চুলের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

টাকের চিকিৎসা

Written by Maya Expert Team

যদিও টাকের চিকিৎসা করার প্রয়োজনীয়তা খুবই কম, তবে অনেকে সৌন্দর্যগত কারণে টাকের চিকিৎসা নেওয়ার কথা ভাবেন।

টাকের অনেকগুলো কারণ স্বল্পস্থায়ী (যেমন-কেমোথেরাপির ফলে টাক), আবার বয়সজনিত কারণে অনেকের টাক পড়ে যার চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। যাহোক, মানুষের উপর টাকের আবেগজনিত প্রভাব রয়েছে, তাই আপনি যদি আপনার বাহ্যিক চেহারা নিয়ে অস্বস্তিতে থাকেন তবে এর চিকিৎসা নেওয়াই হবে সর্বোত্তম পন্থা। যদি সংক্রমণ বা অন্যকোন কারণে টাক পড়ে, যেমন- লাইক্যান প্ল্যানাস বা ডিসকয়ড লুপাস, তাহলে এইসব সংক্রমণের চিকিৎসা আপনার টাক বৃদ্ধি প্রতিরোধে আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

পুরুষালি টাক

সাধারণত পুরুষালি টাকের চিকিৎসা করা হয় না, কারণ এই সমস্যার প্রচলিত চিকিৎসাসমূহ ব্যয়বহুল এবং সবার ক্ষেত্রে এই চিকিৎসাসমূহ একইভাবে কাজও করে না। পুরুষালি টাকের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে এমন দুইটি ঔষধের নাম হচ্ছে:

  • ফিনাস্টারাইড (finasteride)
  • মিনোক্সিডিল (minoxidil)

আপনি পরচুলা পরা বা শল্যচিকিৎসা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করতে পারেন।

ফিনাস্টারাইড

ফিনাস্টারাইড একধরনের বড়ি, যা আপনাকে প্রতিদিন সেবন করতে হবে। এটি হরমোন টেসটোস্টেরন কে হরমোন ডিহাইড্রোটেসস্টেরন (ডিএইচটি)-এ রূপান্তিরত হওয়া থেকে বিরত রাখার মাধ্যেমে কাজ করে। ডিএইচটি চুলের গ্রন্থিকোষকে সঙ্কুচিত করে ফেলে, তাই এর উৎপাদন বন্ধ হলে চুলের গ্রন্থিকোষগুলোর তাদের স্বাভাবিক আকৃতি ফিরে পায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে ফিনাস্টারাইড মানুষের চুলের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারে এবং চুলের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করতে পারে।

সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস ক্রমাগত ফিনাস্টারাইড সেবনের পর এর সুফল পাওয়া যায়। অন্যদিকে, যদি এই চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে টাক পড়া আবার শুরু হয়।

সাধারণত ফিনাস্টারাইডের পার্শ্বপ্রতক্রিয়া দেখা যায় না। ফিনাস্টারইড সেবন করেন এরকম ১০০ জন পুরুষের মধ্যে ১ জনেরও কম ক্ষেত্রে, ঐ পুরুষের যৌনশক্তি কমে যাওয়া বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন (যৌনাঙ্গের ঋজুতা প্রাপ্তি বা ধরে রাখার অক্ষমতা) দেখা দিতে পারে।

মিনোক্সিডিল

মিনোক্সিডিল লোশন হিসেবে পাওয়া যায়, যা প্রতিদিন মাথার ত্বকে লাগাতে হয়। এটি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ঔষধের দোকান থেকে কিনতে পারবেন। মিনোক্সিডিল কিভাবে কাজ করে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে এটা প্রমাণিত যে কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে এটা পুনরায় চুল গজাতে সাহায্য করে।

এই ঔষধে ২% বা ৫% মিনোক্সিডিল থাকে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে ৫% মিনোক্সিডিল তুলনামূলক বেশি কাজ করে। তবে অন্য গবেষণায় দেখা গিয়েছে এটি ২% মিনোক্সিডিলের চেয়ে বেশি কার্যকর নয়। তবে ৫% মিনোক্সিডলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হতে পারে, যেমন- এটি যেখানে লাগানো হয়, সেই অংশের ত্বকের শুষ্কতা বা চুলকানি।

