কোষ্ঠকাঠিন্য এবং প্যান্ট নোংরা করা (Soiling)

আপনার শিশু সপ্তাহে কমপক্ষে তিনবার পায়খানা না করলে এবং তাদের পায়খানা বা স্টুল (stool) প্রায়ই শক্ত এবং ত্যাগ করা কষ্টকর হলে সম্ভবত তার কোষ্ঠকাঠিন্য আছে। তার পায়খানা দেখতে ক্ষুদ্র দলার মত হতে পারে।

ময়লা প্যান্ট কোষ্ঠকাঠিন্যের আরেকটি লক্ষন হতে পারে, কারন পাতলা পায়খানা শক্ত পায়খানার চারপাশ গলে বেরি আসতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের বিভিন্ন কারন

অতিরিক্ত দুধ বা অতি অল্প আঁশজাতীয় খাবার খাওয়ানো কোষ্ঠকাঠিন্যের কারন হতে পারে। আপনার শিশু কোন কারনে দুশ্চিন্তা করলে বা উদ্বিগ্ন থাকলেও এমনটি হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে আপনার শিশুর পায়খানা করতে কষ্ট হতে পারে। এতে একটি দুষ্টচক্র তৈরি হয়ঃ তার পায়খানা করতে যত কষ্ট হয় তত বেশি সে তা চেপে রাখার চেষ্টা করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য আরও বেড়ে যায় এবং পায়খানা করতে আরও বেশি কষ্ট হয়। এমনকি পায়খানা করতে কষ্ট না হলেও, তার কোষ্ঠকাঠিন্য যদি খুব বেশি হয় তাহলে সে হয়ত বাথরুমেই যেতে চাইবে না।

কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা

কোন স্বাস্থ্যকর্মী বা ফার্মাসিস্টের কাছে উপযুক্ত কোন ল্যাকজেটিভ (laxative) এ সময়ে কাজে আবে কিনা তা জানতে চান। তারা অন্য কোন সমাধানের পথও বলে দিতে পারেন। যদি এতে দ্রুত সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

আপনার শিশু যত বেশি সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে তার তত বেশি কষ্ট হবে। আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মত চিকিৎসায় কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে কাজ না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকুন।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের উপায়

  • ডায়েট এবং ব্যায়াম

একবার প্রাথমিকভাবে সমস্যাটির সমাধান হয়ে গেলে, এটি যেন আর না হয় তার জন্য যা যা করতে হয় সব করুন। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশজাতীয় খাবার খাওয়ানো।

ফলমূল, শাকসবজি, চাপাটি, পূর্ণ দানার সিরিয়াল দিয়ে ব্রেকফাস্ট, বেক করা সিমের বিচি, হিমায়িত মটরশুঁটি দানা এবং ভুট্টা এসবগুলোই আঁশের খুব ভাল উৎস শিশুদের খুবই পছন্দের খাবার। এর সাথে সাথে তাদেরকে প্রচুর পরিমাণে তরল জিনিস খেতে হবে, তবে খুব বেশি দুধ বা ঘন ফলের রস (squash) খেতে দেবেন না, কারন এতে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। প্রচুর ব্যায়াম করলেও উপকার হতে পারে।

  • তাদের দুশ্চিন্তা কমানোর চেষ্টা করুন

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেও যদি কোন ফল না পাওয়া যায়, তাহলে তারা কোন কারনে মন খারাপ করে আছে নাকি তা জানার চেষ্টা করুন। যেমন ধরুন, সে হয়ত পটিতে বসতে ভয় পাচ্ছে। কারন যাই হোক না কেন তাদেরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করুন।

এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে টয়লেটে যাওয়ার সময় শিশুকে সাথে নিয়ে গেলে তাতে সাহায্য হতে পারে। এ ব্যাপারে যথাসম্ভব রিলাক্সড থাকার চেষ্টা করুন। যদি সমস্যাটি দূর না হয় তাহলে স্বাস্থ্যকর্মী বা ডাক্তারের সাথে আবার কথা বলুন।