অনকোলজি মুখের ক্যান্সার

মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা

মুখের ক্যান্সার একটি বিশেষ ধরনের ক্যান্সার। তাই পরীক্ষায় যদি আপনার মুখের ক্যান্সার ধরা পড়ে, তাহলে আপনাকে বিশেষায়িত ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র বা ক্লিনিকে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য বলা হবে। এজন্য আপনার রাজধানী বা বড় শহরে যাবার প্রয়োজন হতে পারে।

সেবাপ্রদানকারী দল

বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র বা ক্লিনিকগুলোতে মুখের ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম (এমডিটি) থাকে। একটি এমডিটি টিম নিম্নোক্ত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি হয়ঃ

  • একজন সার্জন (শল্য চিকিৎসক)
  • একজন ক্লিনিক্যাল ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (অপারেশন বিহীন ক্যান্সারের চিকিৎসা, যেমন রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি বিশেষজ্ঞ)
  • একজন প্যাথোলোজিস্ট (রোগাক্রান্ত টিস্যু বিশেষজ্ঞ), যিনি সমস্যা চিহ্নিত করবেন
  • একজন রেডিওলোজিস্ট (রেডিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ)
  • একজন ডেন্টিস্ট (দন্ত চিকিৎসক)
  • একজন পুষ্টিবিদ যিনি রোগীর খাদ্য নির্বাচনের প্রতি খেয়াল রাখবেন
  • একজন সাইকোলোজিস্ট
  • একজন ফিজিওথেরাপিস্ট, যিনি কথা বলার স্বাভাবিক ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে রোগীকে সাহায্য করবেন

চিকিৎসা পদ্ধতি

শরীরে ক্যান্সার কতটুকু ছড়িয়ে পড়েছে তার উপর নির্ভর করে আপনার চিকিৎসা পদ্ধতি পরিকল্পনা করা হবে।

যদি ক্যান্সার মুখ বা ওরোফ্যারিংক্স (মুখের পিছনে গলার অংশ) অতিক্রম করে বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে, তাহলে সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সমন্বিত চিকিৎসায় ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা সম্ভব। যদি ক্যান্সার শরীরে অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে নিরাময়ের সম্ভাবনা কম। তবে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার হার কমানো সম্ভব হতে পারে এবং সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মাধ্যমে উপসর্গ কমানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আপনাকে কোন চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হতে পারে। ক্লিনিক্যাল ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ আপনাকে পরামর্শ দিতে পারবেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপনাকেই নিতে হবে।

চিকিৎসা পরিকল্পনা আলোচনা করার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পূর্বে আপনি বিশেষজ্ঞকে জিজ্ঞাসা করতে চান এমন প্রশ্নগুলো তালিকা করে নিলে উপকার পাবেন। যেমন, কোনো বিশেষ চিকিৎসা গ্রহণের উপকারিতা ও অপকারিতা কী কী হবে প্রভৃতি প্রশ্ন হতে পারে।

চিকিৎসা গ্রহণ শুরুর পূর্বে করণীয়

মুখের ক্যান্সারের চিকিৎসা গ্রহণের পূর্বে সম্পূর্ণ দাঁতের পরীক্ষা করানোর জন্য বলা হবে এবং প্রয়োজন হলে দন্ত চিকিৎসা প্রদান করা হবে। রেডিওথেরাপি প্রদানে আপনার দাঁত আরো সংবেদনশীল ও সংক্রমণপ্রবণ হতে পারে, তাই চিকিৎসা গ্রহণের পূর্বে আপনার দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো অবস্থায় যেন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা উচিৎ। যদি আপনি ধূমপান ও মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে থাকেন, তাহলে এই অভ্যাস ত্যাগ করার পরামর্শ দেয়া হবে কেননা এই অভ্যাস ত্যাগ করলে চিকিৎসা গ্রহণে সফলতার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। যদি ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার আপনাকে সাহায্য ও সহায়তা প্রদান করতে পারবেন।

আরো জানতে ধূমপান ও মদ্যপানের অভ্যাস ত্যাগ সম্পর্কে পড়ুন।

সার্জারি

মুখের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসার উদ্দেশ্য থাকে যে যেকোন আক্রান্ত টিস্যুকে অপসারণ করা যাতে মুখের বাকি অংশে ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়।

ফটোডায়নামিক থেরাপি (পিডিটি)

