গর্ভাবস্থা – সপ্তাহ ২

গর্ভাবস্থা – সপ্তাহ ২


শিশু
এখনও কিন্তু আপনাকে গর্ভবতী বলা যাবে না! ভ্রুণকোষটি এখনও ডিম্ববাহী নালীর ভেতর দিয়ে নামছে আর বিভাজিত হচ্ছে। গর্ভে পৌঁছালে এটি ০.১ – ০.২ মিমি ব্যাস আকার ধারণ করবে এবং এ অবস্থায় এর নাম হবে ভ্রুণ । আপনার আনন্দের উৎস কেবলই জরায়ুর গায়ে আটকাতে শুরু করেছে , যা এখন ১০০টির বেশি কোষের সমষ্টি। এটাকে বলা হয় প্রথিত (Implantation) হওয়া অর্থাৎ জরায়ুর ভিতরের গায়ে আটকে যাওয়া এবং ডিমস্ফোটনের ১০-১৪ দিন পর এটা ঘটে থাকে। ভ্রুণর প্রথিত হবার সময় আপনার যোনিপথে ফোঁটা ফোঁটা রক্তপাত হতে পারে, আর তলপেটের মাংসপেশিতে কিছুটা টান অনুভূত হতে পারে।

আপনি হয়তো কিছুই টের পাচ্ছেন না, কিন্তু গর্ভস্থ ভ্রূণকোষটি ইতিমধ্যেই ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা ঠিক হয়ে গেছে। এ পর্যায়ে এটি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পরে, ভিতরে থাকে ভ্রুন এবং বাইরে একটি আবরন যার নাম ইয়ক স্যাক (yolk sac), মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটিকে বলা হয় এমনিয়টিক গহ্বর। গর্ভফুল (placenta) পুরোপুরি গঠন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ক স্যাক বাচ্চার শরীরে পুষ্টির যোগান দেয় এবং তাকে সুরক্ষিত রাখে। এ পর্বে গর্ভফুল (placenta) মাত্র তৈরি হওয়া শুরু করেছে, এটি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হতে ৮ সপ্তাহ সময় লাগে। গর্ভের ২ সপ্তাহে নাভিরজ্জুও গঠিত হতে শুরু করে এবং একটুআধটু কাজ করে।


গর্ভবতী মা
আপনার ভেতর ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা শিশুটিকে সকল রকম সহযোগিতা দিতে আপনার শরীর প্রস্তুত হচ্ছে। এসময় আপনি ক্লান্ত বোধ করতে পারেন, আপনার স্তনদ্বয় কিছুটা স্ফীত হয়ে উঠতে পারে এবং ব্যথা ব্যথা বোধ হতে পারে। আপনি হয়তো খেয়াল করবেন যে আপনার ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসছে। ভ্রূণটি জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হবার পর আপনার শরীর প্রচুর পরিমাণে Beta – hcG হরমোন নিঃসরণ শুরু করবে যার কারণে আপনার শরীরে গর্ভাবস্থার প্রাথমিক লক্ষণসমূহ দেখা যাবে। এই হরমোন ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন এর ক্ষরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেবে । আপনার গর্ভাবস্থাকে সচল রাখার জন্য এই দুটো হরমোন অপরিহার্য ।

প্রসবপূর্ব সেবার জন্য এখনি আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে না, তবে আপনি অন্তঃসত্ত্বা কি না নিশ্চিত হবার জন্য ডাক্তারকে একবার দেখিয়ে নিতে পারেন। সুষম খাবার খাওয়া শুরু করুন, আর এখন থেকেই জেনে নিন আপনাকে কি কি খেতে হবে । আপনার এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম দরকার এবং মানসিক চাপ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা জরুরি। আপনার শিশুটি এখনো জরায়ুতে খুব শক্ত ভাবে আটকায়নি, সুতরাং খুব ভারী কাজ করা যাবে না। অল্প জগিং, সাঁতার কিংবা ইয়োগা’র মতো হাল্কা ব্যায়াম করা যেতে পারে, কিন্তু রিকশা’র ঝাঁকুনি থেকে সাবধান থাকতে হবে !

মনে রাখবেন, সুস্থ শিশু চাইলে নিজেকেও সুস্থ থাকতে হবে। সুতরাং, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করতে হবে। যদি আপনার মদ্যপান করতেই হয় বা খুব ইচ্ছে হয়, তাহলে সপ্তাহে এক গ্লাস ওয়াইন-ই যথেষ্ট; যদিও গর্ভাবস্থায় কতটুকু পর্যন্ত মদ্যপান নিরাপদ তার কোনো প্রামাণ্য মাত্রা নেই। অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে ফিটাল অ্যালকোহল সিনড্রোম (Fetal Alcohol Syndrome) হতে পারে। এই ফিটাল অ্যালকোহল সিনড্রোম এর ফলে শিশুর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, মানসিক বৈকল্য, শিক্ষণ বৈকল্য, দৃষ্টির সমস্যা এমনকি আচরণগত সমস্যাও দেখা যেতে পারে। ডাক্তার আপনাকে খাবারে যেটুকু ভিটামিন ও খনিজ রাখতে বলেছেন তার বাড়তি কিছু খাওয়ার দরকার নেই, কিংবা আলাদা কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। এখন থেকে নিজেকে কেবল অন্তঃসত্ত্বা না ভেবে অন্তঃসত্ত্বার মতোই আচরণ করুন।


যেসব বিষয়ে ভাবতে হবে
আপনার কি ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার মাত্রা বেশির মতো প্রকট কোনো শারীরিক সমস্যা আছে? যদি থাকে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণে না রাখা হয় তাহলে আপনার অনাগত শিশুর জন্য সেটা ক্ষতিকর হতে পারে। সুতরাং একটি সুস্থ গর্ভাবস্থার জন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন।