সাধারন স্বাস্থ্য হিট স্ট্রোক

তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোক

তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোক
তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি (Heat Exhaustion) এবং হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত গরমে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া তাপ সম্পর্কিত দুটি স্বাস্থ্য সমস্যা। যদি খুব দ্রুত তাদের চিকিৎসা করা না হয় তবে উভয়েই খুব মারাত্নক হতে পারে। যখন আমাদের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অর্থাৎ, ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ৯৮.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে বেড়ে গিয়ে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে যায় তখন তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি হয়। এই তাপমাত্রায় আমাদের শরীরে পানি এবং লবনের মাত্রা কমে যেতে শুরু করে। তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি’র উপসর্গ খুব দ্রুতই বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে,

  • গা খুব গরম হয়ে যাওয়া বা চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া
  • খুব বেশী ঘাম
  • মাথা ঘুরানো
  • অতিরিক্ত দূর্বলতা
  • অসুস্থ্ অনুভূত হওয়া (বমি ভাব হওয়া)
  • অসুস্থ্  হওয়া (বমি হওয়া)
  • দ্রূত হার্টবিট
  • মানসিক দ্বিধা
  • কম প্রস্রাব হওয়া এবং তুলনামূলক বেশী গাঢ় হলুদ প্রস্রাব হওয়া

যদি তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি তে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঠান্ডা জায়গায় দ্রুত নেওয়া হয়, পানি খেতে দেওয়া হয়, এবং অতিরিক্ত কাপড় খুলে ফেলা হয়, তাহলে তার আধা ঘন্টার মাঝে ভাল অনুভব করতে শুরু করা উচিত এবং কোন জটিলতা থাকা উচিত নয়।

কোন চিকিৎসা না করা হলে এসব ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোক হয়ে যেতে পারে। হিটস্ট্রোক তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি থেকে বেশী গুরুতর। যখন শরীর নিজেকে আর ঠান্ডা করতে পারেনা বরং অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করতে থাকে তখন হিটস্ট্রোক ঘটে। যখন শরীরের কোর তাপমাত্রা 40°C বা  104°F এর উপরে উঠে যায় তখন আমাদের শরীরের কোষগুলো ভাংতে শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঙ্গ কাজ করা থামিয়ে দেয়। এর চিকিৎসা না করলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে, যেমন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নষ্ট হয়ে যায় এবং মস্তিষ্ক’র ক্ষতি হয়। কেউ কেউ হিটস্ট্রোকে মারাও যায়।


হিটস্ট্রোকের উপসর্গ হতে পারেঃ

শরীরের উচ্চ তাপমাত্রাঃ 40°C বা 104°F তাপমাত্রা কিংবা তার থেকেও বেশী তাপমাত্রা অনেক সময় হিটস্ট্রোকের একটি প্রধান উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়, যদিও এটা কম তাপমাত্রায়ও নির্ণয় করা যেতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রমের সময় শরীরের তাপমাত্রা এমন বেড়ে যেতে পারে কোন রকম হিটস্ট্রোক বা তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি ছাড়াই।

  • অতিরিক্ত ঘাম যা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়ঃ যদি শরীর ঘাম উৎপন্ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে এটা শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এবং পানিশুন্য হয়ে পড়ার বড় বিপদ সংকেত।
  • দ্রুতগতির হৃদস্পন্দন
  • দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস (হাইপারভেন্টিলেশন)
  • মাংস পেশীর খিঁচুনী

অতিরিক্ত তাপ যা হিটস্ট্রোক ঘটায় তা স্নায়ুতন্ত্রকেও আক্রমন করে। এর ফলে আরো কিছু লক্ষণ দেখা যায়ঃ

