আপনি কী যৌন মিলনের জন্য তৈরি?

বাংলাদেশের অধিকাংশ অধিবাসী যৌন মিলনের প্রাথমিক জ্ঞান সম্পর্কে না জেনেই খুবই অল্প বয়সে যৌন কার্যকলাপে সক্রিয় হয়ে পড়ে।

যদিও সম্মতির জন্য একটি আইনি বয়স রয়েছে, তবে সেই বয়সটি যৌন সম্পর্কে জড়িত হবার জন্য সঠিক সময় নয়। কারো সাথে যৌন সম্পর্কে সম্পর্কিত হওয়ার পূর্বে ঠিক কতোদিন তার সাথে সময় কাটিয়ে তাকে বুঝতে হবে তার নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা নেই। এর জন্য তৈরি হওয়ার সময় ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয় – বন্ধুদের চাপের মুখে পড়ে কখনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে যাবেন না। 

কখন যৌন মিলন করতে হবে তা ঠিক করা

যার সাথেই থাকেন না কেন, আপনি যৌন মিলন করতে চান কী না তা সবসময় আপনিই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এমনকী এর পূর্বে একই ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করে থাকলেও এর অর্থ দাঁড়ায় না যে আপনাকে আবারও তা করতে হবে।

আপনি যৌন মিলনের জন্য তৈরি কী না তা মনস্থির করা জীবনের একটি বড় সিদ্ধান্ত। আপনিই কেবল এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আপনার কুমারীত্ব হারানোর বা আবার যৌন মিলন করার কথা যা-ই ভাবুন না কেন, তাহলে নিচের পরামর্শগুলো মনে রাখবেন।

কীভাবে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলবেন?

যৌন মিলন নিয়ে নিজে প্রস্তুত হওয়ার পূর্বে লজ্জাজনক যৌন মিলনের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে এ বিষয়ক বিব্রতকর আলোচনা করা ভাল। চিন্তা করা ও কথা বলার জন্য অনেক বিষয় রয়েছে, যেমনঃ

আপনারা উভয়েই এর জন্য প্রস্তুত কী না

সমকক্ষ ব্যক্তি বা সঙ্গীর চাপে নয় বরং সঠিক কারণে এ কাজ করা হচ্ছে কী না

যৌন মিলন পারস্পরিক সম্পর্কের একমাত্র বিষয় নয়, বরং একে অন্যের সাহচর্য উপভোগ করার আরো অনেক পন্থা আছে।

আপনি কী চান এবং কী চান না তা নিয়ে কথা বলুন। উভয়ের পছন্দ হয় এমন কাজও করা যায়, যেমন কথা বলা, একে অপরের পরিবারের সাথে দেখা করা, সিনেমা বা চলচ্চিত্র দেখতে যাওয়া, খেলাধূলা, হাঁটা বা গানও শুনতে পারেন।

 যৌন মিলন সম্পর্কিত যেসব প্রশ্ন নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে

শারীরিক সম্পর্ক করতে হলে আপনি তাতে কীভাবে সাড়া দিবেন এবং আপনি কতদুর পর্যন্ত যেতে পারেন সে সম্পর্কে আপনাকে নিজের উপর আস্থা রাখতে হবে। আপনি সাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন কী না তা নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন। এটা কী সঠিক সময়, সঠিক স্থান এবং সঠিক ব্যক্তি কী না তাও নিজে ভাবুন। উক্ত ব্যক্তিকে আপনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন কী না এবং একে অন্যের প্রতি একই অনুভব কাজ করে কী না তাও ভেবে দেখুন।

শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে এমন যদি আপনি মনে করেন, তাহলে নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করুনঃ

এটা কী সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে?

আপনি কী আপনার সঙ্গীকে ভালোবাসেন?

আপনাকেও কী আপনার সঙ্গী একই রকম ভালোবাসে?

কনডম ব্যবহার করা নিয়ে কী আপনারা আলোচনা করেছেন এবং ঐ আলোচনা কী ফলপ্রসূ ছিলো?

গর্ভধারণ রোধ করার পদ্ধতিগুলো কী আপনারা গ্রহণ করেছেন?

যদি যেকোন মুহূর্তে আপনার মতামত পাল্টে যায় এবং যদি যৌন মিলনে অনিচ্ছা দেখান, তাহলে আপনারা উভয় কী এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারবেন?

যদি উপরোক্ত সব প্রশ্নের উত্তর আপনি ‘হ্যাঁ’ দিয়ে থাকেন, তাহলে যৌন মিলনের জন্য সময়টি সঠিক। তবে নিচের প্রশ্নগুলোর যেকোন একটিরও উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকলে, শারীরিক সম্পর্কের জন্য সময়টি সঠিক নাও হতে পারেঃ

আপনি কী কোনো ব্যক্তি, যেমন সঙ্গী বা বন্ধুদের চাপে পড়ে এমন করছেন?

পরবর্তী সময়ে এ সিদ্ধান্তে কী আপনি অনুতপ্ত হবেন?

