যৌন সংক্রমণকে ঘিরে সামাজিক কলঙ্ক/বিধিনিষেধ : সমাজের একটি অপ্রত্যাশিত চিত্র

সম্ভবত পৃথিবীতে যে বিষয়টির সাথে সবচেয়ে বেশি বিধিনিষেধের বেড়াজাল বা ট্যাবু জড়িয়ে রয়েছে তা হল ‘যৌন’ নামক এ বিষয়টি। আর সেজন্যই হয়ত যৌন পরিবাহিত সংক্রমণকে পুরো বিশ্বজুড়েই কলঙ্কিত করা হয়। আমাদের মত রক্ষণশীল দেশেও এর ব্যাতিক্রম কিছু ঘটেনা। এখানে এ ধরণের সংক্রমণের সাথে জড়িত মানুষদের নিন্দা করা হয়। এমনকি এ মানুষগুলোকে এ ধরণের সংক্রমণের জন্য ‘নোংরা’, ‘অপরিষ্কার’, ‘বিশৃঙ্খল’ ও সবচেয়ে খারাপ বলে বিবেচনা করা হয়। ইতিহাসের পাতা নেড়ে দেখলে দেখা যায় যে, যৌন পরিবাহিত সংক্রমণকে সবসময় কলঙ্কিত করা হয়েছে এবং এর সম্পর্কে মানুষ সবসময় একটি ভুল ও বদ্ধ ধারণা ধারণ করে রেখেছে। যা এ সংক্রমণে আক্রান্ত মানুষটিকে শেষ পর্যন্ত কোন ধরণের চিকিৎসা এবং সাহায্য ছাড়াই এর চূড়ান্ত পরিনতির দিকে ঠেলে দেয়।

তাছাড়া এ ধরণের বিচার-বিবেচনা সবসময় উল্টো ফলই বয়ে নিয়ে আসে। যেমন-

এই ব্যাপারে অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত শিক্ষা,

সংক্রমণের মা্ত্রার আরো বৃদ্ধি,

এর প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় কম সমর্থন এবং

উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের সীবাবদ্ধতা

এক্ষেত্রে শুধুমাত্র সেবাগুলোর সহজলভ্যতা ও সহজগামিতা নিশ্চিত করায় নয় বরং সামাজিক এবং মানসিক কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো এ জীবানুতে আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা সেবা নিতে বাধা দেয় । যখনই কেউ সন্দেহ করে যে তার কোন যৌন রোগ আছে, তৎক্ষনাত সে ডাক্তার দেখানোর ইচ্ছা কমিয়ে দেয়। এটা হতে পারে কোন রোগ, দুর্বলতা, যৌনাঙ্গের কোন অস্বাভাবিকতা । এর সাথে ধরনের রোগীর একজন চিকিৎসক দেখানোর প্রবণতা বেশ কিছু বিষয়ের উপরও নির্ভর করে যেমন- এ রোগের অবস্থাটা কেমন, কোন অঙ্গটা এর সাথে জড়িত, এ রোগটি পরিবহনের ভাব/মাত্রাটা কেমন ইত্যাদি। কেবলমাত্র চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়েই একজন ডাক্তার দেখাতে আগ্রহী হয়।

সামাজিক বিধি-নিষেধই মূলত এ ধরনের চিকিৎসায় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। যে মানুষটির অনেক বড় বিষযের সাথে জড়িত সে অনেক অল্পেই অথবা সামান্য একটু গা গরম হলেই ডাক্তারের কাছে ছুটে। অথচ অবাক করার মত বিষয় হল যখন যৌন পরিবাহিত রোগের কথা আসে তখন তারা তাদের সমস্যাটা এড়িয়ে যেতে চায় এবং লক্ষণগুলো যতটা পারা যায় ততটা ছোট করে দেখতে চায়। বাংলাদেশের মত রক্ষণশীল দেশে একজনের অনেক সাহসের প্রয়োজন হয় কারো যৌন জীবনের এ বিষয়টিকে স্বীকার করাতে। আর দেশের খুব কম মানুষই সেটা করতে পারে।

