ফাইব্রয়েড- চিকিৎসা

ফাইব্রয়েড- চিকিৎসা
যদি জরায়ুর টিউমার এর কোন উপসর্গ না থাকে বা ছোটখাট উপসর্গ থাকে যা দৈনন্দিন কাজকর্মে কোন সমস্যা সৃষ্টি করে না, তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। মেনোপজ (রজঃবন্ধ) হবার পর  ফাইব্রয়েড বা জরায়ুর টিউমার সংকুচিত হয়ে আসে এবং উপসর্গ গুলো ধীরে ধীরে কমে আসে বা সম্পুর্ণ চলে যায়। যদি আপনার এমন ফাইব্রয়েড থাকে যার চিকিৎসার প্রয়োজন, ডাক্তার তখন আপনাকে কিছু ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন যা আপনাকে এই উপসর্গগুলো থেকে মুক্ত করবে। এরপরও যদি সমস্যা থেকে যায়, তাহলে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানোর প্রয়োজন হবে। সমস্যা হলেই আপনার উচিৎ  ডাক্তার দেখানো এবং  এবং সম্ভাব্য সবচেয়ে ভাল চিকিৎসা গ্রহন করা।


উপসর্গের জন্য চিকিৎসাবলী
মাসিকে অত্যাধিক রক্তপাত কমানোর জন্য কিছু ঔষধ ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু ফাইব্রয়েডস আকারে যত বড় হবে এগুলো তত কম কার্যকরী হবে। এই ঔষধগুলো্র বর্ননা নিচে দেয়া হলঃ

লেভনোরগেস্ট্রেল ইন্ট্রাইউটেরাইন সিস্টেম (LNG-IUS)
LNG-IUS একটি ছোট প্লাস্টিক যন্ত্র যা আপনার জরায়ুতে স্থাপন করা হলে, এর থেকে ধীরে ধীরে প্রোগেস্টোজেন হরমোন, লেভনোরগেস্ট্রেল নির্গত হয়। LNG-IUS আপনার জরায়ুর ভিতরের স্তরের দ্রুতবৃদ্ধি কমিয়ে দেয়, এই ভিতরের স্তর পাতলা হয়ে থাকার কারণে মাসিকের সময় রক্তক্ষরন কম হয়।

LNG-IUS এর সাথে যে সকল পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হতে পারে-

  • অনিয়মিত রক্তক্ষরণ যা  LNG-IUS লাগানোর পর ৬ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
  • ব্রণ
  • মাথাব্যথা
  • স্তনে টনটনে ভাব
  • খুব কম ক্ষেত্রে মাসিক বন্ধ হয়ে যায়।
  • LNG-IUS জন্মনিরোধক হিসেবেও কাজ করে, কিন্তু এর ব্যবহার বন্ধ করার পর গর্ভধারণ করতে সমস্যা হয়।


ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড
যদি LNG-IUS অনুপযুক্ত হয় (উদাহরন্স্বরুপ, যদি জন্মনিয়ন্ত্রনের ইচ্ছা থাকে), তখন ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড বিবচনা করা হয়। এই ট্যাবলেট গুলো গর্ভে রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে। মাসিক এর সময় ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড ট্যাবলেট ৪ দিন পর্যন্ত  দিনে ৩ বার দেয়া হয়। যদি ৩ মাসের মাঝে উপসর্গ উন্নতি না হয় তবে চিকিৎসা থামানো উচিৎ। ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড ট্যাবলেট কোন জন্মনিয়ন্ত্রক নয় এবং এটা গর্ভবতী হবার সম্ভাবনা কমায় না। বদহজম এবং ডায়রিয়া এর সম্ভাব্য পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া।


অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি মেডিসিন
মাসিকের প্রথম দিন থেকে শুরু করে যতক্ষন না পর্যন্ত রক্তক্ষরন বন্ধ হয় অথবা সন্তোষজনক পর্যায়ে নেমে আসে, ততদিন ইবুপ্রোফেন এবং মেফেনামিক অ্যাসিড এর মত নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগস (NSAIDs) দিনে ৩-৪ বার নেওয়া যেতে পারে। এগুলো আপনার শরীরের প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন (হরমোন এর মত পদার্থ) এর পরিমান কমিয়ে দেয়। এই প্রস্টাগ্ল্যান্ডিন ভারী মাসিকের জন্য দায়ী। অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ঔষধগুলো একধরনের পেইনকিলার বা ব্যথানাশক, কিন্তু এগুলো কোনধরনের জন্মনিয়ন্ত্রক নয়।

