক্ষণ

মারাত্মক এই ব্যাধির প্রধান উপসর্গ হল ফুসকুড়ি ছাড়া চুলকানি, (সব আপনার শরীরের উপর) এবং এটি সবচেয়ে বেশি গর্ভাবস্থার শেষ চার মাসে হয়। কারও কারও চুলকানি ও বেশি ফুসকুড়িও হয়ে থাকে। কারও কারও ক্ষেত্রে চুলকানি অবিরাম বা অসহনীয় হয়, আর রাতে বেড়ে যেতে পারে। মাঝে মাঝে চুলকানি আপনার হাতের এবং আপনার পায়ের পাতার নিচের অংশে বেশী প্রখর হয়ে থাকে।

অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে গাঢ় প্রস্রাব, জন্ডিস (ত্বক ও চোখের সাদা হলুদ), এবং কোষ্ঠকাঠিন্য অন্তর্ভুক্ত।

চিকিৎসা

ওসির একটি ঔষধ এবং পারিবারিক ইতিহাস, এবং রক্ত পরীক্ষা করে আপনার লিভার কার্যকারিতা পরীক্ষা গ্রহণ মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। এই লিভার ফাংশন পরীক্ষা (LFTs) নামে পরিচিত। একবার ওসি নির্ধারণ হওয়ার পর, নিয়মিত LFTs পরীক্ষা করাতে হবে, আপনার শিশুর জন্ম না হওয়া পর্যন্ত। আপনার LFTs স্বাভাবিক হয় তারপরও আপনার তীব্র চুলকানি চলতে থাকে, তবে LFTs এর গতিবিধির উপর নজর রাখার জন্য প্রত্যেক বা দুই সপ্তাহে পরীক্ষা করাতে হবে।

যেমন ক্যালামাইন লোশন গর্ভাবস্থায় গায়ে ব্যবহার ফলে, চুলকানি থেকে স্বস্তি হতে পারে। গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা নিরাপদ। কিছু ওষুধ যা বাইল সল্ট কমানো এবং চুলকানি আরাম করতে পারেন, কিন্তু এগুলো গর্ভাবস্থায় গ্রহণ করার জন্য নিরাপদ নয়।

আপনার ওসি থাকলে, আপনাকে ভিটামিন এর সম্পূরক দেওয়া যেতে পারে, যা আপনার ভিটামিন কে এর শোষণ রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সুস্থভাবে রক্তজমাট বধতে সাহায্য করে।

আপনার ওসি ধরা পরলে, আপনার ডাক্তার আপনার স্বাস্থ্য এবং পছন্দ সাথে নিয়ে আপনার আলোচনা করবেন।

 

0 comments

Leave a Reply