আবেগীয় স্বাস্থ্য মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

সঙ্গী বা সমকক্ষ মানুষদের চাপ

সঙ্গী বা সমকক্ষ মানুষদের চাপ
কারা আমার সমকক্ষ?
আপনার সমবয়সী, সহপাঠী, বন্ধু, চাচাতো, মামাতো ভাই-বোন অথবা প্রতিবেশী হচ্ছে আপনার সমকক্ষ।

সঙ্গী বা সমকক্ষ মানুষদের চাপ কী?
এমন কোনো কাজ যা করতে আপনি ইচ্ছুক নন, তা করারা জন্য যখন সমকক্ষীয় কোনো ব্যক্তি আপনাকে চাপ দেয় বা প্রভাবিত করে, তখন তাকে সমক্ষীয় চাপ বলে। কোনো দল বা গোষ্ঠীর সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্যও আপনি হয়ত এমন কাজ করতে পারেন।

সঙ্গীদের চাপ খারাপ হতে পারে, যেমন তাদের কারনে আপনি মদ ও মাদক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আবার বিপরীত ভাবে তা আপনাকে ভাল কোনো অভ্যাসের দিকেও নিয়ে যেতে পারে। হয়তো আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করা বা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে শুরু করলেন, অথবা বন্ধুরা হয়ত আপনাকে ধূমপান থেকে বিরত রাখলো।

কিভাবে সমকক্ষীয়দের চাপ প্রভাব ফেলে?
বন্ধুরা হয়তো আপনাকে কোনো কিছু করার জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল, সেটা ভাল বা খারাপ উভয়-ই হতে পারে। তারা যা চাচ্ছে আপনাকে দিয়ে তা করানোর জন্য তারা অপমান, হুমকি বা অপরাধবোধ ব্যবহার করবেঃ

উদাহরণঃ আপনি আপনার বন্ধুর অনুষ্ঠানে আছেন এবং সে আপনাকে সিগারেট গ্রহণ অর্থাৎ ধূমপান করার প্রস্তাব দিল কিন্তু আপনি তা প্রত্যাখান করলেন। এতে আপনার বন্ধু জিজ্ঞেস করলো আপনি ভয় পাচ্ছেন কী না এবং ধূমপান করলে কিছুই হয় না।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে আপনার বন্ধুরা হয়তো কিছু বলবে না। কিন্তু তারা যেহেতু করছে অথবা সেই কাজ করলে তাদের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে, এই তাড়নায় আপনার সেই কাজ করার ইচ্ছা জাগবে।

উদাহরণঃ দুপুরের খাবারের বিরতির পর আপনার বন্ধুরা ঠিক করলো ক্লাস থেকে পালাবে বা ক্লাস করা বাদ দিবে এবং দলচ্যুত হওয়া বা দলের সাথে মানিয়ে নিতে না পারার ভয়ে আপনি তাদের সাথে ক্লাস থেকে পালানোয় যোগ দিবেন।

সমকক্ষীয় চাপ কাজ করে কারণ অধিকাংশ সময়ে আমরা উপহাস বা প্রত্যাখ্যান এর ভয়ে ভীত থাকি। এছাড়া আশেপাশে যারা থাকেন আমরা তাদের পছন্দের ব্যক্তি হয়ে থাকতেও চাই। আমরা আশাপাশের মানুষদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ও তাদের অংশীদার হয়ে থাকতে পছন্দ করি।

অনেক সময় কোনো পরিবেশ বা অবস্থায় কীভাবে খাপ খাইয়ে নিতে হবে তা আমরা বুঝে উঠতে পারি না এবং আমাদের সাথের ব্যক্তিরা যেমনভাবে বলেন বা যেভাবে করার চাপ দেন আমরা সেটিই শুনে থাকি।

সমকক্ষীয় চাপের সাথে কীভাবে মোকাবেলা করবেন?

  • আপনার পছন্দ সম্পর্কে ভাবুন, সে অনুযায়ী কাজ করলে কী হবে বা না করলে কী হবে তা নিয়ে চিন্তা করুন।
  • আত্মবিশ্বাসী হোন
  • আপন মত প্রকাশে দক্ষ হয়ে উঠুন। না বলতে শিখুন। আপনি কী ভাবেন এবং অনুভব করেন তা প্রকাশ করুন। একটি ভালো বিকল্প উপায় তুলে ধরুন এবং তা যদি কার্যকর না হয়, তাহলে স্বাভাবিক ভাবে সে জায়গা ত্যাগ করুন।
  • নিজের সহজাত প্রবৃত্তিকে অনুসরণ করুন। যদি কোনো কিছু সঠিক মনে না হয়, তাহলে সম্ভবত সে কাজ না করাই ভালো।
  • যারা আপনাকে চাপে রাখে তাদের থেকে দূরে থাকুন।
  • একই মূল্যবোধ এবং আগ্রহ সম্পন্ন ব্যক্তি, যাদের সিদ্ধান্ত আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন সমক্ষীয় ব্যক্তিদের সাথে মেলামেশা করুন।

যদি সমক্ষীয় চাপে আপনি পিড়ীত বোধ করেন, তাহলে সে সম্পর্কে আপনার বাবা-মা বা অভিভাবকের সাথে কিংবা বড় ভাই-বোন, কাউন্সেলর অথবা একজন বন্ধুর সাথে কথা বলতে পারেন। এসব সমস্যা নিরসনে এবং এর থেকে উত্তম সমাধান বের করতে তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারেন।

About the author

Maya Expert Team