অ্যানাল সেক্স

অ্যানাল সেক্স কী?

অ্যানাল সেক্স হলো এক ধরণের যৌন আচরণ বা কাজ যা অ্যানালের (পায়ু বা শরীরের নিচের অংশ) সাথে সম্পর্কিত। নিম্নোক্ত কাজ এর অন্তর্ভূক্ত থাকেঃ

  • পায়ুপথে লিঙ্গ প্রবেশ করানো
  • পায়ুপথে আঙ্গুল কিংবা যৌনক্রিয়ায় ব্যবহৃত খেলনা বা সহকারী জিনিষ, যেমনঃ ভাইব্রেটর, প্রবেশ করানো
  • ওরাল সেক্স (মুখ বা জিহ্বা ব্যবহার করে পায়ুপথকে উত্তেজিত করা, এটি রিমিং নামেও পরিচিত)

অ্যানাল সেক্স এর প্রধান ঝুঁকিসমূহ কী কী?

যৌন সহবাসের অন্যান্য পদ্ধতি থেকে পায়ু অভ্যন্তরে প্রবেশকারী (penetrative) অ্যানাল সেক্স বা পায়ুপথের সহবাসে এসটিআই (যৌনবাহিত সংক্রমন) ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। কেননা পায়ুপথের আবরণ পাতলা থাকে যা সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে সংক্রমণের প্রবণতা আরো বাড়িয়ে যায়।

অ্যানাল সেক্স দ্বারা যেসব এসটিআই ছড়িয়ে পড়তে পারে সেগুলো হলোঃ

  • ক্লামিডিয়া
  • যৌনাঙ্গে হার্পিস
  • যৌনাঙ্গে ওয়ার্ট বা আঁচিল হওয়া
  • গনোরিয়া
  • হেপাটাইটিস বি
  • এইচআইভি
  • সিফিলিস

হেপাটাইটিস এ ও ই. কোলাই এর মতো ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সৃষ্ট কিছু সংক্রমণ ওরাল-অ্যানাল সেক্স দ্বারা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আঙ্গুল অন্য কারো পায়ুপথে প্রবেশ করানোর ফলেও এসটিআই-এ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কীভাবে অ্যানাল সেক্সকে নিরাপদ করা যায়?

অভ্যন্তরে প্রবেশকারী (penetrative) অ্যানাল সেক্স করার সময় কনডম ব্যবহার করুন যা এসটিআই-এর সংক্রমন থেকে রক্ষা করবে।তরল-নির্ভর লুব্রিক্যান্ট (পিচ্ছিলকারক পদার্থ) ব্যবহার করুন, যা ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। তেল-নির্ভর লুব্রিক্যান্ট (লোশন বা ময়েশ্চারাইজার) ব্যবহারের ফলে ল্যাটেক্সের (রাবার) কনডম ফেটে অথবা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

অ্যানাল সেক্স এর পরপরই যোনিপথে সহবাস করলে পুরুষ এবং নারী উভয় দম্পতিদের নতুন কনডম ব্যবহার করা উচিৎ। কারণ এর ফলে পায়ুপথ থেকে যোনিপথে ব্যাকটেরিয়া স্থানান্তরে বাধার সৃষ্টি হয়। যোনিপথে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ফলে প্রস্রাবে সংক্রমণ হয়।

লিঙ্গ প্রবেশকালে তীব্র ব্যথা বোধ হলে অ্যানাল সেক্স করা হতে বিরত থাকুন। অ্যানাল সেক্স করার সময় সাবধান থাকা ও এটি সহজভাবে নেয়া জরুরী। শরীরের এই অংশে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা যোনিপথ থেকেও বেশি থাকে, কারণ যোনিপথের পুরু আবরণ ঘর্ষণ সহ্য করতে যেমন অভ্যস্ত থাকে, পায়ুপথের নরম আবরণ তা পারে না। একটি ছোট আঘাতের কারণে ব্যথাময় ফাটল (মলদ্বারে ফাটল যা থেকে প্রায়ই রক্তপাত হয়) অথবা ফিস্টুলাসের (ভগন্দর রোগ) সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যার সমাধান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করার প্রয়োজন হয়।