“না” বলতে শিখুন

যৌনমিলন (অথবা চুম্বন, স্পর্শ বা অন্য যে কোন যৌন কার্যকলাপ)-এর দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে “না” বলতে কখনো কুণ্ঠা বোধ করবেন না। জীবনের বিভিন্ন সময়ে ও বয়সে মেয়েরা তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সামাজিক বা আবেগের কারনে তাদের সঙ্গীর দ্বারা যৌনমিলনের জন্য চাপের মুখে পড়েন। এই চাপে কয়েকটি বিষয় কাজ করে যার কারনে বিশেষ করে তরুণীরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যাতে তারা পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। পৌরুষের প্রচলিত ধারনার কারনে যুবক ও তরুণেরা স্বচ্ছন্দ বোধ করার আগেই যৌনমিলনের জন্য চাপ অনুভব করেন।

বাংলাদেশে একটা জটিল স্ববিরোধী অবস্থা বিরাজমান, যেখানে যৌনতা ও যৌন সম্পর্ক নিয়ে কথা বলাটা তেমন স্বাভাবিক নয়, কিন্তু অপর দিকে, বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে, সঙ্গীর দাবির কাছে নতি শিকার করার একটা চাপ থাকে। একারনে কাউকে “না” বলতে পারার অধিকার নারী পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কীভাবে আপনি না বলতে পারেন এবং আপনার সম্পর্ক ও পারস্পরিক বোঝাপড়ায় নিজের মতটা স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে পারেন তা জেনে নিন।

যেকোনো পর্যায়ে না

এটা মনে রাখা জরুরী যে সম্পর্কের যেকোনো পর্যায়েই আপনি কোন কিছুতে অসম্মতি জানাতে পারেন। কেউ আপনাকে কোন বিষয়ে জোর করতে পারে না। প্রেমিক, প্রেমিকা, স্বামী বা স্ত্রী যেই হোক তাকে প্রত্যাখ্যান করার অধিকার আপনার আছে, এবং সে কোন কিছুতে না করলে সেটির প্রতিও আপনাকে সম্মান দেখাতে হবে।

প্রথমবার হোক আর যাই হোক

বিভিন্ন মানুষ তাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক তৈরি করে। ভিন্ন ভিন্ন কারনে কেউ কেউ অল্প বয়সেই আবার কেউ কেউ বেশি বয়সে কারো সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে।

আপনি আগে শেষবার যার সাথে যখনই যৌনমিলন করে থাকুন না কেন, পরে সেই সময়ের চাইতে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারেন। আপনি একবার কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে থাকলেই আবার আপনাকে কারো সাথে সেটি করতে হবে এমন নয়। প্রতিটি অবস্থাই আলাদা, তাই একেকবার আপনি একেক রকম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আপনি পছন্দনীয় কাউকে খুঁজে পেলে, তার সাথে যৌনমিলনের আগে সপ্তাহ, মাস, এমনকি বছরও পার হয়ে যেতে পারে। আস্তে-ধীরে এগোন, এবং আপনার ও আপনার সঙ্গীর অনুভূতিগুলো বিবেচনায় আনুন। কখনো কেউ কাওকে এবিষয়ে চাপ প্রয়োগ করবেন না।

আপনার সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলুন। কথা বললে কোনটি সঠিক সময় তা জানা যায়, এবং আপানারা দুজনই কী ভাবছেন তা আন্দাজ করার চাইতে নিশ্চিতভাবে জানা যায়।

কীভাবে না করবেন

অনেক সময়ই দেখা যায় যে কম বয়স্কদেরকে, বিশেষ করে মেয়েদেরকে, ভুলিয়ে-ভালিয়ে ছেলেরা বা পুরুষেরা তাদের সাথে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করে। এসময় অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট কিছু ডায়লগ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে সম্পর্কের প্রস্তাবনাটা বিভিন্ন রকম হলেও শেষ পর্যন্ত যা করা হয় তা একই। যদি এভাবে কেউ আপনাকে ভোলাতে চায় তাহলে তার জবাব আপনি এভাবে দিতে পারেনঃ

সে যদি বলেঃ “তুমি কি আমাকে ভালোবাসো না?”

