চুলের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

টাক সম্পর্কিত সাধারণ মিথসমূহ

Written by Maya Expert Team

টাক সম্পর্কিত মিথসমূহ যেভাবে তৈরি হয়

প্রতিটা টাকের চিকিৎসা সফল হওয়ার সাথে সাথে এক ডজনেরও বেশি চিকিৎসা বিফলে যায়। কিন্তু কিছু পুরনো মিথ থেকেই যায়। আমরা টাক সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ২০ টি মিথের সত্যতা যাচাই করেছি।

আপনি কি সত্যটা জানেন?

১) মায়ের বংশ থেকেই টাক পড়া সন্তানের কাছে আসে।

মিথ্যা: টাক পড়া বংশানুক্রমে হয়ে থাকে, তবে তা শুধু মায়ের দিক থেকে সন্তানের কাছে আসে না। মা-বাবা দুই জনের যেকোন এক জন থেকেই টাক পড়ার জিন সন্তানের কাছে আসতে পারে।

২) বারংবার বীর্যপাত টাক পড়ার জন্য দায়ী।

মিথ্যা:বারংবার বীর্যপাত এবং টাক পড়ার মধ্যে কোন সম্পর্ক এখনো পর্যন্ত প্রমাণিত হয় নি। অন্যদিকে, আপনি যত বেশি সঙ্গমে লিপ্ত হবেন, আপনার চুল পড়ার হার তত কমবে, একথাও সত্য নয়।

৩) ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুয়ে টাক পড়া নিরাময় করা যায়।

মিথ্যা: প্রতিদিন সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে মাথা ধুলে আপনার মাথার রক্ত চলাচল বাড়তে পারে, তবে এর সাথে টাক পড়া বন্ধ হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।

৪) প্রতিদিন চুল পড়ার অর্থ হচ্ছে আপনার টাক পড়ছে।

মিথ্যা: যদি আপনার পুরুষালি টাক পড়ে থাকে তবে প্রতিদিন আপনার চুল পড়বে। তবে প্রতিদিন এমনকি ১০০ টি চুল পড়াও স্বাভাবিক। এগুলো সাধারণত পুনরায় গজায়।

৫)বয়স যখন ৩০’র কোঠায় তখন কিছু চুল পড়া শুরু হওয়া স্বাভাবিক।

সত্য: আপনার বয়স যত বাড়তে থাকে, আপনার মাথায় চুলের গ্রন্থি কোষের সংখ্যা তত কমতে থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে চুলের পরিমাণ কমে এবং চুল পাতলা হয়ে যায়।

৬)চুলে প্রসাধনী দ্রব্য ব্যবহারের ফলে চুল পড়ে না।

সত্য: চুলের যত্নে ব্যবহৃত প্রসাধনী চুল পড়ার জন্য দায়ী নয়। আপনি আপনার চুলে যত খুশি জেল, ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

৭)মাথার উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালে চুল পড়া নিরাময় হয়ে যায়।

মিথ্যা:মাথার উপর ভর দিয়ে দাঁড়ালে আপনার মাথার রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এতে মাথার ত্বক পুনঃউৎপাদিত হয় না। টাক পড়ার উপর রক্ত সঞ্চালনের কোন প্রভাব নেই।

৮)একাটানা অনেকক্ষণ টুপি পরে থাকলে টাক পড়ে।

মিথ্যা: যদি আপনার টুপি খুব বেশি টাইট না হয়, যার ফলে আপনার চুলের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, তাহলে আপনি দিনে ২৪ ঘন্টা এবং সপ্তাহে ৭ দিনই টুপি পরে থাকলেও কোন সমস্যা নেই। টুপি পরার কারনে টাক পড়ে না।

৯) মাথার ত্বক আঁচড়ালে বা মালিশ করলে চুল পড়া কমে যায়।

মিথ্যা: রক্ত সঞ্চালণ চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে না। তবে, অতিরিক্ত চুল আঁচড়ালে মাথার ত্বকে ক্ষত তৈরি হতে পারে, এবং এরফলে চুল পড়া শুরুও হতে পারে।