ফিনাস্টারইডের মতই, মিনোক্সডিলের ক্ষেত্রেও ফলাফল পেতে ক্রমাগত কয়েক মাস এটি ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে, মিনোক্সিডিল ব্যবহার বন্ধ করে দিলে টাক পড়া আবার শুরু হতে পারে। চিকিৎসা বন্ধের দুই মাসের মধ্যেই নতুনভাবে গজানো চুলগুলো পড়ে যায়। সাধারণত এই ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

মেয়েলি টাক

বর্তমানে মেয়েলি টাকের চিকিৎসায় মিনোক্সিডিলই একমাত্র ঔষধ। মিনোক্সিডিল লোশন ব্যবহার করেন এরকম ৪ জন নারীর মধ্যে ১ জনের ক্ষেত্রে এটি চুল গজাতে সাহায্য করতে পারে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে এটি টাক পড়া বন্ধ বা ধীরগতির করতে পারে। সাধারণত পুরুষদের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিনোক্সিডিল বেশি কার্যকর। পুরুষদের ক্ষেত্রে ফলাফল পেতে কয়েকমাস ক্রমাগত মিনোক্সিডিল ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, টাক পড়ার অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে পরচুলা পরা বা শল্যচিকিৎসা নেওয়া।

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটার সম্পূর্ণভাবে কার্যকর কোন চিকিৎসা নেই। তবে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন প্রকার চিকিৎসা ছাড়াই ১ বছরের মধ্যে পুনরায় চুল গজানো শুরু হয়। তাই ‘সতর্কতার সাথে অপেক্ষা’ করাই সর্বোত্তম পন্থা, বিশেষত আপনার যদি অল্প কিছু ছোপ ছোপ টাক পড়ে।

অ্যালোপেশিয়ার কিছু চিকিৎসা সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হল:

কর্টিকস্টেরয়েড ইনজেকশন

কর্টিকস্টেরয়ে ঔষধে স্টেরয়েড থাকে, যা এক ধরনের শক্তিশালী হরমোন। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দমনের মাধ্যেমের কাজ করে। এটি অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটার চিকিৎসায় কার্যকর কারণ, মনে করা হয় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রভাবে চুলের গ্রন্থিকোষ ধ্বংস হওয়ার কারনে অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা হয়ে থাকে। ছোট ছোপ টাক পড়ার চিকিৎসায় কর্টিকস্টেরয়েড ইনজেকশন সবচেয়ে বেশি কার্যকর। আপনার মাথার ত্বকের সাথে সাথে শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন চোখের ভ্রুতেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

শরীরের টাক পড়া অংশে ইনজেকশনের মাধ্যমে কর্টিকস্টেরয়েড দ্রবণ কয়েক বার প্রয়োগ করা হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রভাবে চুলের গ্রন্থিকোষ ধ্বংস হওয়া প্রতিরোধ করে। এটি চার সপ্তাহ পরে শরীরের আক্রান্ত অংশে পুনরায় চুল গজাতে উদ্দীপনাও তৈরি করতে পারে। প্রতি ৪ সপ্তাহ পর পর এই ইনজেকশন নিতে হয়। ইনজেকশন নেওয়া বন্ধ করে দিলে টাক পড়া পুনরায় শুরু হতে পারে। কর্টিকস্টেরয়েড ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ইনজেকশন নেওয়ার স্থানে ব্যাথা এবং শরীরের ত্বক পাতলা (ক্ষয়িষ্ণুতা) হয়ে যেতে পারে।

টপিক্যাল কর্টিকস্টেরয়েডস

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটার চিকিৎসায় টপিক্যাল কর্টিকস্টেরয়েডস (ক্রিম ও মলম) একটি বহুল নির্দেশিত ঔষধ, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটার উপকারিতা এখনো অস্পষ্ট। সাধারণত এই ঔষধগুলো ৩ মাস ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সম্ভাব্য কর্টিকস্টেরয়েডগুলো হল:

  • বিটামেথাসোন (betamethasone)
  • হাইড্রোকর্টিসোন (hydrocortisone)
  • মোমিটাসোন (mometasone)

এগুলো লোশন, জেল বা ফোম হিসেবে পাওয়া যায়, যাতে আপনি সুবিধামত ব্যবহার করতে পারেন। কন্তু এগুলো মুখে ব্যবহার করা যায় না, যেমন- দাড়ি বা চোখের ভ্রুতে। এগুলোর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ত্বকের ক্ষয় এবং ব্রণ। সাধারণত ডায়াবেটিস এবং পাকস্থলির আলসারের মত ঝুঁকিপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকায় কর্টিকস্টরয়েড ট্যাবলেট সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।

