শিশুদের বিভিন্ন সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা

ঠাণ্ডা বা সর্দি লাগা

একটি শিশুর বছরে আটবার বা তারও বেশি ঠাণ্ডা লাগাটা স্বাভাবিক। শত শত প্রকারের ঠাণ্ডার ভাইরাস রয়েছে, যখনি শিশু এইসব ভাইরাসের সংস্পর্শে আসে তার ঠাণ্ডা লাগে, এবং বাচ্চার ঠাণ্ডা না লাগলে তার দেহে এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরো্ধ ব্যবস্থা তৈরি হয় না। এই ভাইরাস গুলো দ্বারা আক্রান্ত হতে হতে, ধীরে ধীরে তাদের শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠে এবং ক্রমেই তাদের ঠাণ্ডা বা সর্দি লাগা কমে যায়।

বেশিরভাগ ঠাণ্ডা-সর্দিই ৫-৭ দিনের মধ্যে ভাল হয়ে যায়। এখানে ঠাণ্ডা লাগলে আপনার বাচ্চার কষ্ট কমানোর জন্য কী করতে পারেন সে ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দেয়া হলঃ

  • আপনার শিশুকে তরল জিনিস খাওয়ানোর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।
  • সর্দি শুকিয়ে নাক বন্ধ হয়ে গেলে তা পরিষ্কার করার জন্য স্যালাইন নাকের ড্রপ (Saline nose drop) ব্যবহার করতে পারেন।
  • বাচ্চার জ্বর ও ব্যাথা থাকলে প্যারাসিটামল (paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (ibuprofen) খাওয়ালে কাজ হতে পারে। শিশুদের জন্য এধরনের বিশেষ কিছু ওষুধ রয়েছে। বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদেরকে কী পরিমাণে খাওয়াতে হবে তা এগুলোর প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকবে।
  • পরিবারের সবাইকে নিয়মিত হাত ধুতে উৎসাহিত করুন যেন ঠাণ্ডা লাগা ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
  • ন্যাজাল ডিকঞ্জেস্ট্যান্টস (Nasal decongestants)-এর কারনে নাকের সর্দি শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যাটি আরও বেড়ে যেতে পারে। কখনোই এগুলো একটানা ২-৩ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।

কানে সংক্রমণ হওয়া (Ear infections)

প্রায়ই ছোট বাচ্চাদের কানে সংক্রমণ হতে দেখা যায়। এ থেকে অনেক সময় ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে এবং জ্বরও হতে পারে। শিশুদেরকে অনেক সময় কান নিয়ে টানাটানি বা কান ডলতে দেখা যায় কিন্তু কোথায় ব্যাথা হচ্ছে তা সেটা বলতে পারে না। এসময় তারা অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে আছে বলে মনে হতে পারে এবং কান্নাকাটি করতে পারে।

যদি বাচ্চার শুধু কান ব্যাথা করে এবং অন্য কোন অসুবিধা না হয় তাহলে তাকে ১২-২৪ ঘণ্টা প্যারাসিটামল (paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (ibuprofen) খাওয়ান। যদি আপনার ডাক্তার না বলেন তাহলে কানে কোন ধরনের তেল, কানের ড্রপ বা কটন বাড দিবেন না। বেশিরভাগ কানের ইনফেকশনই যেসব ভাইরাসের কারনে হয়, সেগুলোর চিকিৎসা অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে করা যায় না। এগুলো নিজে নিজেই ভাল হয়ে যাবে।

কানে সংক্রমণ হলে দুই থেকে ছয় সপ্তাহ আপনার শিশু কানে ঠিক মত নাও শুনতে পারে। যদি এরপরও সমস্যাটি না যায় তাহলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

গ্লু ইয়ার (Glue ear)

মধ্যকর্ণ বা ওটাইটিস মিডিয়ায় (otitis media) বার বার সংক্রমণ হলে তা থেকে গ্লু ইয়ার (ওটিটিস মিডিয়ার নিঃসরণ অনেক বেড়ে যাওয়া) হতে পারে, যার ফলে কানে আঠালো একধরনের তরল জমে যায়। যার থেকে আপনার শিশুর কানে শোনার সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ থেকে কথা বলার বিভিন্ন সমস্যা এবং আচরণগত সমস্যাও হতে পারে।

আপনি ধূমপান করলে আপনার শিশুর গ্লু ইয়ার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে এবং তা ভাল হতে স্বাভাবিকের চাইতে বেশি সময় লাগবে। গ্লু ইয়ারের চিকিৎসার ব্যাপারে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

গলা ব্যাথা (Sore throats)

ভাইরাসজনিত অসুখ যেমন ঠাণ্ডা বা সর্দির কারনে গলা ব্যাথা করতে পারে। ঠাণ্ডা লাগার আগে আপনার বাচ্চার গলা এক-দুই দিন ধরে শুকিয়ে থাকতে পারে বা ব্যাথা করতে পারে। ব্যাথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল (paracetamol) বা আইবুপ্রোফেন (ibuprofen) খেতে দিতে পারেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গলা ব্যাথা কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়। যদি আপনার শিশুর গলা ব্যাথা চার দিনের বেশি থাকে, শরীর অনেক বেশি গরম থাকে এবং প্রায়ই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে, বা তরল কিছু গিলতে না পারে তাহলে ডাক্তার দেখান।

কাশি

ঠাণ্ডা লাগলে কণ্ঠনালীর গা বেয়ে শ্লেষ্মা নামার কারনে অনেক সময় আপনার শিশু কাশে। আপনার বাচ্চার খেতে, পান করতে এবং নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা না হলে এবং শোঁ শোঁ আওয়াজ না করলে কাশি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

আপনার শিশুর কাশি যদি খুব বেশি হয় এবং ভাল হতে না চায় তাহলে ডাক্তার দেখান। আপনার শিশুর গায়ের তাপমাত্রা অনেক বেশি হলে এবং হাঁসফাঁস করলে, তার বুকে ইনফেকশন (chest infection) হয়েছে বলে সন্দেহ করতে হবে। যদি ভাইরাস না হয়ে কোন ব্যাকটেরিয়ার কারনে এটি হয়ে থাকে তাহলে ডাক্তার ইফেকশনটি ভাল করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। অ্যান্টিবায়োটিক দেয়ার সাথে সাথে অবশ্য কাশি বন্ধ হবে না।

কাশি অনেক বেশি দিন ধরে থাকলে, এবং তা যদি রাত্রে বেড়ে যায় বা দৌড়লে যদি সে কাশতে শুরু করে তাহলে হয়ত তার হাঁপানি (asthma) হয়েছে। হাঁপানির কারনে অনেক শিশু নিঃশ্বাস নেয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ করে বা হাঁসফাঁশ করে। আপনার শিশুর এরকম কোন লক্ষন দেখা দিলে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। যদি আপনার শিশুর নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন, এমনকি তা মাঝরাতে হলেও।

আপনার শিশুকে কাশতে শুনে আপানার মন খারাপ হতে পারে, তবে কাশলে বুকের এবং কণ্ঠনালীর গায়ে জমে থাকা শ্লেষ্মা পরিষ্কার হয়। আপনার শিশুর বয়স এক বছরের বেশি হলে লেবু আর মধু দিয়ে তৈরি অল্প গরম পানীয় খাইয়ে দেখতে পারেন।

আরও তথ্য

বাচ্চার জ্বর অনেক বেশি হলে কি করবেন