মনোসামাজিক

নববিবাহিতদের ঈদ!

আপনি যদি গত এক বছরের মধ্যে বিয়ে করে থাকেন তাহলে এবছরই আপনি প্রথমবারের মত আপনার স্বামী/স্ত্রীর সঙ্গে ঈদ পালন করতে যাচ্ছেন, এবং একই সাথে শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের সাথেও, সে কথা আলাদা করে বলার দরকার পড়ে না।

আপানারা দু’জন সম্ভবত ঈদের আগে মনের সুখে কেনাকাটা করে বেড়াবেন, কেউ হয়ত গোলাপি শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে স্বামীর জন্য গোলাপি পাঞ্জাবি কিনবেন আবার কেউ হয়ত স্ত্রীর জন্য কানের দুল কিনবেন। আশা করি স্বামীরা কেবল স্ত্রীর হাতে টাকার খাম ধরিয়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে নিবেন না। আপনি যদি উল্টাপাল্টা জিনিস কিনে ফেলার ভয়ে নিজে পছন্দ করে কিছু কিনতে না পারেন তাহলে কেনাকাটার সময় অন্তত আপনার স্ত্রীর সাথে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

কাঞ্জিভরম এবং অপেরা কাতানের মধ্যে কী পার্থক্য তা আপনার জানার দরকার নেই, কোন শাড়িটা আপনার দেখতে ভাল লাগছে শুধু তা জানান এবং দাম দিয়ে দিন। অনেক বয়স্ক জুটি একসাথে কেনাকাটা করতে যান, এবং মার্কেটে এদের দেখতে ভাল লাগে। এটি হয়ত আপনাদেরও একটি প্রথা হয়ে যাবে যা বহুদিন ধরে পালন করবেন। আপনি যদি নিজেই কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন, তাহলে সোনা (বাজেটে কুলোলে) অথবা রূপোর গয়না কিনতে পারেন। পারফিউম কেনাটাও নিরাপদ। পুরুষ মানুষ প্রায় সবসময় পছন্দ করে জুতো বা পার্স কিনতে পারেন; আপনি গিফট দেয়ার পরিকল্পনা করলে এগুলোও খুব ভাল হতে পারে।

মহিলাদের জন্য বলছি, সব কিছু আপনার স্বামীর সঙ্গে ম্যাচ করে কেনার চেষ্টা করবেন না দয়া করে। আপনার সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে ম্যাচ করছে বলেই উনাকে কমলা পাঞ্জাবি পরে ঘুরে বেড়াতে হবে এমন কোন কথা নেই। যখন স্বামী-স্ত্রী পুরোপুরি ম্যাচ করা কাপড়-চোপড় পরে ঘুরে বেড়ায় তখন আপনি যতই বলুন “এটা কীভাবে যেন হয়ে গেছে” কেউ বিশ্বাস করবে না! উনার পছন্দ হবে এবং ঈদের পরেও বহুবার পরবেন এমন কিছু কেনার চেষ্টা করুন। উনি কী ধরনের পোশাক পরেন এবং আপনি ওনার জন্য কী কিনতে চান তার মধ্যে ব্যাল্যান্স করার জন্য উনার ওয়ারড্রোব দেখুন।

এছাড়াও বিবাহিতদেরকে পূর্ণবয়স্ক বিবেচনা করা হয়, তাই অন্যান্যবার পরিবারের অন্যদের জন্য কিছু না কিনলেও এবছর আপনারা আদের জন্য কিছু কিনবেন এমনটি ধরে নেয়া হয়। প্লিজ, ছোট হোক বড় হোক বাবা-মা, ভাইবোন, এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের জন্য কিছু না কিছু কিনুন। দুই বাড়িরই কাজের লোকদের জন্য কিছু কিনতে ভুলবেন না। “দুলাভাইয়েরা” অবশ্যই নতুন ব্যাঙ্কনোট যোগাড় করে রাখবেন, আপনার শ্যালক-শ্যালিকারা আপনার কাছ থেকে সালামি আশা করবেন।

ঈদ শুধু উপহার দেয়া নেয়া নয়, পরিবারের সবার সাথে খাওয়াদাওয়ারও উৎসব! নিশ্চিত থাকুন যে আপনি এবছর অন্যবারের চাইতে দ্বিগুণ দাওয়াত পাবেন এবং আপনার নিজের ও শ্বশুরবাড়ির দু’পক্ষের লোকজনই আশা করবেন যে আপনি তাদের ওখানে যাবেন। কোন পক্ষই যেন মনে না করেন যে আপনি তাদেরকে অবহেলা করছেন। কোথায় লাঞ্চ করবেন আর কোথায় ডিনার তা ভাল করে মনে করে রাখুন। এরপর সমান করে সময় ভাগ করে নিন যেন দুই জায়গাতেই আরাম করে সুন্দর সময় কাটাতে পারেন।

আপনার স্বামীর বাড়ির লোকেরা যদি ভিন্ন শহরে ঈদ কাটায় বা গ্রামে যায় (যারা বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে স্বামীর দেশের বাইরে চলে গেছেন তাদের ক্ষেত্রেও), তাহলে এই ঈদটি আপনার জন্য ভিন্ন রকমের হবে। এই ঈদে আপনি যে কেবল আপনার পরিবার থেকে দূরে, হৈ-হুল্লোড় থেকে দূরে মন করে থাকবেন তাই নয়, এবারে আপনাকে অপিরিচিত একটি জায়গায় বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব ও কর্তব্যও পালন করতে হবে। এতে মন খারাপ করে থাকার চাইতে এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিন।

এটিকে একটি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন এবং যতটা সম্ভব আনন্দ করার চেষ্টা করুন। আপনি মন খারাপ করে থাকলে শুধু আপনার নয়, আশেপাশের সবার ঈদের আনন্দও মাটি করে দেবেন। সময়টা উপভোগ করার চেষ্টা করুন এবং আপনার কী করা উচিত তা বোঝার চেষ্টা করুন। কয়েক বছরের মধ্যে পুরো বিষয়টি আপনার কাছে খুব স্বাভাবিক মনে হবে এবং সেখানে থাকতে না পারলে মনে হবে কী যেন মিস্‌ করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে স্বামীরা আরেকটু যত্নবান এবং দায়িত্বশীল হোন। আপনার স্ত্রী যেন দিশেহারা বোধ না করেন সে জন্য তাকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করুন আপনার পরিবারের সদস্যরা তার কাছ থেকে কী আশা করছে। উনি মন খারাপ করে থাকলে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করুন। বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকায় আপনার বাড়ির হৈচৈয়ের মধ্যেও উনার একা লাগতে পারে, তাই এসময় উনার পাশে থাকার চেষ্টা করুন।

শেষমেশ, আমরা মায়া পরিবারের পক্ষ থেকে আশা করছি যে আপনারা যারা নতুন বিয়ে করেছেন তাদের জন্য এই ঈদ অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা হবে! ঈদ মোবারাক!

About the author

Maya Apa Expert Team

Leave a Comment