আবেগীয় স্বাস্থ্য মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য

মন খারাপ?

মন খারাপ?
আজ আকাশের মন ভালো নেই
লাগছে অচেনা
দুরের-ই পানে শিস দিয়ে যায়
একি অচিন হাওয়া….

কখনও কী আপনার এরকম মনে হয়? কোন কাজ করতে ভালো লাগছে না, কারও সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগছে না৷ মন চাইছে নিজের মতো থাকতে, চলতে অথবা ঘুরতে৷ কিন্তু ইচ্ছে হলেই কী আমরা তা পারি? পারি না৷ তখনই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়৷ মনটা ভারী ভারী লাগে৷ অনেক সময় আমার আশেপাশের পরিবেশ , মানুষজন, এমনকি আমার অবস্থাণের কারণেও আমার মন খারাপ হয়৷

এই যে মন খারাপ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, আসলে ্তুমন্থটা কী? অমাদের শরীরে মন এর অবস্থান কোথায়? এই সকল প্রশ্নের বিভিন্ন উত্তর রয়েছে৷ ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন রকম উত্তর, উক্তি, বিতর্ক, বিশ্বাস রয়েছে৷ আমাদের মস্তিষ্কের ‘হাইপোথ্যালামাস’ অংশটিকে অনেক ক্ষেত্রে মনের উত্‍স হিসেবে তুলনা করা হয়৷ এটি নিয়েও বেশ বিতর্ক রয়েছে৷ সাধারণভাবে আামাদের চিন্তা বিশ্বাস , অনুভূতি, আগ্রহ, আকাঙ্ক্ষার সম্মিলিত রূপকে মনের উত্‍স হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে৷

আমাদের মন কখন খারাপ হয়? সহজভাবে বললে আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে যখন প্রাপ্তির মিল হয়না তখন মন খারাপ হয়৷ আবার পরিবেশ বা পরিস্থিতির কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা বিষয়ে আমাদের কিছু নেতিবাচক অনুভূতি হয় যা মনকে বিমর্ষ করে তুলে৷ বিভিন্ন নেতিবাচক অনুভূতি যেমন বিরক্তি, রাগ, হিংসা, জেদ, ক্ষোভ মনের সাথে সাথে আমাদের শরীরকেও প্রভাবিত করে৷ যেমন কান ও মুখে গরম অনুভূতি, মাংশপেশী শক্ত হয়ে যাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া, হার্টবিট বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি৷ এই সকল শারীরিক প্রতিক্রিয়া ও মানসিক অনুভূতির ফলে আমরা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন আচরণ করি; যেমন কেউ চুপচাপ হয়ে যাই, অনেকেই রেগে যাই, কেউ কেউ হাসি মুখে মেনে নেই, আবার কেউ কেউ হঠকারী আচরণ করি৷

মনের এরকম অবস্থায় আমরা কি করতে পারি? অনেকেই হয়তোবা বলবেন, গান শুনতে পারি৷ অবশ্যই এটি একটি ভালো উপায়৷ এছাড়া আরও কিছু উপায় রয়েছে যা সাময়িকভাবে আমাদেরকে ভালো বোধ করায়৷ ঘুরে বেড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি তোলা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, ইত্যাদি৷ মনের যত্ন নেওয়ার জন্য আমরা বেশ কিছু কাজ করতে পারি-

  • নিজের মনের দিকে দৃষ্টি দেয়া
  • বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কি ধরণের অনুভূতি হয় তা খেয়াল করা
  • প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো
  • আমার অনুভূতিগুলো শুধুমাত্রই আমার, পরিস্থিতি অনুযায়ী আমার অনুভূতিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে এবং সে অধিকার আমার রয়েছে’ নিজের সম্পর্কে এই বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া, সেই সঙ্গে অন্যদেরও যে একই ধরনের চিন্তা থাকতে পারে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া
  • মন খারাপ থাকলে নিজের মুখের অভিব্যক্তি কেমন হয় তা খেয়াল করা
  • মন খারাপের পেছনে পরিবেশ বা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা৷ সেখানে নিজের অবস্থান ও এর প্রভাব যাচাই করা
  • নিজের আচরণের প্রতি খেয়াল করা কেননা আমার আচরণের মাধমে সবাই আমাকে মূল্যায়ন করছে
  • আমার অনুভূতি ও আচরণের পেছনে যে গভীর বিশ্বাস ও মূল্যবোধ রয়েছে সেগুলো খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনে সেগুলো পরিবর্তনে কাজ করা
  • অন্যদের আচরণের পেছনেও যে তাদের নিজস্ব গভীর বিশ্বাস ও মূল্যবোধ রয়েছে তা বিবেচনা করা ও সম্মান করা
  • প্রতিটি মানুষই নিজস্ব বিশ্বাস, মূল্যবোধ, আগ্রহ যে অন্যদের থেকে আলাদা তা বিশ্বাস করা ও মনে রাখা
  • নিজের ভালো গুণগুলোর চর্চা করা
  • নিজের আনন্দ বা ভালোলাগার বিষয়গুলো বুঝে সেগুলোর যত্ন নেওয়া
  • প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট সময় নিজের জন্য রাখা
  • সর্বোপরি নিজেকে ভালোবাসা

About the author

Maya Expert Team