যদি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে, তাহলে ফটোডায়নামিক থেরাপি (পিডিটি) নামক এক ধরণের লেজার সার্জারি দ্বারা যেকোন টিউমার অপসারণ সম্ভব হতে পারে। এই ধরণের সার্জারিতে এক ধরণের ঔষধ গ্রহণ করতে হয় যা আপনার টিস্যুকে আলোর প্রভাবে সংবেদনশীল করে তুলবে। তখন এক ধরণের লেজার ব্যবহার করে টিউমারটি অপসারণ করা হয়। বর্তমানে ঢাকাতে লেজার সার্জারি প্রচলিত রয়েছে এবং একটি ভালো বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। মনে রাখবেন যে এটি খুবই সূক্ষ্ম পদ্ধতি এবং সকল লেজার সার্জনের পক্ষে কিন্তু এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান সম্ভব না।

সার্জারির অন্যান্য ধরণ

যদি আপনার ক্যান্সার আরো উন্নত পর্যায়ে থাকে, তাহলে আপনার মুখের আবরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুখের ত্বক অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। অপসারণকৃত ত্বক ফ্ল্যাপ পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপিত করা যায়। ফ্ল্যাপ পদ্ধতিতে হাত বা বুক থেকে ত্বক সংগ্রহ করা হয় এবং পরে তা আক্রান্ত স্থানে সংযোজিত করে দেয়া হয়।

যদি আপনার জিহ্বা আক্রান্ত হয়ে থাকে, তবে জিহ্বার কিছু অংশ অপসারণ করে হবে। এই পদ্ধতিকে আংশিক গ্লোসেকটোমি বলে। জিহ্বাকে পরবর্তীতে গ্রাফটেড টিস্যু দ্বারা পুনর্নির্মিত করা হয়।

যদি ক্যান্সার চোয়ালের হাড়ে ছড়িয়ে যায়, সেক্ষেত্রে তা অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করতে হবে। শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে সংগ্রহকৃত হাড় দ্বারা চোয়ালের হাড় প্রতিস্থাপিত করা যায় এবং আক্রান্ত স্থানে সংযোজিত করে দেয়া যায়।

ক্যান্সার সম্পূর্ণরূপে দূর করার জন্য কখনো কখনো অন্যান্য হাড়, যেমন, গালের হাড় অপসারণের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এই জাতীয় হাড়গুলো প্রসথেটিক্স পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন করা যায়। প্রসথেটিক্স পদ্ধতি হলো প্লাস্টিকের ছাঁচ দ্বারা অপসারণকৃত কোনো হাড়ের আকৃতি, প্রতিকৃতি বা প্রতিলিপি নির্মাণ করার পদ্ধতি। আধুনিক প্রসথেটিক্স সাধারণত অবিকল একই রকম হয়ে থাকে। যদিও এই প্রসথেটিক্স শরীরের সাথে অভ্যস্ত হতে সময়ের প্রয়োজন, তবে এতে আপনার শারীরিক আকার কোন ভাবেই পরিবর্তন হবে না। এই পদ্ধতি খুবই উন্নত এবং এই সার্জারিটি করানোর জন্য একজন বিশেষজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জনের পাশাপাশি আপনার ইএনটি সার্জনের উপস্থিত থাকা বাঞ্ছনীয়।

সার্জারি চলাকালে, প্রাথমিক টিউমারের পার্শ্ববর্তী লসিকা গ্রন্থি সার্জন অপসারণ করতে পারেন। এই লসিকা গ্রন্থি অপসারণ নেক ডিসেকশন নামে পরিচিত। নেক ডিসেকশন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে, কেননা লসিকাগ্রন্থিতে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ অল্প পরিমাণ থেকে যেতে পারে যা পরীক্ষাতে দৃষ্টিগোচর নাও হতে পারে।

রেডিওথেরাপি

রেডিওথেরাপি পদ্ধতিতে রেডিয়েশন বা রঞ্জনরশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সারযুক্ত কোষ অপসারণ করা হয়। শুধুমাত্র রেডিওথেরাপি ব্যবহার করে ক্যান্সার অপসারণ করা সম্ভব হতে পারে, তবে সাধারণত ক্যান্সার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেজন্যে সার্জারির পরপরই রেডিওথেরাপি ব্যবহার করা হয়।

ক্যান্সারের আকার ও কতটুকু ছড়িয়ে পড়েছে তার উপর নির্ভর করে ৩ থেকে ৭ সপ্তাহ ব্যাপি কোর্সে প্রত্যহ রেডিওথেরাপি প্রদান করা হয়।

