মৃত সন্তানের জন্মদান

মৃত শিশু জন্মালে কী করবেন?
পরিসংখ্যান মতে বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার শিশু জন্মের মধ্যে ২৬ টি শিশু মৃত অবস্থায় জন্মগ্রহন করে। গর্ভাবস্থার ২৪ সপ্তাহ বা তার বেশি সময় পর যে শিশু মৃত অবস্থায় প্রসব হয় তাদেরকে এই হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে। প্রায় সমান সংখ্যক শিশু মারা যায় জন্মানোর পরপর, একে নবজাতক মৃত্যু বলা হয়। এ ধরনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রায়ই অজানা থেকে যায়।

মাঝে মাঝে কিছু শিশু গর্ভেই মারা যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন প্রসব বেদনা হয় না। এমন হলে প্রসব বেদনা শুরুর জন্য আপনাকে ওষুধ দেয়া হবে। এ অবস্থায় শিশুটিকে বের করা আনার এটাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। এর পর আপনি এবং আপনার সঙ্গী চাইলে শিশুটিকে ধরেও দেখতে পারেন।

এভাবে শিশুকে হারানো কষ্টদায়ক। আপনি ও আপনার সঙ্গী এ সময়ে নানা রকম বেদনাদায়ক অনুভূতির মুখোমুখি হবেন। সেগুলোর তীব্রতা কেমন হবে, কখন বাড়বে বা কখন কমবে কেউই বলতে পারে না। এসব অনুভূতির মধ্যে আছে অবিশ্বাস, রাগ, অপরাধবোধ বা তীব্র শোক। কোন কোন মা মনে করেন তিনি বাচ্চার কান্না শুনতে পাচ্ছেন, কোন কোন মা পেটের ভেতর বাচ্চার লাথি অনুভব করেন। শিশুকে হারানোর পরবর্তী কয়েকমাস এই শোক বেশ তীব্র হয়। এই শোক কীভাবে সামাল দেবেন সে সম্পর্কে জানুন।

কিছু কিছু মা-বাবা শিশুটিকে ঘিরে কিছু স্মৃতি তৈরি করে, সেগুলো লালন করে ভাল বোধ করেন, যেমন মৃত অবস্থায় জন্মানোর পর শিশুটিকে দেখা, কোলে নেয়া বা তাকে কোন নাম দেয়া ইত্যাদি। আপনি বাচ্চাটির ছবি তুলে রাখতে পারেন বা স্মৃতি হিসাবে এক গোছা চুল, হাত বা পায়ের ছাপ বা বাচ্চাটির কাঁথা আপনার কাছে রেখে দিতে পারেন। এতে করে বাচ্চাটি যে এক সময় সত্যিই ছিল সেই অনুভূতিটুকু আপনি ও আপনার পরিবারের স্মৃতিতে জেগে থাকবে এবং এভাবে এক সময় বিষয়টির সাথে মানিয়ে নেয়াও আপনার পক্ষে সহজ হবে। এছাড়া আপনার ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী বা অন্য যারা আপনার মতই শিশুকে হারিয়েছেন তাদের সাথে আলোচনা করেও আপনি সুফল পেতে পারেন।


মৃত শিশুর সুরতহাল (post mortem)
প্রথমেই শিশুর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে। মাঝে মাঝে মরদেহ পরীক্ষা করে তার উত্তর পাওয়া যায়, কিন্তু প্রায়ই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত ভাবে জানা যায় না। তবে এই ধরনের পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যত গর্ভধারণে কাজে লাগতে পারে এবং সম্ভাব্য কোন কারণগুলো শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ি ছিল, সে সম্পর্কেও একটা ধারনা পাওয়া যায়। যদি এরকম পরীক্ষা প্রয়োজনীয় মনে হয় তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আপনার সাথে সে সম্পর্কে কথা বলবেন। আপনি আগ্রহী হলে সুরতহাল করার আগে আপনাকে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।

এই পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের সাথে সাক্ষাৎ করতে বলা হবে। তিনি এই ফলাফল আপনাকে বুঝিয়ে বলবেন এবং পরবর্তিতে সন্তান ধারনের ক্ষেত্রে এই প্রতিবেদন কিভাবে কাজে লাগবে তাও বুঝিয়ে বলবেন।