মেয়েদের প্রজননতন্ত্র

মেয়েদের প্রজননতন্ত্রে অন্তঃস্থ ও বহিঃস্থ দু’ধরনের অঙ্গই থাকে। এগুলো শ্রোণিদেশ বা pelvic area- অর্থাৎ নাভির নিচের অংশে অবস্থিত থাকে। বহিঃস্থ অঙ্গগুলোকে ভালভা (vulva; স্ত্রীযোনিদ্বার) বলে। এতে যোনিপথের খোলা দিক (opening of the vagina), ভিতর ও বাইরের ঠোঁট বা ল্যাবিয়া (Labia) এবং ভগাঙ্কুর (clitoris) থাকে।

মেয়েদের অন্তঃস্থ অঙ্গগুলোতে থাকেঃ

পেলভিসঃ নিতম্বের চারপাশে ছড়ানো হাড়ের কাঠামোকে পেলভিস বলে। জন্মের সময় বাচ্চা এর ভিতর দিয়ে বেরিয়ে আসে।

গর্ভ বা জরায়ুঃ গর্ভের আকার ও গড়ন সাধারণত একটি ওলটানো ছোট আকারের নাশপাতির (pear) মত হয়। এটি পেশি দিয়ে গঠিত এবং গর্ভের শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে এটিও বৃদ্ধি পায়।

ফেলোপিয়ান টিউবঃ এগুলো ডিম্বাশয় থেকে গর্ভ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। প্রতিমাসে ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু ফেলোপিয়ান টিউবে আসে। এখানেই ডিম্বানুর নিষেক ঘটে।

ডিম্বাশয়ঃ এখানে বাদাম (Almond)-এর আকৃতির দুটি ডিম্বাশয় থাকে। এগুলো ডিম্বাণু উৎপাদন করে।

জরায়ুমুখঃ (Cervix) এটি গর্ভের মুখের দিকে থাকে। এটি সাধারণত বন্ধ হয়ে থাকে, তবে অল্প একটু ফাঁক হয়ে থাকায় মাসিকের সময় এখান দিয়ে রক্ত বেরিয়ে আসতে পারে। প্রসবের সময় জরায়ুমুখটি অনেক বড় হয়ে যায় যেন বাচ্চা জরায়ু থেকে যোনিপথে (vagina) বেরিয়া আসতে পারে।

যোনিপথ (vagina): যোনিপথ বা ভ্যাজাইনা প্রায় ৮সে.মি. লম্বা একটি টিউব। এটি জরায়ুমুখ থেকে ভালভা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, এবং দু’পায়ের মাঝখানে এসে উন্মুক্ত হয়। ভ্যাজাইনা খুবই নমনীয় (elastic) হয়, যার ফলে এটি পুরুষের লিঙ্গ বা প্রসবের সময় বাচ্চাকে ঘিরে বিস্তৃত হতে পারে।

বহিঃস্থ অঙ্গগুলোর মধ্যে থাকেঃ

ল্যাবিয়া মেজোরা (Labia majora): ল্যাবিয়া মেজোরা প্রজননতন্ত্রের অন্যান্য বাইরের অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে। ল্যাবিয়া মেজোরায় ঘাম ও তেল নিঃসরণের গ্রন্থি (গ্ল্যান্ড) থাকে। বয়ঃপ্রাপ্তির (puberty) পরে ল্যাবিয়া মেজোরা চুলে ঢেকে যায়।

ল্যাবিয়া মাইনোরা (Labia minora): ল্যাবিয়া মাইনোরা খুবই ছোট বা ২ ইঞ্চি পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এটি ল্যাবিয়ামেজোরার ভেতরে থাকে এবং যোনিপথের খোলা দিক ও ইউরেথ্রা (urethra; এটি দিয়ে প্রস্রাব শরীর থেকে বেরিয়ে আসে) ঘিরে থাকে।

ভগাঙ্কুর (Clitoris): ভগাঙ্কুর একটি ছোট, সংবেদনশীল অঙ্গ যেটি কিছুটা বাইরে বেরিয়ে থাকে; এটিকে পুরুষদের পুরুষাঙ্গের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এটি প্রেপিউস (prepuce) নামক একটি চামড়ার ভাঁজের ভিতরে থাকে। প্রেপিইউস ছেলেদের লিঙ্গের সামনের বাড়তি চামড়ার মত। ভগাঙ্কুর খুবই সংবেদশীল এবং দৃঢ় হয়ে (Erect) উঠতে পারে।

হরমোনঃ মেয়েদের হরমোন, যার মধ্যে রয়েছে এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরোন, তাদের মাসিকের অনেকগুলো বিষয়, যেমনঃ ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু ছেড়ে দেয়া এবং জরায়ুর গায়ের পুরুত্ব বাড়িয়ে দেয়া, নিয়ন্ত্রণ করে। গর্ভাবস্থায় আপনার হরমোনের মাত্রা পরিবর্তিত হয়। গর্ভধারণের সাথে সাথে আপনার রক্তে এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে গর্ভের দেয়ালের পুরুত্ব বাড়তে থাকে, গর্ভ এবং স্তনে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, এবং বাচ্চার জন্য জায়গা তৈরি করতে গর্ভের পেশি শিথিল হয়ে আসে।