  • মানসিক দ্বিধা
  • সমন্বয়হীনতা
  • খিঁচুনি কিংবা ফিট হয়ে যাওয়া
  • অস্থিরতা অথবা বিরক্তি
  • অন্যদের কথা বুঝা অথবা বলায় সমস্যা হওয়া
  • এমন কিছু দেখা অথবা শুনা যা বাস্তব নয় (হ্যালুসিনেশন)
  • জ্ঞান হারানো


যা করতে হবে
হিটস্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি এবং এর চিকিৎসা করা উচিত খুব দ্রুত। যখন আপনি রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, তখন তাকে যেন যতটা সম্ভব ঠান্ডা পরিবেশে রাখা যায় তা নিশ্চিত করুন। চারপাশের তাপমাত্রা যতটা ঠান্ডা রাখা যায় চেষ্টা করুন, ফ্যানের সাহায্যে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করলে ভালো হয়। পরনের কাপড় ঢিলা করে দিন এবং সে যেন যথেষ্ট বাতাস পায় তা দেখুন। তার শরীর ঠান্ডা কিছু দিয়ে ঢেকে দিন, যেমন ঠান্ডা ভেজা তোয়ালে কিংবা চাদর। তাকে স্বাভাবিক ঠান্ডা পানিতে চুবিয়েও রাখতে পারেন, তবে সেটা যেন অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি না হয়। জ্ঞান থাকলে তাকে পানি খেতে দিন, তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিবেন না। তাদের ত্বকে হালকা করে মেসেজ করে দিন যাতে রক্ত সঞ্চালন ভাল করে হয়।


কারা ঝুকিপূর্ন?
হিটস্ট্রোক যে কাউকে আক্রমন করতে পারে, কিন্তু কিছু মানুষ অন্যান্যদের তুলনায় বেশী ঝুকিপূর্ন থাকে এবং এদের ক্ষেত্রে গরম আবহাওয়ায় বিশেষ করে প্রচন্ড গরমের বা হিট ওয়েভের সময় অতিরিক্ত কিছু সতর্কতা গ্রহন করা প্রয়োজন। এরা হচ্ছে:

  • বয়স্ক ব্যক্তি
  • শিশু এবং বাচ্চা
  • যাদের শরীর ঠান্ডা করার ক্ষমতা ব্যাহত হয় এমন স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, যেমন ডায়াবেটিস
  • যারা অতিরিক্ত এলকোহল পান করে (যা শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করে)
  • যারা নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ নিয়ে থাকে, যেমন অ্যান্টিসাইকোটিস এবং বেটা ব্লকার
  • যারা হিট ওয়েভের সময় নিজেকে ঠান্ডা রাখতে অক্ষম হবেন –উদাহরনস্বরুপ, যারা বিছানায় বন্দী অথবা চলাফেরায় অক্ষম।
  • তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোক উপেক্ষা করা

গরমের সময় তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন

  • সূর্য থেকে দূরে থাকুন যখন দিনের বেলায় সবচেয়ে বেশী গরম থাকে, বিশেষ করে  সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত
  • যদি রোদে বের হতে হয় ছায়ায় হাঁটুন, মাথায় টুপি পরুন এবং সান্সক্রীন বা ছাতা ব্যবহার করুন
  • পার্ক করা গাড়িতে কাউকে রেখে আসবেন না
  • অতিরিক্ত শারীরিক কাজ উপেক্ষা করুন
  • প্রচুর পরিমানে ঠান্ডা পানীয় পান করুন, কিন্তু ক্যাফেইন অথবা এলকোহল আছে এমন পানীয় উপেক্ষা করুন।
  • ঠান্ডা খাবার খান, বিশেষ করে সালাদ এবং ফল যাতে পানি বেশী থাকবে
  • ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন, অথবা শরীর পরিষ্কার করুন
  • আপনার ত্বকে এবং কাপড়ে ঠান্ডা পানি ছিটিয়ে দিন, অথবা আপনার ঘাড়ের পেছনে ঠান্ডা ভেজা কাপড় রাখুন
  • আপনার পরিবেশ ঠান্ডা রাখুন

About the author

Maya Apa Expert Team