বদহজম এবং ডায়রিয়া এর সাধারন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া।

জন্মনিয়ন্ত্রের বড়ি বা কন্ট্রাসেপটিভ পিল
জন্মনিয়ন্ত্রের বড়ি, জন্মনিয়ন্ত্রনের জন্য একটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি যা ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু নির্গমন কে বাধা দেয়। রক্তক্ষরন কমানোর পাশাপাশি কিছু কিছু জন্মনিয়ন্ত্রক পিল মাসিক ব্যথা কমাতেও সাহায্য করে।

জন্মনিয়ন্ত্রন এবং জন্মনিয়ন্ত্রের বড়ি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত পরামর্শ আপনার ডাক্তার আপনাকে দিবেন।


মুখে খাওয়ার নরইথিস্টেরন
নরইথিস্টেরন একটি কৃত্রিম ভাবে তৈরী প্রোজেস্টেরন (মহিলাদের একটি অন্যতম সেক্স হরমোন) যা ঘন ঘন মাসিক হওয়া কমাতে পারে। এটা সাধারনত মাসিকের ৫-২৬ দিন পর্যন্ত প্রত্যেকদিন নিতে হয়, এক্ষেত্রে মাসিকের প্রথম দিনকে দিন-১ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নরইথিস্টেরন জরায়ুর ভিতরের আস্তরনের দ্রুত বৃদ্ধির হার কমিয়ে দেয়। এটি জন্মনিয়ন্ত্রনের প্রচলিত কোন পদ্ধতি নয়, যদিও এটি নেওয়ার সময় গর্ভবতী হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

নরইথিস্টেরন এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হতে পারে বিষণ্ণতা, ওজন বৃদ্ধি, স্তনে ব্যথা, এবং ক্ষনস্থায়ী ব্রণ।


প্রজেস্টোজেন ইনজেকশন
ভারী মাসিকের চিকিৎসায় প্রজেস্টোজেন ইনজেকশন হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এটিও জরায়ুর ভিতরের আস্তরনের দ্রুত বৃদ্ধির হার কমিয়ে দেয়। প্রজেস্টোজেন ইনজেকশন ১২ সপ্তাহ পর পর নিতে হয় ।

প্রজেস্টোজেন এর সাধারন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াঃ

  • ওজন বৃদ্ধি
  • অনিয়মিত মাসিক
  • মাসিক এর অনুপস্থিতি
  • মাসিকপূর্ব উপসর্গ, যেমন পেট ফুলে যাওয়া,  শরীর ফুলে যাওয়া, এবং স্তনে ব্যথা।
  • প্রজেস্টোজেন ইনজেকশন জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবেও কাজ করে। ব্যবহার করা ছেড়ে দিলে পুনরায় গর্ভবতী হওয়া য়ায়, যদিও বন্ধ করার পর থেকে গর্ভবতী হতে কিছুটা দেরি হতে পারে।


ফাইব্রয়েড সংকুচিত করে ফেলার চিকিৎসাঃ
যদি উপরে উল্লিখিত চিকিৎসা নেওয়া সত্বেও, ফাইব্রয়েডস এর লক্ষণগুলো আপনি নিজের শরীরে অনুভব করেন, সেক্ষেত্রে আপনাকে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের  কাছে পাঠানো হবে। বিশেষজ্ঞে চিকিৎসক আপনাকে গোনাডট্রপিন রিলিজিং হরমোন অ্যানালগস (GnRHas)  নামক ঔষধ দিবেন যা ফাইব্রয়েডকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে।

GnRHas, যেমনঃ গোসেরেলিন অ্যাকিটেট, এক ধরনের হরমোন যা ইনজেকশন এর মাধ্যমে দেওয়া হয়। এটি আপনার শরীর থেকে ইস্ট্রোজেন হরমোনকে খুব কম পরিমানে নিঃসরণ করায়, যার কারনে ফাইব্রয়েডস সংকুচিত হয়ে যায়।

GnRHas আপনার মাসিক থামিয়ে দেয়, কিন্তু এটি কোন প্রচলিত জন্মনিয়ন্ত্রের পদ্ধতি নয়। এটি নেয়া বন্ধ করে দিলে এরপর থেকে আপনার গর্ভাবতী হতে কোন ধরনের অসুবিধা হবে না। যদি আপনাকে GnRHas নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়, তবে তা আপনাকে মাসিকের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ থেকে রক্ষা করবে এবং এবং ফাইব্রয়েডের কারনে পাকস্থলীতে অনুভূত চাপের হাত থেকেও রক্ষা করবে। এছাড়াও এটি ঘনঘন মূত্রত্যাগ এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মত উপসর্গেরও উন্নতি করতে পারে।