মিনোক্সিডিল লোশন

মিনোক্সিডিল লোশন মাথার ত্বকে লাগানো হয় এবং ব্যবহারের ১২ সপ্তাহ পরে এটি পুনরায় চুল গজাতে সাহায্য করে। তবে, এর সম্পূর্ণ ফল পেতে ১ বছর সময়ও লেগে যেতে পারে। পুরুষালি এবং মেয়েলি উভয় ধরনের টাকের চিকিৎসাতেই মিনোক্সিডিলের ব্যবহার স্বীকৃত। তবে, অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটার চিকিৎসায় সুনির্দষ্টভাবে স্বীকৃত না। অর্থাৎ, এইক্ষেত্রে এটি যথাযথ চিকিৎসা গবেষণার মাধ্যমে স্বীকৃত নয়। অন্যদিকে ১৮ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রেও মিনোক্সিডিল ব্যবহার নির্দেশিত নয়।

ইমিউনোথেরাপি

অধিক মাত্রার বা সম্পূর্ণ টাকের চিকিৎসায় ইমিউনোথেরাপি একটি কার্যকর উপায় হতে পারে, যদিও এই চিকিৎসা নিয়েছেন এরকম মানুষের অর্ধেকেরও কম মানুষের ক্ষেত্রে এটি যথাযতভাবে পুনরায় চুল গজাতে সমর্থ হয়েছেন। টাকে আক্রান্ত ত্বকের একটি ছোট অংশে ডাইফেনসাইপ্রোন (ডিপিসিপি) নাম একটি রাসায়নিক দ্রবণ প্রয়োগ করা হয়। প্রতি সপ্তাহে আরো শক্তিশালী মাত্রার ডিপিসিপি প্রয়োগের মাধ্যমে এই চিকিৎসা চালানো হয়। অবশেষে এটি ত্বকে এক ধরনের এলার্জিক প্রতিক্রয়া তৈরি করে এবং ত্বকে মৃদু একজিমা তৈরি করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ১২ সপ্তাহ পরে পুনরায় চুল গজায়। ইমিউনোথেরাপির একটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে ত্বকে অধিক মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়া। ধীরে ধীরে ডিপিসিপির মাত্রা বাড়ানোর মাধ্যমে এটি পরিহার করা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে ফুসকুড়ি বা বেমানান রঙের দাগ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করে দিলে আবার টাক পড়া শুরু হয়।

শুধু কিছু বিশেষায়িত কেন্দ্রেই ইমিউনোথেরাপির ব্যবস্থা থাকে। আপনাকে প্রতি সপ্তাহে একবার করে কয়েক মাস এই কেন্দ্রে যেতে হবে। ডিপিসিপি প্রয়োগ করার পর পারবর্তী ২৪ ঘন্টা আপনাকে টুপি বা ওড়না পড়তে হবে, কারণ এই রাসায়নিক দ্রবণের সাথে আলো বিক্রিয়া করতে পারে।

ডিথ্রেনল ক্রিম

ইমিউনিথেরাপির মতই ডিথ্রেনল ক্রিম মাথার ত্বকে নিয়মিত লাগানো হয় এবং পরে ধুয়ে ফেলা হয়। এটি ত্বকে প্রতিক্রয়া সৃষ্টি করে এবং পরে কিছু ক্ষেত্রে পুনরায় চুল গজায়। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই ক্রিম কার্যকর কিনা তা এখনো প্রমাণিত নয়। এটি ত্বকে দাগ, চুলকানি এবং স্কেলিং তৈরি করতে পারে। এই কারণে ডিথ্রেনল বহুল ব্যবহৃত নয়।

আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি চিকিৎসা

হাসপাতালে প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ পর্বে লাইট থেরাপি দেওয়া হয়। এসময় ত্বকে আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভিএ বা ইউভিবি) রশ্মি প্রয়োগ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে ইউভি রশ্মি প্রয়োগের পূর্বে আপনাকে সিরেইলন নামক একটা ঔষধ সেবন করতে দেওয়া হতে পারে, যেটা আপনার ত্বককে আলোর প্রতি আরো প্রতিক্রিয়াশীল করে তোলে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে লাইট থেরাপি খুব একটা ফল দেয় না। এই চিকিৎসার ফল পেতে ১ বছর মত সময় লাগতে পারে এবং ফলাফলও সব ক্ষেত্রে এক হয় না। এটি বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • বমি বমি ভাব
  • ত্বকের রঙ তৈরির পদার্থের পরিবর্তন
  • ত্বকের ক্যান্সারের ঝুকি বৃদ্ধি

