ক্যান্সার-রোধী পরিবেশ

শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ক্যান্সারের সংখ্যা বাড়ছে এবং নির্দিষ্টভাবে এই সংখ্যা তরুনদের মধ্যে লক্ষণীয়। প্রায়ই এটা নিয়ে বিতর্ক হয় যে, তিনটি বিষয়ের কারণে ক্যান্সারের হার বাড়ছেঃ

ক) আমরা আগের সময়ের চেয়ে বেশি বেঁচে থাকছি, এর মানে হলো বৃ্দ্ধ বয়সে ক্যান্সার আক্রমণের জন্য সুযোগ বেশি পাচ্ছে।

খ) মহিলারা দেরীতে সন্তান নিচ্ছেন, যা স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়।

গ) এখন উন্নত স্ক্রীনিং পদ্ধতি আছে, এর মানে হলো আগের চেয়ে আরও বেশি করে ক্যান্সার ধরা পড়ছে, প্রকৃত হার হয়তো আগের মতই আছে।

যদিও উপরের বিতর্কগুলো অনেকাংশে সত্যি, তবে নির্দিষ্ট কিছু পরিসংখ্যান বলছে, এই তিনটি বিষয় সবকিছুকে আড়াল করে না। উদাহরণস্বরূপঃ গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার কারনে বেশি বয়সে ক্যান্সার হওয়ার বেশি সুযোগ থাকছে, এই তত্ত্ব অল্প বয়সী বা শিশুদের মধ্যে ক্যান্সারের বিস্তারকে সমর্থন করে না। মহিলাদের দেরীতে সন্তান নেওয়ার বিষয়টির হয়তো স্তন ক্যান্সারের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রভাব থাকতে পারে, কিন্তু এটি আমেরিকায় ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে প্রস্টেট ক্যান্সারের ঘটনার ২০০% বৃ্দ্ধিকে ব্যাখ্যা করে না, বা একই সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ২৫৮% বৃ্দ্ধিকেও না। পরিশেষে, উন্নত স্ক্রীনিং পদ্ধতি আরও বেশি কেস যা শুরুতে ধরা পড়েছে তা সমর্থন করে, তবে যেসব ক্যান্সারের নিয়মমাফিক স্ক্রিনিং হয়না (যেমন অগ্ন্যাশয়, ফুসফুস,মস্তিষ্ক ও লিম্ফোমা) তাদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে সমর্থন করে না। সারা পৃথিবী জুড়ে ক্যান্সার বৃদ্ধির ঘটনা পরিবেশের পরিবর্তনের ফল – এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে পরিবেশের পরিবর্তন বা বৈশ্বিক উষ্ণতা সরাসরি ক্যান্সার বৃদ্ধির জন্য দায়ী না হলেও, এর থেকে মানুষের স্বভাবে যে পরিবর্তন এসেছে তা ক্যান্সার বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখছে। বিশ্ব সাস্হ্য সংস্হা্র মহা পরিচালক একবার বক্তব্য এভাবে শেষ করেছিলেনঃ “৮০% পর্যন্ত ক্যান্সার বাহ্যিক বিষয়াবলী যেমন জীবনযাত্রা ও পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হতে পারে”।

সুতরাং, ক্যান্সারের ঘটনার সংখ্যাবৃ্দ্ধির প্রকৃ্ত কারনগুলো এরকমঃ

আমাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিশোধিত চিনির পরিমান উল্লেখযোগ্য পরিমানে বেড়ে গেছে। আমাদের জিনগুলো এরকম পরিবেশে বিকষিত হয়, যেখানে একজন ব্যক্তি বছরে সর্বাধিক ২ কেজি মধু ব্যবহার করে। ১৮৩০ সালে মানুষের পরিশোধিত চিনির ব্যবহারের পরিমান বেড়ে দাঁড়িয়ে ছিলো ৫ কেজিতে, এবং উদ্বেগজনক ভাবে বিংশ শতাব্দীর শেষে এসে তা দাড়িয়েছে বছরে ৭০ কেজি।

চাষাবাদে এবং পশু পালনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে এবং এর ফলে আমাদের খাদ্যেও – কৃ্ষকেরা তাদের গবাদি পশুদের খাওয়ানোর পদ্ধতি পরিবর্তন করেছেন। কৃষিকর্ম প্রথাগত উন্মুক্ত ভুমি বা খেত থেকে সহজতর ঘরোয়া খামারে স্হা্নান্তরিত হয়েছে। প্রাকৃতিক খাবারের পরিবর্তে খামারের পশুদের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ানোর কারনে তাদের থেকে প্রাপ্ত খাবারে যেমন, মাংস, দুধ, মাখন, ডিম ইত্যাদিতে থাকা ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ এর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে মানুষের শরীরে।

নতুন নতুন অনেক রাসায়নিক দ্রব্যের উদ্ভব হয়েছে যেগুলো প্রথম দিকে ছিলো না – ১৯৩০ সাল থেকে বর্তমানে কৃ্ত্রিম রসায়নিক দ্রব্যের বার্ষিক উৎপাদন ১০ লক্ষ টন থেকে বেড়ে ২০০ লক্ষ টনে দাড়িয়েছে।

সুতরাং, পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কে আমরা কি করতে পারি?

নিজস্ব সাবধানতা অবলম্বন করার ক্ষমতা আমাদের সবার আছে। আমরা কি ব্যবহার করতে চাই তা আমরা নিজেরাই নির্ধারন করতে পারি। আপনি কি খাচ্ছেন, তার মধ্য দিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা শুরু করতে পারেন। নির্দিষ্ট কিছু খাদ্য ক্যান্সার সহায়ক, আমরা সে গুলো বাদ দিয়ে তাদের বিকল্প খুজে নিতে পারি। নিচের তালিকার দিকে লক্ষ্য করুনঃ