কৈশোর স্বাস্থ্য বয়ঃসন্ধিকাল

বয়ঃসন্ধিকালীন বিভিন্ন জটিলতা

Written by Maya Expert Team

বিভিন্ন কারনে কিছু শিশু অন্যান্যদের চাইতে আগে বা পরে বয়ঃপ্রাপ্তি বা পিউবার্টি (puberty)-এর অভিজ্ঞতা লাভ করে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি কোন বিশেষ শারীরিক অবস্থার কারনে হতে পারে যা নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করতে হতে পারে।

স্বাভাবিক সময়ের আগে বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া (Early puberty)

বয়ঃপ্রাপ্ত বা সাবালক হওয়ার লক্ষণগুলো (যেমন মেয়েদের ক্ষেত্রে স্তন বেড়ে ওঠা, ছেলেদের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষ বড় হয়ে যাওয়া এবং যৌনাঙ্গের চারপাশে চুল গজানো) যদি মেয়েদের বয়স ছয় থেকে আট আর ছেলেদের বয়স নয় বছর হওয়ার আগে তাদের মধ্যে দেখা যায় তাহলে সেটিকে অস্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হয়।

কারনসমূহ

বয়ঃপ্রাপ্তি লাভের প্রক্রিয়াটি GPR54 নামক জিনটি শুরু করে। এটি আমাদের মস্তিস্কে একটি সঙ্কেত পাঠায় যার ফলে একটি চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয় এবং শরীরে বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়।

নিম্নোক্ত কারনে এই চেইন রি অ্যাকশনটি আগে আগে শুরু হয়ে যেতে পারেঃ

  • মস্তিস্কের কোন সমস্যা (যেমন, টিউমার)
  • মস্তিষ্কে আঘাত জনিত কারনে
  • মস্তিস্কের কোন সংক্রমণ (যেমন, মেনিনজাইটিস)
  • ডিম্বাশয় বা থায়রয়েড গ্রন্থির কোন সমস্যার কারনে
  • কারো ক্ষেত্রে বংশগত ভাবেই এমনটি হওয়ার প্রবণতা থাকলে
  • বেশিরভাগ সময়ই মেয়েদের পিউবার্টি আগে আগে শুরু হওয়ার কোন নির্দিষ্ট কারন জানা যায় না। ছেলেদের মধ্যে স্বাভাবিক বয়সের আগে পিউবার্টি শুরু হওয়াটা কম দেখা যায়, এবং প্রায়ই এর কোন নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত কারন থাকে।

আগে আগে সাবালক হওয়ার (early puberty) চিকিৎসা

স্বাভাবিক সময়ের আগে বয়ঃপ্রাপ্তি শুরু হওয়ার কারন নির্ণয়ের জন্য ডাক্তার হরমোনের কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানতে রক্ত পরীক্ষা করতে দিতে পারেন।

আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI স্ক্যানও করা হতে পারে টিউমার ও গ্রন্থিসমূহের কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য।

কারনের উপর ভিত্তি করে দুইভাবে আগে সাবালক হওয়ার চিকিৎসা করা হয়ঃ

  • টিউমারের মত কোন সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা
  • ওষুধ দিয়ে অধিক মাত্রায় থাকা যৌন হরমোনগুলো (sex hormones) কমিয়ে দেয়া, যাতে বয়ঃপ্রাপ্তি বা সেক্সুয়াল ডেভেলপমেন্টের (sexual development) প্রক্রিয়াটি থেমে যায়।

ওষুধের মাধ্যমে এর চিকিৎসা কেবলমাত্র তখনই করা হয় যখন আগে আগে সাবালক হওয়ার কারনে ভবিষ্যৎ জীবনে আপনার কোন সমস্যা (যেমন হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত খাটো হয়ে থাকা) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমন অবস্থা না হলে আগে আগে সাবালক হওয়ার কারনে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা হবে না।

দেরিতে সাবালক হওয়া

মেয়েদের ক্ষেত্রে সাবালকত্ব প্রাপ্তি অস্বাভাবিক দেরিতে ঘটছে মনে করা হয় যদিঃ

  • ১৪ বছর বয়সেও তার স্তন বৃদ্ধির কোন চিহ্ন দেখা না যায়।
  • ১৪ বছর বয়সেও যৌনাঙ্গের চারপাশে কোন চুল না গজালে
  • পিউবার্টি শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পরেও স্তনগুলো পরিপূর্ণ বৃদ্ধি লাভ না করলে
  • ১৬ বছর বয়স হয়ে গেলেও প্রথমবারের মত মাসিক না হলে
  • ছেলেদের ক্ষেত্রে সাবালকত্ব প্রাপ্তি অস্বাভাবিক দেরিতে ঘটছে মনে করা হয় যদিঃ
  • ১৪ বছর বয়স হয়ে গেলেও অণ্ডকোষের বৃদ্ধির (testicular development) কোন লক্ষন দেখা না যায়।
  • ১৫ বছর বয়সেও যৌনাঙ্গের চারপাশে কোন চুল না গজায়।
  • পিউবার্টি শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পরেও পুরুষাঙ্গ এবং অণ্ডকোষ পরিপূর্ণ বৃদ্ধি লাভ না করে।

কারনসমূহ

সাবালকত্ব প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি GPR54 নামক জিনটি শুরু করে। এটি আমাদের মস্তিস্কে একটি সঙ্কেত পাঠায় যার ফলে একটি চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হয় এবং শরীরে বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণ শুরু হয়।

এই চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হতে দের হতে পারে নিম্নোক্ত কারনেঃ

  • বংশগত কারনে (আপনার বংশেই হয়ত সাবালকত্ব লাভের প্রক্রিয়াটি দেরিতে শুরু হয়)
  • দীর্ঘদিন ধরে সিস্টিক ফিব্রসিস (cystic fibrosis), ডায়বেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগলে
  • খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম বা দীর্ঘদিন সিস্টিক ফিব্রসিস (cystic fibrosis)-এর মত অসুখ বা অন্য কোন কারনে অপুষ্টিতে ভুগলে
  • অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে (পেশাদার অ্যাথলেট এবং জিমন্যাস্ট হওয়ার কারনে)
  • পলিসিস্টিক ওভারিস (polycystic ovaries) হলে। অর্থাৎ ডিম্বাশয়ের উপর সিস্ট হলে (cysts on the ovaries)
  • টিউমার বা অন্য কোন কারনে কোন গ্রন্থি ক্ষতিগ্রস্ত হলে
  • হরমোনের সমস্যার (যেমন, থায়রয়েড গ্রন্থি ঠিকভাবে কাজ না করলে; ) কারনে
  • এন্ড্রোজেন ইনসেন্সিটিভিটি সিন্ড্রোমের মত কোন জেনেটিক সমস্যার কারনে। এন্ড্রোজেন ইনসেন্সিটিভিটি সিন্ড্রোম (androgen insensitivity syndrome) খুব বিরল একটি সমস্যা যার কারনে ছেলেদের শরীর যৌন হরমোনগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

দেরিতে সাবালক হওয়ার চিকিৎসা

দীর্ঘদিন ধরে ধরে অসুখে ভোগার মত কোন কারন না থাকলে, সাবালকত্ব লাভ করতে দেরি হওয়ার কারন নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে।

আপনার হরমোনের কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে। আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI স্ক্যানও করা হতে পারে টিউমার ও গ্রন্থিসমূহের কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার জন্য।

আগে আগে সাবালক হওয়ার চিকিৎসার মতই দেরিতে সাবালক হওয়ার চিকিৎসাও নির্ভর করে এর অন্তর্নিহিত কারনের উপর। অধিকাংশ সময়ই যে অন্তর্নিহিত সমস্যাটির কারনে সাবালক হতে দেরি হচ্ছে সেটির, চিকিৎসা করলেই পিউবার্টির প্রক্রিয়াটি নিজে থেকে শুরু হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাবালক হওয়ার প্রক্রিয়া চালু করার জন্য হরমোনযুক্ত ওষুধ খেতে হতে পারে।

About the author

Maya Expert Team