১০) চুলের কিছু স্টাইল চুল পড়ার জন্য দায়ী।

সত্য: যেসব স্টাইল চুলের উপর বেশি চাপ প্রয়োগ করে, যেমন- শক্ত বেণী, পনিটেইলস, কর্নরোস বা রোলারের উপর ( বিশেষত গরম রোলার) শক্ত করে চুল পাকালে, সেগুলোর কারনে চুল পড়তে পারে।

১১) চুল কাটা আপনার চুল পড়া নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে।

মিথ্যা: চুল কাটার পর চুল ঘন মনে হয়, কারণ চুলের গোড়ার দিকটা সাধারণত ঘন হয়। চুল কাটা পুরুষালি বা মেয়েলি টাকের সমস্যা নিরাময়ে কোন উপকারে আসে না।

১২) পরচুলা বা টুপি চুল পড়া আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

মিথ্যা: চুলের শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। চুলের গোড়াই শুধু সজীব থাকে এবং তা মাথার ত্বকের রক্ত থেকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন গ্রহণ করে। পরচুলা বা টুপি শুধু বেশি আঁটসাট হলেই তা চুলের ক্ষতি করতে পারে।

১৩) বার বার চুল ধুলে তা চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

মিথ্যা: বার বার চুল ধোয়া টাক তৈরি করে না। শ্যাম্পু শুধু যে চুলগুলো ইতোমধ্যে পড়ে গিয়েছে সেগুলো পরিষ্কার করে।

১৪) বেশিক্ষণ রোদের সংস্পর্শে থাকলে চুল পড়ে যায়।

মিথ্যাঃ চুল পড়া ঘটে চুলের গ্রন্থিকোষে। ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, আপনার চুল ঢাল হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে চুলের গ্রন্থিকোষকে রোদের হাত থেকে রক্ষা করে।

১৫)চুলের রং চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

সত্য: অধিকাংশ চুলের রঙে নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য থাকে, তাই যদি যথাযথভাবে ব্যবহার করা না হয়, তবে তা চুল পড়ার কারণ হতে পারে। কিন্তু, এই চুল পড়া সাধারণত স্থায়ী হয় না।

১৬) বাজে খাদ্যাভ্যাস চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

মিথ্যা: খাবারে লৌহের পরমাণ কম থাকলে তা চুল পড়ার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে বলে কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিন্তু সাধারণত বাজে খাবারের সাথে চুল পড়ার কোন সম্পর্ক নেই। আন্যদিকে, নির্দিষ্ট রকম খাবার চুল পড়ার বা চুল গজানোর কারণ এরকমও কোন প্রমাণ নেই।

১৭) স্ট্রেস চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

সত্য: আপনার উপর শারীরিক এবং মানসিক চাপ পড়ে এমন ঘটনা, যেমন- দুর্ঘটনা বা সার্জারি সাময়িকভাবে চুল গজানোর প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে পারে। তবে স্ট্রেসের ফলে পুরুষালি টাক পড়ে না।

১৮) হরমোনের সমস্যায় চুল পড়তে পারে।

সত্য: আপনার থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা হলে চুল পড়তে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান প্রসবের পর সাময়িকভাবে চুল পড়তে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের ফলেও চুল পড়তে পারে। এন্ড্রোজেনের মাত্রা বেড়ে গেলে এমনটি ঘটে, তবে এটি খুব একটা দেখা যায় না এবং পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম আছে এরকম নারীদের চুল পড়তে দেখা যায় না।

১৯)স্টেরয়েডের ফলে চুল পড়ে যায়।

সত্য:স্টেরয়েড ব্যবহারের ফলে চুল পড়তে পারে। গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এনাবোলিক স্টেরয়েড পুরুষালি হরমোনের মাত্রা বাড়ানোর ফলে টাক পড়া ত্বরান্বিত করে।

২০) ব্লো ড্রায়িং-এর ফলে টাক পড়ে না।

সত্য: ব্লো ড্রায়িং-এর ফলে চুল নষ্ট হতে পারে, পুড়ে যেতে পারে বা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং এই চুলগুলো পড়ে যায়, কিন্তু এই পড়ে যাওয়া চুলগুলো আবার দ্রুত গজিয়ে উঠে। এর ফলে স্থায়ীভাবে চুল পড়ে যায় না।

About the author

Maya Expert Team