আপনি বলবেনঃ “বাসি, কিন্তু তোমাকে আমি সম্মানও করি” অথবা বলুন “তুমি খুব সুন্দর, কিন্তু আমি তোমাকে আরও ভালোভাবে জানতে চাই।”

সে যদি বলেঃ “আমার বন্ধুদের ধারনা আমাদের এটা এতদিনে করা উচিত ছিল।”

আপনি বলবেনঃ “আমাদের জন্য কোনটা ভাল সেটা ওরা জানে না।” অথবা বলুন “আমার মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত তোমার।”

সে যদি বলেঃ “আমাদের কনডম ব্যবহার করার দরকার নেই।”

আপনি বলবেনঃ “আমি মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত নই এবং কোন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি নিতে পারব না।”

সে বলতে পারেঃ “এটা আমাদের করে ফেলা উচিত।”

তখন আপনি বলবেনঃ “যদি আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করি তাহলে সেটা অনেক বেশি ভাল হবে।”

সে যদি বলেঃ “তুমি আমাকে ভালবাসলে না করতে পারতে না।”

আপনি বলবেনঃ “তোমাকে ভালবাসি বলেই আমি অপেক্ষা করতে চাইছি।” অথবা “তুমি আমাকে ভালবাসলে এমন কথা বলতে না।”

সে যদি বলেঃ “যদি আমরা শীগগিরি এটা না করি তাহলে আমি পাগল হয়ে যাব!”

আপনি বলুনঃ “বায়োলজি পড় ভাল করে… অপেক্ষা করে থাকাটা খারাপ কিছু না।”

সে বলতে পারেঃ “কিন্তু আমরা এতদিন ধরে একসাথে আছি!”

আপনি বলুনঃ “একসঙ্গে থাকলেই এটা করতে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি কখন রেডি সেটা আমি ঠিক করব।”

সে বলবেঃ “আমরা তো বিয়ে করবই।”

আপনি বলবেনঃ “তাহলে বিয়ে পর্যন্তই অপেক্ষা কর।”

আপনারা দুজনই মিলিত হতে সম্মত হলে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করুনঃ

· যৌনবাহিত রোগ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য অবশ্যই কনডম () ব্যবহার করবেন।

·অনাকাঙ্ক্ষিত মাতৃত্ব থেকে রক্ষা পেতে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করুন। গর্ভনিরোধক বিষয়ে আরও জানুন এইখানেঃ।

“না” বলাটা অভ্যেস করুন

শুনতে অদ্ভুত শোনালেও কাওকে “না” বলাটা প্র্যাকটিস করে নিনঃ

“না, আমি রেডি নই।”

“না, আমি এটা করতে চাই না।”

“না, এটা ঠিক মনে হচ্ছে না।”

অথবা আরও সহজঃ

শুধু “না।”

আপনি যদি যৌনমিলনে আগ্রহী না হন তাহলে আপনাকে পছন্দ করেন এমন যে কেউ আপনার সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখাবেন, আপনি তাদের সাথে আগে এটি করে থাকলেও।

আপনার সঙ্গী “যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো তাহলে তুমি এটা করবে” এমন কথা বলে তাহলে তাতে বিচলিত হবেন না। এটা ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল। আপনি তাকে যতই ভালবাসেন না কেন, সেটি প্রমান করার জন্য আপনাকে শারীরিকভাবে মিলিত হতে হবে না।

জেদ কখন যৌন আক্রমণ (Sexual Assault) হয়ে ওঠে

অনুচিতভাবে শরীর স্পর্শ করা থেকে শুরু করে জীবন সংশয় হওয়ার আক্রমণ পর্যন্ত যেকোনো ধরনের যৌন আক্রমণ হতে পারে। যৌন আক্রমণের শিকার হলে আঘাত বা আঁচড়ের চিহ্ন থাকবে এটা ভুল ধারনা। যৌন আক্রমণের কোন চিহ্ন দেখা না গেলেও সেটি একটি অপরাধ।

সাধারণত ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সের মেয়েরা এটির শিকার হয়ে থাকেন। তবে যেকোনো বয়স, জাতীয়তা বা যৌনরুচির নারী ও পুরুষ এটির শিকার হতে পারেন। এবং অনেক সময়ই পরিচিত কেউ আক্রমণটি করে থাকেন। সে আপনার সঙ্গী, প্রাক্তন প্রেমিক, স্বামী, আত্মীয়, বন্ধু বা সহকর্মী হতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে সাহায্য চাইতে কোন ভয় পাবেন না।

পারিবারিক নির্যাতন (Domestic violence)

যখন সঙ্গীদের মধ্যে কেউ অপর জনকে হেনস্তা করে করে তখন সেটিকে পারিবারিক নির্যাতন বলে। এটি মানসিক, শারীরিক বা যৌন নির্যাতন হতে পারে, এবং এর মধ্যে আপনাকে জোর করে যৌনমিলনে বাধ্য করাও পড়ে। আপনার সাথে এমন হয়ে থাকলে তার প্রতিকার রয়েছে। এবিষয়ে আরও জানুন এখানেঃ।