গর্ভবতী মায়ের অনুভূতি

গর্ভবতী মায়ের অনুভূতি
একটা প্রচলিত ধারণা আছে যে গর্ভাবস্থায় একজন নারীকে সবসময়ই খুব হাসি-খুশি থাকতে হবে। আপনি সন্তানসম্ভবা জানার পর আপনার আশেপাশের মানুষও চাইবে আপনি ভালো মেজাজে থাকুন, আপনার শিশুকে নিয়ে ভালো চিন্তা করুন। তাদের কথা শুনতে শুনতে আপনারও হয়তো মনে হবে যে সবসময়ই ভালো থাকতে হবে।

কিন্তু, এটাও সত্য যে এই নয়টা মাসেও অন্য নয়টা সাধারণ মাসের মতোই আপনার মনের আকাশে মেঘও জমবে, রোদও হাসবে।


হরমোনের পরিবর্তন ও ক্লান্তিবোধ
গর্ভাবস্থায় শরীরের হরমোনে পরিবর্তন হয় বলে প্রচন্ড ক্লান্ত বোধ হয়। কখনো কখনো বমি বমি লাগে। এমনকি গর্ভবতী নারী অল্পতেই প্রচন্ড আবেগপ্রবণ পড়েন, কিংবা মন খারাপ করে ফেলেন। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এরকম খুব বেশি হয়। আপনি নিজেই খেয়াল করলে দেখবেন আপনার হয়তো কোনো কারণ ছাড়াই চোখে পানি চলে আসছে কিংবা আপনি কথায় কথায় রেগে যাচ্ছেন। ক্লান্তি আর শারীরিক অবসাদের জন্য আপনার হয়তো কিছুই ভালো লাগছে না। এ সময় নিজের শরীরের দিকে নজর দেয়া সবচেয়ে বেশি দরকারী আর সেই সাথে দরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম।

গর্ভাবস্থায় আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরো জানুন। সেই সাথে আরো পড়ুন সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়াম সম্পর্কে।


দুশ্চিন্তা
একজন নারী যখন গর্ভবতী হন, বিশেষ করে সেটা যদি তার প্রথম গর্ভধারণ হয়, তাহলে তিনি গর্ভের শিশুকে নিয়ে প্রচন্ড উৎকন্ঠা ও দুশ্চিন্তা বোধ করেন। বিভিন্ন কারণেই এই দুশ্চিন্তা হয়। যখনই প্রসবপূর্ব সেবার জন্য আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন, আপনার হয়তো মনে মনে দুশ্চিন্তা থাকবে যে শিশুর কোনো জটিলতা ধরা পড়তে পারে।

টাকা-পয়সা, বাসস্থান কিংবা পেশা নিয়েও আপনার মধ্যে দুশ্চিন্তা কাজ করতে পারে। অভিভাবক হিসেবে আপনি আপনার দায়িত্বটুকু ঠিকমতো পালন করতে পারবেন কি না, কিংবা অভিভাবক হবার জন্য আদৌ আপনি প্রস্তুত কি না, এগুলো নিয়েও আপনার চিন্তা হতে পারে।

কিছু কিছু দুশ্চিন্তা আপনার সঙ্গীর সাথে কিংবা পরিবার বা বন্ধুদের কারো সাথে শেয়ার করুন। এসব বিষয় নিয়ে যত খোলামেলা কথা বলতে পারবেন, ততই ভালো হবে।


স্বপ্ন
অনাগত সন্তানকে নিয়ে অনেক গর্ভবতী নারীই স্বপ্ন দেখেন। তবে কখনো কখনো তাদের দুশ্চিন্তাগুলোও স্বপ্নে প্রতিফলিত হয়। কারণ, এ সময় একজন গর্ভবতী নারী সারাক্ষণই তার গর্ভাবস্থা এবং গর্ভাবস্থার কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে চিন্তিত থাকেন। আপনার যদি সারাক্ষণই এরকম দুশ্চিন্তা হয়, তাহলে আপনার উচিত হবে ডাক্তারের সাথে কথা বলা।


কীভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন ?
আপনি যদি আপনার দুশ্চিন্তাগুলো নিয়ে আরেকজন গর্ভবতী নারীর সাথে কথা বলেন, তাহলেও অনেক সময় উপকার হতে পারে। যার সাথে কথা বললে আপনার ভালো লাগবে বলে মনে হয়, আপনার উৎকন্ঠা আর উদ্বেগগুলো নিয়ে তার সাথেই খোলামেলা কথা বলুন। তিনি হতে পারেন আপনার সঙ্গী, কিংবা আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু-বান্ধবের কেউ কিংবা আপনার ডাক্তার !


বিষন্নতা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যা
একজন গর্ভবতী নারী তার গর্ভের শিশুকে নিয়ে চিন্তিত বোধ করবেন, আবার হঠাৎ হঠাৎ বিষন্ন বোধ করবেন – দুটোই খুব স্বাভাবিক আচরণ। কিন্তু যদি এমন হয় যে তিনি সারাক্ষণই তার শিশুটিকে নিয়ে চিন্তিত থাকেন, কিংবা সারাক্ষণই বিষন্ন বোধ করেন, তাহলে সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। কেন আপনার বিষণ্ণ লাগছে, এমনকি যদি কোনো কারণ ছাড়াই আপনার বিষন্ন লাগে, সেটাও আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্য পরিদর্শককে জানান।

তাদেরকে আপনার বোঝাতে হবে যে এখন আপনার অন্য সময়ের চাইতেও বেশি খারাপ লাগে। গর্ভাবস্থায় অনেক নারীই এমন বিষন্ন হয়ে পড়েন যে তা কাটিয়ে উঠতে ডাক্তারের পরামর্শ ও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

কোনো গর্ভবতী নারীর যদি আগে কখনো মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থেকে থাকে, তাহলে গর্ভাবস্থায় কিংবা সন্তান প্রসবের পরেও বিষণ্ণ বোধ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আপনি যদি আগে কখনো কোনো মানসিক জটিলতায় ভুগে থাকেন, তাহলে গর্ভাবস্থার শুরুতেই সেটা আপনার ডাক্তারকে জানিয়ে দেয়া উচিত হবে। গর্ভাবস্থায় যদি সময়ে সময়ে আপনার মেজাজের পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে কাউকে না কাউকে সেটা বুঝিয়ে বলুন। এগুলো মনের মধ্যে চেপে রেখে একা একাই যদি কষ্ট পান, তাতে কোনো ভালো ফল হবে না।