চুলের যত্ন মনোসামাজিক সৌন্দর্য চর্চা

টাকের উপসর্গসমূহ

টাকের উপসর্গসমূহ

বিভিন্ন রকমের টাকের বিভিন্ন উপসর্গ রয়েছে। মাঝে মাঝে মাথা এবং ত্বক দুটোই এতে আক্রান্ত হতে পারে।

পুরুষালি এবং মেয়েলি টাক

সাধারণত যাদের বয়স ৩০ বছরের চেয়ে কয়েক বছর কম বা বেশি, তাদের পুরুষালি টাক দেখা দেয়। ৪০ বছরের কাছাকাছি বয়সে প্রায় সব পুরুষেরই কোন না কোন রকম টাকের সমস্যা দেখা যায়। এটি একটি নির্দিষ্ট ধাঁচের হয় বলেও এটিকে পুরুষালি টাক বলা হয়। এর প্রথম পর্যায়ে সাধারণত কিনারা থেকে চুল কমতে থাকে; এরপর মাথার তালু এবং কপালের পার্শ্বদেশ থেকে চুল কমতে থাকে। এরফলে, মাথার পাশে এবং পেছনে ঘোড়ার পায়ের আকৃতির অংশে চুল থেকে যায়। মাঝে মাঝে সম্পূর্ণ মাথা টাকে আক্রান্ত হয়, যদিও সচরাচর তা দেখা যায় না।

বয়সের সাথে সাথে মহিলাদের চুলের ঘনত্ব কমতে থাকে, তবে সাধারণত মহিলাদের শুধু মাথার তালু থেকে চুল পড়ে। মাসিকচক্র বন্ধের (সাধারণত ৫২ বছর বয়সে) পর এই উপসর্গ বেশি দেয়া যায়।

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটা

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটায় সাধারণত একটি বড় পয়সার আকৃতির ছোপ ছোপ টাকের সৃষ্টি হয়। এগুলো সাধারণত মাথার ত্বকে দেখা দেয়, তবে এটি শরীরের যেকোন অংশে হতে পারে।

এছাড়া সাধারণত আর অন্য কোন উপসর্গ থাকে না, যদিও কিছু ক্ষেত্রে হাতের নখ আক্রান্ত হতে পারে এবং সেখানে বসন্তের ক্ষতের মত খাঁজকাটা দাগ দেখা দিতে পারে।

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটার ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় কয়েক মাস পর আবার চুল গজায়। প্রথম দিকে হালকা ও সাদা রঙের চুল গজায়, তবে সময়ের সাথে সাথে এটা ঘন ও স্বাভাবিক রঙের হয়ে যাওয়া উচিত।

অ্যালোপেশিয়া অ্যারিয়াটায় আক্রান্ত কিছু মানুষের আরো গুরুতর রকমের টাকের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমম-

  • অ্যালোপেশিয়া টোটালিস (মাথায় কোন চুল থাকে না)
  • অ্যালোপেশিয়া ইউনিভার্সেলিস (মাথায় এবং শরীরে কোন চুল থাকে না)

স্কারিং অ্যালোপেশিয়া

যেহেতু শরীরের অন্য কোন সমস্যার ফল হিসেবে এই সমস্যা দেখা দেয়, তাই কোন ধরনের শারীরিক সমস্যা হলে আপনার স্কারিং অ্যালোপেশিয়া দেখা দিবে। শরীরের যেখান থেকে চুল পড়ে যাবে, সেখানকার ত্বক এতে আক্রান্ত হতে পারে, যদিও অন্যান্য টাকের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে না।

উদাহরণ হিসেবে, যেখানে লাইক্যান প্ল্যানাস এর ফলে স্কোরিং অ্যালোপেশিয়া হয়, সেখানকার ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি এবং ত্বকের প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এই ধরনের টাকে চুলের গ্রন্থিকোষ (ত্বকের ছোট ছিদ্র, যেখান থেকে একটি চুল গজায়) সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় এবং তা ক্ষতযুক্ত টিস্যু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। ফলে, নতুন চুল আর গজাতে পারে না এবং এই টাক স্থায়ী।

অ্যানাজেন এফ্লুভিয়াম

অ্যানাজেন এফ্লুভিয়াম সাধারণত কোমোথেরাপির ফলে ঘটে এবং এটি মানুষকে খুব দ্রুত আক্রান্ত করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে টাক পরিলক্ষিত হয়।

অ্যানাজেন এফ্লুভিয়ামেরর ক্ষেত্রে ছোপ ছোপের পরিবর্তে অধিক মাত্রায় টাক পড়ে। মাথার ত্বকের সাথে সাথে আপনার শরীর এবং মুখমন্ডল থেকেও চুল পড়তে পারে।

এই ধরনের টাক সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হয়। কেমোথেরাপি বন্ধ হওয়ার পর আপনার চুল পড়া বন্ধ হওয়া উচিত এবং কয়েক মাস পরে আপনার চুল গজানো শুরু হওয়া উচিত।

টেলোজেন এফ্লুভিয়াম

টেলোজেন এফ্লুভিয়ামে ছোপ ছোপের পরিবর্তে আপনার মাথার ত্বক থেকে অধিক মাত্রায় চুল পড়বে। আপনার চুলের ঘনত্ব আগের চেয়ে কমে যাবে, তবে মাথার সব চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা কম। শরীরের অন্য কোন অংশের চুল সাধারণত আক্রান্ত হবে না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনার চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং ৬ মাসের মধ্যে আবার চুল গজানো শুরু করবে।

About the author

Maya Expert Team