মনোসামাজিক মানসিক স্বাস্থ্য হতাশা

বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যা প্রসঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হবার যাত্রাপথটা যতটা চ্যালেঞ্জপূর্ণ, ততটাই আবেগে ভরপুর। এই সময়টাতেই প্রাক-যৌবনে পদার্পণ করা কিশোর-কিশোরিরা প্রথমবারের মতো বিষণ্ণতা ও আত্নহত্যাবোধ অনুভব করতে শুরু করে। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বিষণ্ণতা কতটা বিস্তৃত একটা সমস্যা সে সম্পর্কে অনেক কম মানুষেরই ধারণা আছে, এবং পৃথিবীব্যাপী ১০ থেকে ২৪ বছর বয়সের মধ্যে কারো মৃত্যুর তৃতীয় বড় কারণ হচ্ছে আত্মহত্যা।

যৌবনের প্রাক্কালে সকল কিশোর- কিশোরীই যে বিষণ্ণতা বোধ করবে বা আত্মহত্যার কথা ভাববে তা নয়, কিন্তু সকল অভিভাবকেরই সচেতনভাবে এই বয়সী ছেলেমেয়েদের আচরনের দিকে দৃষ্টিপাত করা উচিৎ এবং একটি খোলামেলা ও অকপট যোগাযোগের সুযোগ করে দেয়া উচিৎ। যেসকল শিশু বা কিশোর বিষণ্ণ বোধ করে বা আত্মহত্যাপ্রবণ হয় তাদেরকে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুগুলো ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে বাবা-মা তাদেরকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতে পারেন।

বাবা-মায়েরা সন্তানের বিষণ্ণতা ও আত্মহত্যাপ্রবণতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন করে থাকেন তার কিছু এখানে দেয়া হলো । প্রশ্নের প্রেক্ষিতে উত্তরগুলো দিয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও চিকিৎসা কেন্দ্র ইয়েলোব্রিক।


প্রশ্নঃ কিভাবে বুঝবো যে আমার সন্তান বিষণ্ণ ?

উত্তরঃ একজন বাচ্চার ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ বদল হয়ে যাওয়া মানেই কিন্তু ধরে নেয়া যাবে না যে সে বিষণ্ণতায় ভুগছে। এমন কোনো নির্ভরযোগ্য উপসর্গ নেই যা দেখে বোঝা যাবে যে বাচ্চাটি আত্নহত্যা করার চেষ্টা করতে পারে। তবে, কিছু প্রচলিত লক্ষণ আছে যা দেখে হয়তো ধারণা করা যায় যে সে বিষণ্ণতায় ভুগছে। এমন হতে পারে যে তার যে কাজগুলো করে ভালো লাগতো সেগুলো ইদানীং সে আর করার উৎসাহ পাচ্ছে না। হয়তো সে নিজেকে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব থেকে দূরে সরিয়ে রাখে, তার ঘুমের অভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে ( হয় তার ঘুম হয়ই না, কিংবা সে অতিরিক্ত ঘুমায়), ক্ষুধা ও খদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হয়েছে, অল্পতেই সে ক্লান্ত বোধ করছে কিংবা তার এই মন ভালো তো এই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে! কেউ কেউ মাদক বা মদ -এর মাধ্যমে বিষণ্ণতা কাটানোর চেষ্টা করে। মাদকগ্রহণ করলেই যে তার আত্মহত্যাপ্রবণতা তৈরি হবে তা নয়, তবে অনেক সময় মাদক সেবনের ফলে বিষণ্ণতা বেড়ে গিয়ে অনেকে আত্নহত্যা করার চেষ্টা করতে পারে।


প্রশ্নঃ আত্নহত্যার চেষ্টা করে যদি আমার সন্তান ব্যর্থ হয়, তাহলে তার মানসিক অবস্থা কেমন থাকতে পারে?

উত্তরঃ আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হবার পর লজ্জা ও অপরাধবোধ করা খুব অস্বভাবিক কিছু নয় উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীদের জন্য। এর কারণে তারা নিজেদেরকে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে আরও বেশি গুটিয়ে নেবার কোথা ভাবতে পারে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে একবার আত্নহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে সে আবারো আত্নহত্যার চেষ্টা করতে পারে। ধারণা করা হয় মস্তিষ্কের যে অংশটা ঝুঁকি নেয়ার কথা ভাবে, সেটির দরজা যেন খুলে দেয় আত্নহত্যার প্রথম চেষ্টা।


প্রশ্নঃ আমার সন্তান এরকম আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তাকে আমি কিভাবে সমর্থন দিতে পারি?

উত্তরঃ আত্নহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হবার পড় আপনার উঠতি যুবক সন্তানটি হয়তো প্রচণ্ড লজ্জাবোধ-এর মধ্য দিয়ে যাবে। অভিভাবক হিসেবে এ সময় আপনার সবচেয়ে মূল্যবান ভূমিকা হতে পারে তার প্রতি আপনার শর্তহীন ভালোবাসা প্রকাশ করা। তার যা দরকার সেভাবেই তাকে সমর্থন দিন এবং সে কোনো থেরাপিস্ট বা কাউন্সিলরের কাছে যেতে চায় কি না সে ব্যাপারেও তার সাথে কথা বলুন। আপনার সন্তান যদি রাগ বা হতাশাও অনুভব করে, তাতেও তার সাথে সমব্যথী হোন। তাদেরকে এটা বুঝতে দিন যে আপনার সাথে সে কোনো প্রকার ভয় বা যাচাই বাছাই না করে কথা বলতে পারে।

About the author

Maya Apa Expert Team