উল্কি আঁকা

অনেকের ক্ষেত্রে চুলের জায়গায় উল্কি আঁকা সম্ভব। এটাকে ডার্মাটোগ্রাফি বলা হয় এবং এতে দীর্ঘ মেয়াদে ভাল ফলাফলও পাওয়া যায়। যদিও এটি খুবই ব্যয়বহুল এবং এর মাধ্যমে ছোট চুলের প্রতিরূপ তৈরি করা যায়। সাধারণত চোখের ভ্রুর জন্য ঘন্টাব্যাপি কয়েক পর্বে এটা করা হয় এবং পুরুষালি টাকের ক্ষেত্রেও এটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

পরচুলা

অতিরিক্ত টাক পড়েছে এরকম মানুষের ক্ষেত্রে পরচুলা পড়া একটি ভাল ব্যবস্থা হতে পারে।

কৃত্রিম পরচুলা: অ্যাক্রিলিক পরচুলা ৬ থেকে ৯ মাস টিকে থাকে। প্রাকৃতিক চুল দিয়ে তৈরি পরচুলার চেয়ে এগুলোর যত্ন নেওয়া সহজ কারণ এগুলো সাজাতে হয় না। অন্যদিকে, অ্যাক্রিলিক পরচুলা পড়ার ফলে চুলকানি হতে পারে এবং গরম লাগতে পারে, তাই প্রাকৃতিক চুল দিয়ে তৈরি পরচুলার চেয়ে এটি অনেক বেশি বার খুলতে হয়।

আসল চুলের পরচুলা: ব্যয়বহুল হলেও সৌন্দর্য এবং আরামের জন্য অনেকে প্রাকৃতিক চুলের তৈরি পরচুলা পrতে বেশি পছন্দ করেন। প্রাকৃতিক চুলের পরচুলা ৩ থেকে ৮ বছর টিকে থাকে। তবে এটির যত্ন নেওয়া কঠিন, কারণ এটিকে হেয়ার-ড্রেসার দিয়ে সাজাতে হয় এবং দক্ষতার সাথে পরিষ্কার করতে হয়।

পরিপূরক থেরাপি

অ্যালোপেশিয়ার চিকিৎসায় প্রায়ই অ্যারোমাথেরাপি, আকুপাংচার এবং ম্যাসাজ ব্যবহার করা হয়, কন্তু এগুলোর কার্যকারিতা এখনো প্রমাণিত নয়।

টাকের সার্জারি

পুরুষালি বা মেয়েলি টাক আছে এরকম অনেক নারী ও পুরুষ টাকের সার্জারির কথা বিবেচনা করেন। নানান ধরনের অ্যালোপেশিয়ার চিকিৎসায় সার্জারি কার্যকর হতে পারে। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করার পরই টাকের সার্জারির কথা ভাবা উচিৎ। টাকের সার্জারির সফলতা নির্ভর করে সার্জনের উপর, আবার এ থেকে জটিলতাও তৈরি হতে পারে। টাকের প্রধান সার্জারিগুলো নিচে বর্ণিত হল।

চুল প্রতিস্থাপন

স্থানীয়ভাবে অ্যানেস্থেটিক প্রয়োগ করে প্রচুর চুল আছে এরকম স্থান থেকে মাথার ত্বকের ছোট একটি টুকরো সরিয়ে নেওয়া হয়। তারপর, ঐ ত্বককে এক একটি চুলে বা ছোট ছোট এক গুচ্ছ চুলের কয়েকটি অংশে ভাগ করা হয়। এরপর, যেখানে চুল নেই, সে সব জায়গায় এগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়। এইক্ষেত্রে সেলাইয়ের প্রয়োজন হয় না, কারণ যখন চুলগুলো প্রতিস্থাপন করা হয় তখন রক্তের জমাট বাঁধার কারণে অংশগুলো ঐ জায়গায় আটকে যায়। পাতলা চুলগুলো মাথার ত্বকের সামনে এবং মোটা চুলগুলো পেছনের অংশে লাগানো হয়; এই পদ্ধতিকে গ্রেডিং বলা হয়। এটি প্রাকৃতিক ফলাফল পেতে সাহায্য করে। ৬ মাসের মধ্যে চুলগুলো ঐ স্থানে সংযোজিত হয়ে যায় এবং বাড়তে শুরু করে।