কখনো কখনো GnRHas, অপারেশান করে ফাইব্রয়েড ফেলে দেবার আগে তা সংকুচিত করার জন্যেও ব্যবহৃত হয়।

GnRHas মেনোপজের মত কিছু পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কারন হতে পারে,যেমন

  • মুখমন্ডল লাল ও গরম হয়ে যাওয়া
  • ঘাম বেড়ে যাওয়া
  • পেশী শক্ত হয়ে যাওয়া
  • যোনি শুকিয়ে যাওয়া

এর পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কখনো কখনো GnRHas এবং  হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT) সমন্বিত ভাবে দেয়া হয়।

GnRHas নেওয়ার কারনে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসাবে কখনো কখনো হাড় ক্ষয় (অস্টিওপোরোসিস) এর সমস্যা দেখা দিতে পারে । আপনার ডাক্তার আপনাকে এ সম্পর্কে আরো বেশী তথ্য দিতে পারবেন, এবং সাথে কিছু অতিরিক্ত ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিবেন যাতে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ করা যায় ।

GnRHas শুধুমাত্র সল্প মেয়াদে (এক বছরে সর্বোচ্চ ৬ মাস) দেয়া হয়। আপনার ফাইব্রয়েডস পুনরায় পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে পারে যদি আপনি চিকিৎসা নেয়া বন্ধ করে দেন।


সার্জারী

যদি আপনার ফাইব্রয়েড এর উপসর্গ খুব বেশি গুরুতর হয় এবং যখন ঔষধের মাধ্যমে এর নিরাময় করা যায় না, তখন সার্জারীর প্রয়োজন হতে পারে । ফাইব্রয়েডস অপারেশনের কয়েকটি ভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার চিকিৎসক আপনাকে একজন বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাবেন । সেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আপনার সাথে অপারেশনের বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবেন, এগুলোর সুবিধা অসুবিধা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও আপনাকে জানাবেন।

অপারেশনের প্রধান কয়েকটি পদ্ধতি নিম্নে বর্ননা করা হলঃ

১) হিস্টেরেকটমি
হিস্টেরেকটমি জরায়ু ফেলে দেয়ার একটি সার্জিক্যাল পদ্ধতি । এটা ফাইব্রয়েডস থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি । এটা তখনই করা হবে যদি আপনার ফাইব্রয়েডস বেশ বড় হয় অথবা  গুরুতর রক্তক্ষরন হয় এবং আপনি যদি আর কোন বাচ্চা নিতে না চান। হিস্টেরেক্টমি বিভিন্ন ভাবে করা যায়, যেমনঃ যোনীপথে কিংবা বাইরে থেকে আপনার পেট কাটার মাধ্যমে।

অপারেশনের পদ্ধতির উপর নির্ভর করে এনেস্থেসিয়ার পদ্ধতি ঠিক করা হয়। এটি হতে পারে স্পাইনাল এনেস্থেসিয়া (যেখানে আপনাকে কোমড়ের নিচে আসাড় করা হবে ) অথবা জেনেরাল এনেস্থেশিয়া ( যেখানে আপনারকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান করা হবে)।

আপনার হিস্টেরেকটমি অপারেশনের পর কিছুদিনের জন্য হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। সম্পূর্ন ভাল হতে প্রায় ৬-৮ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। এই সময়ে যত পারুন বিশ্রাম নিন।

হিস্টেরেকটমির পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হতে পারে সময়ের আগেই মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সহবাসের ইচ্ছে কমে যাওয়া।

২) মায়োমেকটমি
মায়োমেকটমি গর্ভাশয়ের দেয়াল থেকে ফাইব্রয়েডসকে আলাদা করে ফেলার জন্য একটি সার্জিক্যাল পদ্ধতি। এটা হিস্টেরেকটমির একটি বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, বিশেষ করে সেসব মহিলাদের জন্য, যারা এখনো বাচ্চা নিতে ইচ্ছুক। তবে মায়োমেকটমি সবরকমের ফাইব্রয়েডস এর জন্য উপযুক্ত নয়। আপনার গাইনী বিশেষজ্ঞ, ফাইব্রয়েডস এর আকার,সংখ্যায় কতগুলো এবং অবস্থান ইত্যাদি দেখে আপনাকে জানাবেন, আপনার জন্য এ অপারেশনটি উপযুক্ত কিনা। ফাইব্রয়েডস এর আকার এবং অবস্থান এর উপর ভিত্তি করে মায়োমেকটমি করা হয়। আপনার পেটে কিছু সংখ্যক ছোট ছিদ্র করে এটা করা হতে পারে বা বা একটিমাত্র বড় কাটার মাধ্যমেও করা হতে পারে (একে ওপেন সার্জারি বলে)।

