কিছু খাবার জন্য তীব্র ইচ্ছা!

তো, হবু মায়েদের কি খাবার খেতে সবচেয়ে বেশি ইচ্ছে করে? আপনি যদি আইসক্রিম এবং আচারের কথা ভাবেন, তাহলে আপনি খানিকটা সঠিক! যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের একটি সহযোগী ওয়েবসাইটের জরিপে দেখা গেছে যে মাঝরাতে হঠাৎ করে কিছু খাওয়ার তীব্র ইচ্ছার মধ্যে সবার আগে আছে আইসক্রিম। কিন্তু আচার নয়।

অন্তত ৪০ শতাংশ মহিলা বলেছেন গর্ভাবস্থায় তাদের খুব ভালো লাগতো মিষ্টি জাতীয় খাবার খেতে। নোনতা খাবার ভালো লাগার সংখ্যাও কম নয় (প্রায় ৩৩ শতাংশ)। তিন নাম্বারে আসে মশলাদার খাবার (১৭ শতাংশ)। বাকি ১০ শতাংশের মধ্যে যারা আছেন, তাদের ভালো লাগতো লেবু জাতীয় ফল, সবুজ আপেল বা অন্যান্য জিভে জল আনা টক খাবার।

পেঁয়াজের আচার, আছেন কেউ?

একটা নির্দিষ্ট খাবারের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা গর্ভাবস্থার একটা অন্যতম অংশ। অন্তত ৮৫ শতাংশ মহিলা বলেন যে গর্ভাবস্থায় একটি বিশেষ খাবার তাদের খুব খেতে ইচ্ছে করেছে বা ভালো লেগেছে। তবে তাদের উল্লেখ করা এইসব খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষার সবগুলিকে ঠিকমত শ্রেনীবিন্যাস যেমন করা যায় না, তেমনি সবগুলি খেতেও ভালো লাগে না!

আমেরিকান হবু মায়েরা বলেন যে তাদের গর্ভাবস্থায় তারা পনির, সালসা, এমনকি স্টেক ফ্যাটে চুবানো আচার জার থেকে বের করে খেতে পছন্দ করতেন। কিন্তু, মিষ্টি, ঝাল, টক, নোনতা যে কোনো খাবারের তালিকাতেই ব্ল্যাক অলিভ বা চিজ কেক নিশ্চয়ই স্বাভাবিকভাবেই কোনো মেয়ের প্রিয় খাবারের তালিকার প্রথমে থাকে না!

একজন হবু মা জরিপে বলেন, গর্ভাবস্থায় তিনি নিয়মিত পেঁয়াজের আচার খেতেন। কিন্তু তার বাচ্চা হয়ে যাবার পরে, সেই জিনিস এমনকি দেখলেও তার অসহ্য লাগতো! আরেকজনের তীব্র ঝোঁক ছিলো বেগুন এর প্রতি, বিশেষ করে পিজা টপিং হিসেবে!

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই তীব্র ইচ্ছা শুরু হয় হঠাৎ করেই, কিন্তু এর মাত্রা থাকে অনেক বেশি। একজন মা বলেন, ‘পুরো নয় মাস জুড়ে আমার মনে হতো নাশপাতি না খেতে পারলে আমার চলবেই না! কিন্তু কিছুতেই আমার এই ক্ষুধা মিটতো না, এমনকি দিনে পাঁচ পাউন্ড খেলেও না!’

এই তীব্র ক্ষুধার ভাব কোথা থেকে আসে? গর্ভাবস্থায় আপনার মধ্যে যে হরমোনের আচমকা পরিবর্তন হচ্ছে সে জন্য আপনার স্বাদ ও গন্ধের সংবেদনে প্রভাব পড়তে পারে।

কিন্তু মোদ্দা কথা হচ্ছে যে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। কতিপয় বিশেষজ্ঞ তাই কেবলমাত্র হরমোনের পরিবর্তনের ব্যাপারেই আপাতত তাদের ভাবনা সীমাবদ্ধ রাখতে চান।

সিগারেটের শেষ টানের জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষা বলতে কি বোঝায়?

