পুরুষদের প্রজননতন্ত্র

পুরুষদের প্রজননতন্ত্রের প্রধান কাজগুলো হচ্ছেঃ

1. শুক্রাণু এবং এর সুরক্ষকারী তরল সিমেন (semen) উৎপাদন, সংরক্ষণ, এবং পরিবহন করা

2. সঙ্গমের সময় নারীদের প্রজনন অঙ্গের ভেতর সিমেন নিয়ে ফেলা

3. পুরুষদের প্রজননতন্ত্রের রক্ষনাবেক্ষনের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন যৌন হরমোন উৎপাদন এবং এগুলোর ক্ষরণ ঘটানো।

মেয়েদের প্রজননতন্ত্রের মত শরীরের ভিতরের থাকার পরিবর্তে, ছেলেদের প্রজননতন্ত্রের বেশিরভাগ অঙ্গ শরীরের বাইরে থাকে। ছেলেদের প্রজননতন্ত্রে নিচের অংশগুলো থাকেঃ

1. অণ্ডকোষ – এখানে শুক্রাণু এবং অন্যান্য কয়েকটি হরমোন তৈরি হয়।

2. এখানে একধরনের নালী থাকে, যার মধ্যে ভাস ডিফারেন্স (vas deferens) নামের একটি অংশ থাকে যা শুক্রাণু সংরক্ষণ করা এবং অণ্ডকোষ থেকে পরিবহন করার কাজটি করে।

3. পেনিস (penis) বা পুরুষাঙ্গের মধ্যে ইউরেথ্রা নামক একটি নালী থাকে যা শুক্রাণু এবং এবং প্রস্রাব দুটিই বহন করে।

4. প্রোস্টেট গ্রন্থি এবং এবং সেমিনাল ভেসিকল্‌স (seminal vesicles) নামের দুটি গ্রন্থি থাকে। এই গ্রন্থিদুটিতে বিশেষ কিছু তরলজাতীয় পদার্থ উৎপন্ন হয়, যা শুক্রাণু নালী বেয়ে এগুনোর সময় সেটির সাথে যুক্ত হয়। এই তরলগুলোকে একসাথে সিমেন (semen) বা বীর্য বলে।

পেনিস বা পুরুষদের জননেন্দ্রিয় ইরেক্টাইল টিস্যু (erectile tissue) দিয়ে তৈরি। এই টিস্যুগুলো স্পঞ্জের মত কাজ করে এবং যখন এগুলো রক্ত দিয়ে ভর্তি হয়ে যায় পুং-জননেন্দ্রিয়টি তখন দৃঢ় এবং উত্থিত হয়ে ওঠে।

অণ্ডকোষদুটি একটি চামড়ার থলি – যাকে স্ক্রটাম (scrotum) বলে তার ভেতর থাকে এবং স্ক্রটাম শরীরের বাইরে ঝুলে থাকে। এভাবে থাকার ফলে অণ্ডকোষদুটির তাপমাত্রা সবসময় একই রকম থাকে, যা শরীরের তাপমাত্রার চাইতে সামান্য কম হয়। এটি শুক্রাণু তৈরির জন্য জরুরি। গরমের সময় স্ক্রটাম ঝুলে থাকে এবং শরীর থেকে দূরে অবস্থান করে, যেন অণ্ডকোষদুটি ঠাণ্ডা হয়ে থাকে। শীতের সময় স্ক্রটামটি উষ্ণতার জন্য শরীরের কাছাকাছি চলে আসে।

ভাস ডিফারেন্স নামের দুটি টিউব অণ্ডকোষে উৎপাদিত শুক্রাণু প্রোস্টেট এবং অন্যান্য গ্রন্থিতে নিয়ে যায়। এই গ্রন্থিগুলো থেকে নিঃসৃত আরও কিছু তরল শুক্রাণুর সাথে যুক্ত হয় এবং বীর্যপাতের সময় একসাথে বেরিয়ে আসে।

ইউরেথ্রা হচ্ছে একটি টিউব যা মূত্রাশয় থেকে বেরিয়ে প্রোস্টেট গ্রন্থির ভেতর দিয়ে পুরুষাঙ্গের মুখে থাকা ছিদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকে। বীর্যপাতের সময় শুক্রাণু এই টিউবটি দিয়ে বেরিয়ে আসে।