এ রোগটি সনাক্ত করতে এবং চিকিৎসা ও প্রতিকারের প্রধান বাধ হচ্ছে যৌন প্রকাশ এবং এর অনুভূতির প্রতি মানুষের অপমানজনক মনোভাব। অনেক সময় এ বিষয়টিকে ঘিরে মানুষের মাঝে যে বিধি-নিষেধের বেড়াজাল তা এ জীবানুর চেয়ে আক্রান্ত সে মানুষটিকে বেশি ক্ষতি করে। অনেক ক্ষেত্রেই এ রোগটি যদিও আরোগ্য করা যায়না তবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু একে ঘিবে যে বিধি-নিষেধ তা এর প্রতিরোধকে প্রায় অসম্ভব করে দেয়। কেননা এ বিধি-নিষেধ ভাল, সৎ এবং পর্যাপ্ত তথ্যপূর্ণ আলোচনাকে অনেক কঠিন করে দেয়। তাই এ রোগটির প্রসারকে ফলপ্রসুভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করেতে এর প্রতি মানুষের মনোভাবের পরিবর্তনটা অনেক জরুরী।

বাংলাদেশে যৌনশিক্ষার চিত্রটা একটু অন্য রকম। এখানে এ শিক্ষাটা গ্রহণ করা হয়না বরং এটা থেকে নিজেকে দূরে রাখা্ হয়। দেশের যৌন সক্রিয় মানুষ এবং যুবকদের মাঝে যৌন শিক্ষার বিষয়টির চিত্র প্রায এইরকম। গ্রামীণ মানুষগুলোর কথা বাদ দিয়ে যদি শুধু শহরের মানুষগুলো মনোভাব দেখলে বুঝা যায় যে, তারা কনডম ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেনা কেননা বিষয়টি তাদের কাছে পুরষালী বলে মনে হয়না এবং তার এতে সন্তুষ্ট বোধ করেনা। অন্যদিকে বিশেষভাবে কিশোরী ও নারীরা মেরিস্টোর বা ফার্মেসীগুলো থেকে গর্ভনিরোধ ক্রয় করতে খুবই লজ্জা বোধ করে । তাই এ রোগ এবং গর্ভনিরোধকে ঘিরে পর্যাপ্ত তথ্যের সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিত করাটা অনেক জরুরী। এর সাথে সুস্থ্য যৌনস্বাস্থ্যের প্রচারণা করাটা এ রোগটির সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে ও এটি প্রতিরোধ করতে একটি প্রধান বিষয় হওয়া উচিত।

এ রোগটিকে ঘিরে স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক ও হাসপাতাল যেমন মেরিস্টোপগুলো অপনাকে কোন ধরণের বিচার না করে দেশে ভাল তথ্য ও চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে । মায়া আপাতে আমরা আপনাকে কোন কলঙ্ক না দিয়েই এ রোগটির উপর প্রতিনিয়তই আত্মবিশ্বাসের সাথে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি । দুটি ক্ষেত্রেই রোগীরা এ সহায়াতাকে অনেক প্রশংসা করেছে এবং সেসাথে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য ও চিকিৎসা পেয়েছে। আরো তথ্যের জন্য মেরিস্টোপ সেবাসমূহের এ ওয়েবসাইটটি আপনি ভিজিট করতে পারেন অথবা নিচের ঠিকানাই যোগাযোগ করতে পারেন – বাসা ৬/২, ব্লক- এফ, লালমাটিয়া হাউজিং এস্টেট, কাজি নজরুল ইসলাম রোড, লালমটিয়া, ঢাকা, বাংলাদেশ।

আসুন আমরা যৌন পরিবাহিত রোগ নিয়ে কথা বলি। কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জানাতে সহায়তা করি যে তাদের কোনগুলো করা উচিত এবং কোনগুলো অনুচিত। কিভাবে লক্ষণগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং কখন ও কোথায় সাহায্য চাইতে হবে। সহজে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন দুর্বলতার মতোই হচ্ছে যৌন পরিবাহিত রোগগুলো। আমরা এ রোগগুলোকে সামাজিক কলঙ্ক থেকে হয়ত বের করে আনতে পারিনা, কিন্তু সামাজিক কলঙ্ককে তো এ রোগগুলো থেকে বর করে আনতে পারি।