প্রসবকালীন পরিকল্পনা কি?

প্রসবকালীন পরিকল্পনা কি?
প্রসবকালীন পরিকল্পনা হচ্ছে, বাচ্চা হবার সময়ের এবং বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হবার পরের সময় টুকুর একটি লিখিত পরিকল্পনা। বাচ্চা ‘জন্মদানের প্রক্রিয়ার’ অনেক বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখতে হয়, একই ভাবে বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হবার পরের করনীয় গুলোর বাপারেও যদি চিন্তাভাবনা করে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে লিখে রাখা হয় তাহলে বিষয়গুলো সহজ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া যায়।

আপনার গর্ভাবস্থার ৩৪তম সপ্তাহ নাগাদ ডাক্তার আপনাকে জানাবে্ন কবে আপনার ‘প্রসব ব্যাথা’ শুরু হতে পারে এবং তখন আপনার ‘প্রসবকালীন পরিকল্পনার’ কথাও জানতে চাইবেন।


প্রসবকালীন পরিকল্পনায় আপনি কি কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করবেন ?
আপনার প্রসবকালীন পরিকল্পনা একদমই আপনার ব্যক্তিগত। আপনার পরিকল্পনায় কি কি থাকবে তা নির্ভর করবে আপনার চাওয়ার উপর, যেমন

  • আপনার আকাঙ্ক্ষা কি
  • আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক ইতিহাস (মেডিকেল হিস্ট্রি)
  • আপনি বর্তমানে যেখান থেকে প্রসূতি সেবা নিচ্ছেন, সেখানে কি কি ব্যবস্থা আছে


আপনার প্রসব পরিকল্পনায় আরও যে সব বিষয় থাকতে পারে –

  • আপনি কোথায় বাচ্চা প্রসব করতে চান ( বাসায়, পরিবার পরিকল্পনা সেবা কেন্দ্রে বা হাসপাতালে)
  • প্রসবের সময় আপনার সাথে কাউকে কি রাখতে চান, চাইলে কাকে রাখতে চান
  • কোন ভঙ্গিতে (শারীরিক অবস্থানে) আপনি বাচ্চা প্রসব করতে চান (এর কিছু বিকল্প আছে, ডাক্তার সেগুলো আগেই আপনাকে বলবেন, আপনি আপনার পছন্দর কথা ডাক্তারকে জানিয়ে রাখবেন)
  • যদি আপনার কোনো ব্যাথানাশক লাগে তাহলে আপনার কোনো পছন্দ আছে কি না ( যেমন, পেথিড্রিন, ইপিডিউরাল, গ্যাস বা বাতাস)
  • বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর, গর্ভফুল (প্ল্যাসেন্টা) কে দ্রুত বের করার জন্য আপনি ইঞ্জেকশন দিতে চান কি না, নাকি স্বাভাবিকভাবেই সেটা বের হবে
  • যদি পরিকল্পনামতো প্রসব প্রক্রিয়া অগ্রসর না হয়, তাহলে যন্ত্র-পাতির সাহায্যে বাচ্চা প্রসব করাবেন কি না বা সিজারিয়ান সেকশন করাবেন কি না
  • বাচ্চা প্রসবের সময় যদি কাউকে আপনার পাশে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে সে কোথায় দাঁড়াবে, আপনার মাথার পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে কি না।
  • বাচ্চাটিকে পরিষ্কার করার আগেই আপনার কোলে এনে দেবে কি না
  • আপনি বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াবেন নাকি বোতলে্র দুধ
  • প্রসবের সময় শিক্ষানবীশ নার্স ও ডাক্তাররা সেখানে থাকতে পারবেন কিনা

আপনার যদি বিশেষ কোনো চাহিদা থাকে তাহলে সেটাও এই পরিকল্পনায় সংযুক্ত করতে পারেন। যেমন –

  • হাসপাতালে থাকার সময় আপনাকে যে খাবার দেয়া হবে সে ব্যাপারে কোন পছন্দ আছে কিনা,
  • বাচ্চার জন্মের পর কোনো বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করতে চান কিনা

প্রসবকালীন পরিকল্পনার অন্তরভুক্ত যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হল, তার অনেক কিছুই আমাদের দেশে এখনও সে ভাবে প্রচলিত হয়নি। কিন্তু হওয়া দরকার। যদিও অনেক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রর সামর্থ্য ও সুযোগ সীমিত, সেবাপ্রার্থীর চাপ অনেক বেশি, তারপরও, একটু সচেতন হলে, স্বদিচ্ছা থাকলে এর অনেক কিছুই প্রচলন করা সম্ভব।


আপনার প্রসব পরিকল্পনা লিখে রাখা বিষয়ে কিছু পরামর্শ
আপনার প্রসব পরিকল্পনা লেখার ব্যাপারে সাহায্য করতে আমাদের ‘অনলাইন প্রেগনেন্সি কেয়ার প্ল্যানার’-এ একাধিক সেকশনসহ একটি ফর্ম সংযুক্ত আছে। চিন্তা ভাবনা করে আপনার প্রসবকালীন পরিকল্পনার তালিকা প্রস্তুত করুন। আপনার মন যা চায়, সে ভাবেই এটা লিখুন। আপনার কাছে কোন জিনিসগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার একটা ধারনাও এই লেখা থেকে পাওয়া যাবে। কিন্তু একটা বিষয় ভুলে যাবেন না, সবকিছু সবসময় পরিকল্পনামতো ঘটে না, আপনাকে ছাড় দেবার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে ।

আপনার পুরো পরিকল্পনাই যে একবারে লিখতে হবে তা নয়। প্রসবপূর্ব সেবার আলচনায় অংশগ্রহন করে, বই পড়ে বা অন্য মায়েদের সাথে কথা বলে বাচ্চার জন্মপ্রক্রিয়া সম্পর্কে যত জানবেন, ততই আপনি সংযোজন ও পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনার প্রসবের সময় চিকিৎসক ও নার্সের যে দলটি আপনার সেবার জন্য থাকবে, তাদের সাথে আপনার পরিকল্পনাসমুহ আলাপ করে নিন, তাহলে তারাও জানবে আপনি কি চান। আপনার সাথে যদি প্রসব পরিকল্পনাটি লিখিত আকারে থাকে, তাহলে আরো ভালো হয়।

0 comments

Leave a Reply