কয়েক পর্বে চুল প্রতিস্থাপন করা হয়। এই কার্যপ্রণালি চলাকালীন সময়ে ৯ থেকে ১২ মাসের বিরতি থাকা প্রয়োজন। অন্যান্য সার্জারির মত এখানেও সংক্রমণ ও রক্তপাতের ঝুঁকি থেকে যায় এবং এর ফলে আরো চুল পড়া ও চোখে পড়ার মত দাগ তৈরি হতে পারে।

মাথার ত্বকের হ্রাসকরণ

এইক্ষেত্রে মাথার তালু এবং পাশের দিক থেকে টাক পড়া ত্বক বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, ফলে চুল আছে এরকম ত্বক পরস্পর কাছে আসতে পারে। আলগা ত্বক কেটে বাদ দিয়ে পুনরায় একত্রে সেলাই করে দিয়ে বা মাথার ত্বকের কলা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এটি করা যেতে পারে। কলা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মাথার ত্বকের নিচে একটা বেলুন স্থাপন করা হয় এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে বেলুনটি ফোলানোর মাধ্যমে ধাপে ধাপে ত্বকের সম্প্রসারণ করা হয়। এরপর বেলুনটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং বাড়তি ত্বক কেটে ফেলা হয়।

মাথার ত্বকের সামনের অংশে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিৎ নয়, কারণ এতে মাথার ত্বকে দাগ পড়তে পারে। ত্বকের ঐ অংশে সংক্রমণেরও সম্ভাবনা থেকে যায়। পারিপার্শ্বিক সব অবস্থা ঠিক থাকলে তখনই এই সার্জারিটি করা উচিৎ।

নকল চুল

পুরুষালি টাকের চিকিৎসা হিসেবে নকল চুল প্রতিস্থাপন পদ্ধতির বাজারজাতকরন করা হয়েছে। এইক্ষেত্রে স্থানীয় অ্যানেস্থেটিকের প্রয়োগ করে মাথার ত্বকে সিনথেটিক ফাইবার প্রতিস্থাপন করা হয়। নকল চুল প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সংক্রমণের এবং দাগ পড়ার ঝুঁকি খুব বেশি, কিন্তু সম্ভাব্য মক্কেল হারানোর ভয়ে ক্লিনিকগুলো রোগীদের এসব বিষয়ে অবহিত করে না। জটিলটার ঝুঁকির কারণে নকল চুল প্রতিস্থাপন ডার্মাটোলজিস্টদের দ্বারা নির্দেশিত নয়। ঝুঁকিগুলো হচ্ছে:

  • সংক্রমণ
  • দাগ পড়া
  • নকল চুলগুলো পড়ে যাওয়া

যেসব মানুষ চুলের সার্জারির কথা বিবেচনা করছেন তাদের চুল প্রতিস্থাপন এবং ত্বক হ্রাসকরণের মত প্রতিষ্ঠিত পন্থাগুলো বিবেচনা করা উচিৎ, কারণ এসব চিকিৎসা পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধাগুলো তুলনামূলক স্পষ্ট।

ক্লোনিং

টাকের চিকিৎসার সাম্প্রতিকতম গবেষণায় চুলের কোষের ক্লোনিং পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তির থেকে যাওয়া চুলের কোষ সংগ্রহ করা হয়, এরপর এগুলোর সংখ্যা বাড়ানো হয়। অতঃপর টাক পড়া অংশে এই কোষগুলো প্রবেশ করানো হয়।

পুরুষালি এবং মেয়েলি উভয় ধরনের টাকের চিকিৎসাতেই ক্লোনিং প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে, এই পদ্ধিতর পেছনে ব্যবহৃত বিজ্ঞান এখনো নতুন এবং এটি পরিপূর্ণভাবে প্রয়োগ করার পূর্বে আরো ভালভাবে পরখ করার প্রয়োজন আছে।

About the author

Maya Expert Team