মায়োমেকটমি জেনারেল এনেস্থেসিয়ার মাধ্যমে করা হয় এবং এই অপারেশনের পর কিছুদিন হাসপাতালে থাকতে হয়। হিস্টেরেক্টোমির মত এখানেও আপনাকে পরামর্শ দেয়া হবে কিছু সপ্তাহের জন্য বিশ্রামে থাকার।  মায়োমেকটমি ফাইব্রয়েড এর জন্য একটি কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি, যদিও আবারও ফাইব্রয়েডস গাজিয়ে উঠার একটি সম্ভাবনা থাকে, তখন আবারো অপারেশন এর প্রয়োজন হবে।

৩) অপারেশন ছাড়া প্রক্রিয়া
ফাইব্রয়েডস এর চিকিৎসার জন্য প্রথাগত অপারেশানের সাথে কিছু অপারেশান বহির্ভূত চিকিৎসাও রয়েছে। সেগুলো নিচে দেয়া হলঃ

  • ইউটেরাইন আর্টারী এম্বোলাইজেশন (UAE)

ইউটেরাইন আর্টারী এম্বোলাইজেশন (UAE) হিস্টেরেকটমী এবং মায়োমেকটমি চিকিৎসার একটি বিকল্প পদ্ধতি । বড় ফাইব্রয়েড থাকলে এর পরামর্শ দেয়া হয়। UAE একজন রেডিওলজিস্ট (একজন ডাক্তার যিনি এক্স-রে এবং স্ক্যান ব্যাখা করতে পারেন) এর সহায়তায় পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিতে যে রক্তনালী ফাইব্রয়েডকে রক্ত সরবারহ করে তাকে বন্ধ করে দেয়া হয়, যার ফলে ফাইব্রয়েড সংকুচিত হয়ে যায়।

এই পদ্ধতিতে, পায়ের একটি রক্তনালীর মধ্য দিয়ে ক্যাথেটারের মাধ্যমে এক ধরনের রাসায়নিক তরল শরীরে প্রবেশ করানো হয়, যা এক্স-রের মাধ্যমে বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এটা লোকাল এনেস্থেসিয়া দ্বারা করানো হয়, যার অর্থ হলো আপনি জেগে থাকবেন কিন্তু সেই নির্দিষ্ট এলাকা অসাঢ় হয়ে থাকবে। আপনার UAE এর পর দু-একদিন হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন হতে পারে। যখন আপনি হাসপাতাল ত্যাগ করবেন, আপনাকে এক-দু সপ্তাহের জন্য বিশ্রাম নিতে বলা হবে। যদিও UAE এর পর সফল গর্ভ ধারণ করা সম্ভব, উর্বরতায় এবং গর্ভধারনে এটি কোন সমস্যা তৈরি করে না। এই পদ্ধতিটি অনুসরন করার আগে ডাক্তার আপনার সাথে বিস্তারিত আলোচনার করবেন, আপনাকে জানাবেন এই পদ্ধতির ঝুঁকি কি, এর সুবিধা কি , অনিশ্চয়তা কি।

  • এন্ডোমেট্রিয়াল অ্যাব্লাশন (Endometrial ablation )