আপনি কী আপনার বন্ধুদের মাঝে প্রভাব বিস্তার বা তাদের সাথে তাল মিলানোর জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

আপনার সঙ্গীর প্রতি বিশ্বস্ত হওয়ার জন্য কী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

কারো সাথে সম্পর্কের মানে এই না যে তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে। এমন কী যদি আপনি এর পূর্বে এক বা দুইবার যৌনমিলন করলেও আপনার ছেলেবন্ধু বা মেয়েবন্ধু প্রত্যেকবার আপনার মতোই আগ্রহী কী না তা নিশ্চিত হতে হবে।

নিরাপদ যৌন মিলনের জন্য টিপস বা পরামর্শ

যখন আপনি যৌন মিলন করতে চান, তখন তার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা সৃষ্টি এবং/অথবা যৌন বাহিত সংক্রমণ (এসটিআই), যেমন ক্লাইমিডিয়াতে সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি থাকে। আপনি যার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান, তার সাথে সহবাসের পূর্বে গর্ভনিরোধ পদ্ধতি ও কনডম সম্পর্কে আলোচনা করা জরুরি। এ বিষয়ে আলোচনা করা উভয়েরই দায়িত্ব।

কনডম ব্যবহার করা

যার সাথেই আপনি যৌনোমিলন করেন না কেন, এসটিআই-এ সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি কমানোর জন্য আপনাকে কনডম ব্যবহার করতে হবে।

যদি আপনারা বিবাহিত না হোন এবং প্রেমিক/প্রেমিকা হয়ে থাকেন, তাহলে অযাচিত গর্ভাবস্থা সৃষ্টি রোধের জন্য গর্ভনিরোধের অতিরিক্ত পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

উপযুক্ত গর্ভনিরোধ পদ্ধতি নির্বাচন করা

গর্ভনিরোধ বা জন্মবিরতির ১৫টি পদ্ধতি আছে, যার মধ্যে ইমপ্লান্ট ইনজেকশন, মিশ্রিত পিল বা বড়ি এবং শুধুমাত্র প্রোজেস্টেরন মিশ্রিত পিল অন্তর্ভুক্ত। অধিকাংশ পদ্ধতি মহিলাদের দ্বারাই ব্যবহৃত হয়, তবে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে তা নির্বাচন করা উভয়েরই দায়িত্ব। গর্ভাবস্থা সৃষ্টি হলে তা উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলবে।

নিরাপদ যৌন মিলনের ব্যাপারে কীভাবে কথা বলব?

গর্ভনিরোধের বিভিন্ন পদ্ধতির বিষয়টি যৌন মিলনের সাথে জড়িত অন্যান্য বিষয়, যেমন অপরপক্ষের অনুভূতি, কী করতে ইচ্ছুক এবং কী করতে অনিচ্ছুক প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা শুরু করার জন্য একটি উত্তম পন্থা হতে পারে।

আপনি এভাবে বলতে পারেন যে, ‘গর্ভনিরোধের ১৫ টি পদ্ধতি রয়েছে, যৌন মিলনের সময় আমদের কোন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিৎ?’ এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলো নিয়ে জানা ও আলোচনা করা উভয়ের মধ্যে আরো আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে। ১৫টি জন্মনিরোধ পদ্ধতি সম্পর্কে জানুন।

শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত সম্পর্কে জানুন

পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় শারীরিক সম্পর্কে জড়িত হতে হয়, যা অনেককেই অবাক বা আশ্চর্য করে দেয়। তাই শারীরিক সম্পর্কে আগ্রহী হওয়ার ইঙ্গিত সম্পর্কে জানুন। কেউ যদি আপনাকে নীরব বা জনহীন স্থান খুঁজতে বলে, অথবা শারীরিক সংস্পর্শে আসে কিংবা হঠাৎ করে আপনাকে আকর্ষিত, বিমোহিত বা অতিরঞ্জিত প্রশংসা করতে থাকে, তবে তার অর্থ দাঁড়াতে পারে যে উক্ত ব্যক্তি আপনার সাথে যৌনমিলনে আগ্রহী, যাতে আপনার আগ্রহ নাও থাকতে পারে।

কখন শারীরিক সম্পর্ক করতে হবে সে বিষয়ে আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্য কেউ যাতে আপনার পরিবর্তে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে না দেয়, গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে তা হতে দিবেন না। সময়ের পূর্বেই এ সিদ্ধান্ত নিন এবং পরিস্থিতি নিজের আওতায় রাখুন, বিশেষ করে যদি আপনি মদ্যপান করে থাকেন, কেননা ঐ অবস্থায় আপনি অসচেতন থাকবেন।

যদি পরিস্থিতি নিজের আওতায় রাখা সম্পর্কে আপনি নিশ্চিত না হোন, তাহলে তাহলে সেসব পরিবেশ এড়িয়ে চলুন যেখানে শারীরিক সম্পর্ক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হতে পারে কারো কক্ষে যাওয়া কিংবা জনমানবহীন স্থানে যাওয়া।

মদ্যপান বা মাদক গ্রহণ সহায়তা করবে না

মাদক সেবন বা মদ্যপানে আসক্ত হওয়ার মাধ্যমে অনেক ব্যক্তিই শারীরিক সম্পর্ক করেন বা কুমারীত্ব হারান। কিছুক্ষণ মদ্যপান করার পর, নিজের চেতনা ও বিচক্ষণতা হারানোর সম্ভাবনা থাকে এবং ঐ সময় এমন অনেক কিছুই করে থাকতে পারেন যা স্বাভাবিক অবস্থায় আপনি করেন না। ঘুম থেকে জাগার পর ঐসব কাজের কথা মনে করে আপনি অনুশোচনা করতে পারেন কিন্তু যা করেছেন তা পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ আপনার কাছে থাকবে না। মাতাল থাকা অবস্থায় অধিকাংশ ব্যক্তিই কনডম ব্যতীত যৌন মিলন করে থাকেন, যা অযাচিত গর্ভাবস্থা সৃষ্টির বা যৌনবাহিত সংক্রমণে (STIs) সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

 

যৌন মিলন ও আইন

১৬ বছর বয়স থেকে নিজের সম্মতিতে যৌন মিলন করা আইনিভাবে বৈধ। যদি বয়স ১৩ এর নীচে থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে থাকে কেননা ঐ বয়সে যৌন মিলনে সম্মতি দেয়া আইনিভাবে বৈধ নয়।