ক্যান্সারযুক্ত কোষ ধ্বংসের পাশাপাশি রেডিওথেরাপি স্বাস্থ্যগত অনেক জটিলতায় সৃষ্টি করে এবং এর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। সেগুলো হলঃ

  • কালশিটে, লাল চামড়া (রোদে পোড়ার মত)
  • মুখের ঘা
  • মুখ ও গলায় ঘা
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • স্বাদ বা রুচিতে পরিবর্তন বা নষ্ট হয়ে যাওয়া
  • ক্ষুধামন্দা
  • অসুস্থ বোধ হওয়া
  • চোয়াল শক্ত হয়ে যাওয়া

যেকোন ধরণের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আপনার সেবাপ্রদানকারী দল পরীক্ষা করে দেখবেন এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা প্রদান করবেন।

অভ্যন্তরীণ রেডিওথেরাপি (ইন্টারনাল রেডিওথেরাপি)

জিহ্বার ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলে সেক্ষেত্রে যে ধরণের রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করা হয় তা হলো ইন্টারনাল রেডিওথেরাপি। এ পদ্ধতিতে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ করে অর্থাৎ পুরোপুরি অজ্ঞান করে, জিহ্বার আক্রান্ত অংশে সূই বা তাঁর ঢুকিয়ে তার মধ্য দিয়ে সরাসরি টিউমারে তেজস্ক্রিয়তা প্রয়োগ করা হয়।

এই ধরনের রেডিওথেরাপি গ্রহনকালে আপনাকে হাসপাতালে একটি পৃথক কক্ষে রাখা হবে। প্রদানকৃত রেডিওথেরাপির মাত্রা সাধারনত নিরাপদ হয় এবং সেই সময়ে চিকিৎসার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিরাই স্বল্প সময়ের জন্য আপনার কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন। কেননা তারা প্রতিদিন তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে কাজ করে থাকেন, তাই সতর্কতা হিসেবে তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শে কম আসা প্রয়োজন।

ঝুঁকি হ্রাসের জন্য বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে দেখা করার ক্ষেত্রেও বাধা নিষেধ প্রয়োগ করা হয়। শিশু ও গর্ভবতী মহিলা আপনার সাথে দেখা করতে পারবেন না।

এই চিকিৎসা অধিকাংশে ক্ষেত্রে ১-৮ দিন ব্যাপী হয়ে থাকে।

স্থাপিত তেজস্ক্রিয় ইমপ্ল্যান্টগুলোর কারণে আপনার মুখ ফুলে যেতে পারে এবং এগুলো অপসারনের ৫-১০ দিন পর্যন্ত মুখে ব্যথা থাকতে পারে। তবে এই ব্যাথা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কমে যাবে। এই সময়ে আপনি ঠান্ডা, নরম ও হালকা খাবার খেতে আরাম বোধ করবেন। তখন মদ্যপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।

এই চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো বাংলাদেশে প্রদান করা হয় না। আরো তথ্যের জন্য আপনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালাইড সায়েন্সেস, যা বিএসএমএমইউ (BSMMU)-এ অবস্থিত, সেখানে যোগাযোগ করতে পারেন।

কেমোথেরাপি

ক্যান্সার যখন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে অথবা চিকিৎসা গ্রহণের পর পুনরাবৃত্তি হওয়ার উচ্চ সম্ভাবনা থাকে, তখন রেডিওথেরাপির সাথে কেমোথেরাপি প্রদান করা হয়ে থাকে। কেমোথেরাপি চিকিৎসায় ক্যান্সার বিনাশকারী শক্তিশালি ঔষধ ব্যবহার করা হয়। এই ঔষধগুলো ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলোর ডিএনএ ধ্বংস করে সংখ্যাবৃদ্ধি করতে বাধা দান করে।

কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত ঔষধ সমূহে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত টিস্যুর পাশাপাশি সুস্থ টিস্যু ধ্বংস করে দেয়। জটিল পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলো হল-

  • মুখে ঘা হওয়া
  • মুখের আলসার
  • অসুস্থ বোধ করা
  • অসুস্থ হওয়া
  • চুল পড়া
  • ক্লান্তি বোধ

ওষুধ নেয়া শেষ হলেই পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া কমে যাওয়া উচিত।

কেমোথেরাপি গ্রহণে ইমিউন সিস্টেম অর্থাৎ দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তাতে আপনি সহজেই সংক্রমিত হতে পারেন।