এন্ডোমেট্রিয়াল অ্যাব্লাশন তুলনামূলকভাবে খুব ছোট একটি পদ্ধতি যা জরায়ুর ভিতরের আস্তরন কমায়। এটা প্রধানত ফাইব্রয়েডের কারনে সৃষ্ট মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরন কমাতে সাহায্য করে, একই সঙ্গে এটি গর্ভাশয়ের ভিতরের আস্তরনে ছোট ছোট ফাইব্রয়েড অপসারন করতেও ব্যবহার করা যায়। আক্রান্ত গর্ভাশয়ের আস্তরন কয়েকটি পদ্ধতিতে অপসারন করা যায়, যেমন, লেজার রশ্মি ব্যবহার করে, উতপ্ত  তারের ফাঁস ব্যবহার করে, মাইক্রোওয়েভ হিটিং (microwave heating) ব্যবহার করে, অথবা বিশেষ বেলুনের ভিতরে গরম তরল ব্যবহার করে। পদ্ধতিগুলো লোকাল অথবা জেনারেল এনেস্থেসিয়া এর  মাধ্যমে করা হয় এবং খুব অল্প সময়ে সম্পন্ন হয়ে যায়, ২০ মিনিট এর মত লাগতে পারে, এবং একইদিনে বাসায়ও চলে যেতে পারেন। এরপর কয়েকদিন যোনি পথে কিছুটা  রক্তক্ষরন এবং পেটে কামড়ে ধরার মত ব্যথা হতে পারেকারো কারো ক্ষেত্রে এই সব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ৩-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত থেকে যেতে পারে । যদিও এন্ডোমেট্রিয়াল অ্যাব্লাশন করার পরেও গর্ভধারন সম্ভব, তবুও এ পদ্ধতিটি সেসব মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য নয় যাদের আরো বাচ্চা নেয়ার ইচ্ছা আছে। কারন এন্ডোমেট্রিয়াল অ্যাব্লাশন করার পর গর্ভপাত এর মত কিছু ঝুঁকি থেকে যায়।

  • হিস্টেরোস্কপিক রিসেকশন

ফাইব্রয়েড এর চিকিৎসায় হিস্টেরোস্কপিক রিসেকশন এমন একটি পদ্ধতি যাতে একটি সরু টেলিস্কোপ যার নাম হিস্টেরোস্কোপ ব্যবহার করা হয়। এই সরু নলের মধ্যে কিছু ছোট সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি যুক্ত থাকে, তার মাধ্যমে ফাইব্রয়েডকে অপসারণের করা হয়। পদ্ধতিটি যোনির মাধ্যমে হয়ে থাকে, তাই কাটাকাটির প্রয়োজন হয় না। পদ্ধতিটি ছোট ফাইব্রয়েডস অপসারণে ব্যবহার করা হয় যা গর্ভাশয়ের ভেতরে অবস্থান করে (সাবমিউকোসাল ফাইব্রয়েডস)। এটি সেসব মহিলাদের জন্য উপযুক্ত যাদের ভবিষ্যতে বাচ্চা নেওয়ার ইচ্ছা আছে। ফাইব্রয়েডের হিস্টেরোস্কোপিক রিসেকশন মূলত জেনারেল এনেস্থেসিয়ার অধীনে পরিচালিত হয়, যদিও লোকাল এনেস্থেসিয়ার মাধ্যমেও এতা করা সম্ভব। এটি সম্পন্ন হলে সেদিনই আপনি বাসায় চলে যেতে পারবেন। এই পদ্ধতির পর আপনার পেট কামড়ে ধরার মত অনুভূতি হতে পারে কিন্তু এটা শুধু কয়েক ঘন্টার জন্য। এক্ষেত্রে খুব অল্প পরিমানে যোনীপথে রক্তপাত হতে পারে, যা কয়েক সপ্তাহের মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়া উচিৎ।

৪) নতুন পদ্ধতিসমূহঃ
উপরের পদ্ধতিগুলোর পাশাপাশি ফাইব্রয়েড এর চিকিৎসায় দুইটি নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এই দুই নতুন পদ্ধতি ম্যগনেটিক রেজোন্যন্স ইমাজিং ( MRI )  এর সহায়তায় করা হয়।

  • MRI-guided percutaneous laser ablation
  • MRI-guided transcutaneous focused ultrasound

এই কৌশলে MRI ব্যবহার করে একটি ছোট সূঁচকে ফাইব্রয়েডের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে প্রবেশ করানো হয়। লেজার রশ্মি অথবা আল্ট্রাসাউন্ড শক্তি তখন সুঁচের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে ফাইব্রয়েডকে ধ্বংস করে। এই চিকিৎসার পদ্ধতি সব রকমের ফাইব্রয়েড চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়না, এবং এর দীর্ঘ-মেয়াদি ঝুঁকি অজানা। এসকল পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে নতুন, বাংলাদেশে এখনও তেমন প্রচলিত নয়। যদিও গবেষনা এখনো হচ্ছে, কিন্তু কিছু তথ্যপ্রমান বলে যে, এই অক্ষতিকর পদ্ধতিটির কিছু মাঝারী থেকে দীর্ঘ মেয়াদী সুবিধা রয়েছে, যখন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা তা পরিচালিত হয়।

তবে, গর্ভাবস্থায় এর প্রভাব এবং ভবিষ্যতে যাদের বাচ্চা নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি, তাই এটি অবশ্যই বিবেচনায় রাখা উচিৎ।