নির্দিষ্ট কিছুর জন্য তীব্র ক্ষুধা বলতে কি বোঝায়, তা নির্ভর করে আপনি কাকে জিজ্ঞেস করছেন তার ওপর। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন কিছু কিছু তীব্র ক্ষুধার অনেক তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ আছে। যেমন বরফ বা আরো অদ্ভুত কোনো জিনিস, যেমন সিগারেটের শেষ টান বা কাপড় ধোয়ার মাড়-এর প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষার মানে হতে পারে শরীরে লোহার অভাব রয়েছে। যদিও, এইসবের কোনোটাতেই লোহা নেই বললেই চলে!

অনেক মহিলাই বলেছেন যে গর্ভাবস্থায় তারা প্রচুর পরিমাণ বরফ খেতেন, যদিও সচরাচর বরফের প্রতি তাদের আহামরি কোনো ভালো লাগা কখনোই ছিলো না।

কিছু বিকল্প ধারার চিকিৎসাবিদ বিশ্বাস করেন গর্ভবতী নারীর যদি চকোলেটের প্রতি তীব্র ক্ষুধা থাকে, তাহলে হয়তো তার শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি-এর অভাব আছে। কোনো কোনো গর্ভবতী নারীর খাবারে ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকার প্রয়োজন হতে পারে। কিভাবে আপনি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেতে পারেন সে ব্যাপারে আরো পড়ুন।

একইভাবে, উচ্চ আমিষ উপাদান সম্মৃদ্ধ গাঢ় লাল মাংস (গরু/খাসি ইত্যাদি) খাওয়ার প্রচন্ড ইচ্ছা মানে শরীরে প্রোটিন দরকার এবং যিনি প্রতিদিন কেজি কেজি নাশপাতি খেতেন তার হয়তো বেটাক্যারোটিন এর অভাব ছিলো।

তারপরও আপনার শরীরের কি প্রয়োজন আর আপনার কি খেতে ইচ্ছে করে তার মধ্যে খুব বেশী সম্পর্ক নেই। যদি সেটা হতোই তাহলে মাঝে মাঝেই আমাদের চকোলেট আর চিপ্স খেতে খুব ইচ্ছে না হয়ে সারাক্ষণ ব্রকোলি আর তাজা ফলই খেতে ইচ্ছে করতো!

এমন হতে পারে আপনার হয়তো দরকার একটু মনযোগ ও আদর!

সবশেষে একটা ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা একমত যে আপনার যদি কিছু খেতে খুব ইচ্ছে করে, তাহলে সেটার প্রতি গুরুত্ব দিন, কিন্তু তাই বলেই সেই ইচ্ছা সবসময় পূরণ করতে হবে এমন নয়! আপনার এই ক্ষুধা যদি কোনো পুষ্টি উপাদানের অভাবে হয়ে থাকে, তাহলে যে কোনো পুষ্টিকর খাবারেই তা পূরণ হয়ে যাবে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, খাবার অনেক সময় আবেগীয় চাহিদাও মেটায়। যদি আমরা কোনো কারনে প্রচণ্ড আবেগতাড়িত বোধ করি, তাহলে হ্যামবার্গার না, বরং দরকার যে কেউ এসে আমাদের আদর করে জড়িয়ে ধরুক!

যে ক্ষুধা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অপকারী, তাকে প্রশমন করবেন কীভাবে? প্রতিদিন সকালের নাস্তা করুন (সকালের নাস্তা বাদ দেয়া মানেই এই তীব্র ক্ষুধা জোরালো হওয়া), পর্যাপ্ত ব্যায়াম করুন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনি বহুধরনের ও সুষম খাবার খাচ্ছেন।