সেটুক্সিমাব

মুখের ক্যান্সারের অগ্রবর্তী পর্যায়ে প্রয়োগকৃত নতুন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির নাম সেটুক্সিমাব। রেডিওথেরাপি অথবা কেমোথেরাপিস সাথে সংযুক্তে করে এ চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

সেটুক্সিমাব হলো মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি। ক্যান্সার আক্রান্ত কোষগুলো সরাসরি খুঁজে বের করা এবং ধ্বংস করে দেয়ার জন্য মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি তৈরি করা হয়। সেজন্য কখনো কখনো মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি থেরাপিকে টারগেটেড থেরাপি বা লক্ষ্যভেদ থেরাপি বলে আখ্যায়িত করা হয়।

ক্যান্সার কোষে উপস্থিত বিশেষ প্রোটিনসমূহকে সেটুক্সিমাব খুঁজে বের করে। এই প্রোটিনসমূহ এপিডার্মাল গ্রোথ ফ্যাক্টর রিসেপ্টর নামে পরিচিত এবং এগুলো ক্যান্সারকে বাড়তে সাহায্য করে। তাই এই প্রোটিনগুলোকে নিশানা করার মাধ্যমে সেটুক্সিমাব ক্যান্সার ছড়িয়ে পরা ব্যাহত করে।

রোগীর নিম্নোক্ত অবস্থার উপর নির্ভর করে সেটুক্সিমাব প্রয়োগ করা হয় :

  • রোগীর স্বাস্থ্যগত অবস্থা ভালো হলে (অর্থাৎ চিকিৎসা গ্রহণে উপশমের সম্ভাবনা থাকলে)
  • চিকিৎসা বা রোগ জনিত কারণে কেমোথেরাপি গ্রহণে অক্ষম হলে (যেমন কিডনির রোগ কিংবা গর্ভবতী হলে)

সেটুক্সিমাব ব্যয়বহুল ঔষধ তাই প্রয়োজন হলে তা গ্রহণের জন্য ডাক্তার পরামর্শ দিতে পারেন।এটি কম মাত্রায় ব্যবহার করা হলে তা ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ায় বাধা দান করবে এবং উচ্চ মাত্রায় ব্যবহৃত হলে নিরাময় করবে।

সেটুক্সিমাব আমাদের দেশে এখনও প্রস্তুত করা হয় না, বিদেশে থেকে আমদানী করতে হয়। যদি ডাক্তার এটি ব্যবহারের প্রয়োজনিয়তা বোধ করেন তবে কয়েকটি প্রতিষ্টান সেটুক্সিমাব সংগ্রহে আপনাকে সাহায্যে করতে পারবে। সেটুক্সিমাব শিরায় ড্রিপ বা ফোঁটের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়, যা কয়েকঘন্টার মধ্যে আক্রান্ত স্থান গুলোতে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে আরো ডোজ প্রদান করা হয় এবং এজন্যে শুধুমাত্র ১ ঘন্টা সময় লাগে।

সেটুক্সিমাব সৃষ্ট পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার মাত্রা সাধারণত কম হয়ে থাকে। সৃষ্ট পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলো হল:

  • ত্বকে র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি সৃষ্টি হওয়া
  • অসুস্থবোধ হওয়া
  • ডায়রিয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • কনজাইটিভিটিস (চোখের প্রদাহ)

কোনো কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেটুক্সিমাব অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে যেমন জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া জটিল ও জীবনঘাতী হতে পারে, এই প্রতিক্রিয়াকে ইনফিউশন প্রতিক্রিয়া বলে। সেটুক্সিমাব গ্রহণকারী ৩০ জন ব্যক্তির মধ্যে ১ জন ব্যক্তি এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার শিকার হোন।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রথমবার সেটুক্সিমাব গ্রহণের ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইনফিউশন প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হতে দেখা যায়। তাই চিকিৎসা প্রদনে শুরু হওয়ার পর আপনাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। যদি এ ধরণের প্রতিক্রিয়ার লক্ষনসমূহ প্রকাশিত হয়, তাহলে তা উপশমের জন্য অ্যালার্জীর ঔষধ প্রদান করা হয়।

এ ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দরুণ সেটুক্সিমাব গ্রহণে মৃত্যু হওয়া খুবই বিরল। ১০০০ কেসের মধ্যে একটিরও কম ক্ষেত্রে এরকম হয়ে থাকে।

About the author

Maya Apa Expert Team